শনিবার হ্যালোইন
বাঙালী প্রতিবেদনঃ ৩১ অক্টোবর শনিবার আমেরিকায় পালিত হবে হ্যালোইন ডে বা অল হ্যালোস ইভিনিং। এই সন্ধ্যায় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে স্মরণ করা হয় মৃতদের। এমন কি শহীদদের আত্মাকেও। এই হ্যালোইন পালনের ইতিহাস নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। তবে অনেকেই স্বীকার করে নিয়েছেন, এই দিনের উৎস খৃস্টান ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত।উৎস যাই হোক, আমেরিকায় এখন হ্যালোইন পালিত হয় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই বাড়ির সামনের ইয়ার্ড বা দরোজা—জানালা নানান ভৌতিক মোটিফ বা উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়। যেমন ভুত—পেত্নির কল্পিত চেহারা তৈরি করে ভয়ার্ত পরিবেশ রচনা করা হয়। সম্প্রতিকালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাতে সাউন্ড ইফেক্টও ইন্সটল করা হয়।
হ্যালোইনের দিনে, জনপ্রিয় কস্টু্যম পরে ছেলেমেয়েরা বেরিয়ে পড়ে বড়দের সাথে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা দোকানে গিয়ে নক করে তারা ট্রিক অর ট্রিটে অংশ নেয়। তারা উপহার হিসাবে পায় ক্যান্ডি। কখনো কখনো অর্থও পায়।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটির এডমিনিস্ট্রেশন ফর টিলড্রেন’স সার্ভিসেস ও আমেরিকান রেডক্রস এই দিন শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি সেফটি টিপস দিয়েছে। কারণ এই দিন মুখোশ পরে চেহারা ঢেকে বাইরে বের হওয়ায় কোনো বাধা না থাকায় দুবৃর্ত্তরা তার সুযোগ গ্রহণ করতে পিছপা হয় না। এসিএস অভিভাবকদের জানিয়েছে, তারা যেন শিশুদের একা একা বাইরে না যেতে দিয়ে তাদের সাথে থাকে। অপরিচিত কেউ মুখোশ পরে কাছাকাছি এলে, কিংবা বক্স আইটেম দিলে যেন না গ্রহণ করে। যদি অচেনা কেউ নিজের থেকে ক্যান্ডি দিতে চায়, তা যেন না নেয়, নিলেও যেন না খায়।
যেহেতু এখন তাড়াতাড়ি অন্ধকার নেমে আসে, তাই ছেলেমেয়েদের হাতে মা—বাবা যেন ফ্লাশলাইট দেন। তারা যেন ডার্ক রঙের কস্টু্যম না পরে, যেন হালকা রঙের কস্টু্যম পরে। ছেলেমেয়েদের কস্টু্যমে যেন রিফ্লেকটিভ টেপ লাগানো হয়, যাতে গাড়ির হেডলাইটে তাদের দেখা যায়। কস্টু্যম যেন আগুন নিরোধক হয়, মুখোশ যেন তাদের দৃষ্টিকে ঢেকে না দেয়। ছোট ছেলেমেয়েরা যেন সবসময় সাইড ওয়াকে হাঁটে, রাস্তা পার হওয়ার সময় ওয়াক সাইনে যেন হাঁটে এবং ডানে—বামে দেখে নেয়। তারা যেন পার্ক করা দুটি গাড়ির মাঝ দিয়ে চলাচল না করে।
হ্যালোইনের সন্ধ্যায় গাড়ি চালানোয় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
৩১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় ডাউনটাউন ম্যানহ্যাটানের ওয়স্টেভিলেজে হবে হ্যালোইন ডে প্যারেড। এই প্যারেডে গ্রান্ডমার্শাল থাকবেন জোয়ি এরিয়াস।
