সব দোষ কিন্তু ভাতের নয়?
ডা. সজল আশফাক: ভাত খাওয়াকে অনেকে খুবই নিচু করে দেখেন। যারা নিয়মিত ভাত খান তাদেরকে দুর্বল, আনস্মার্ট প্রমাণের জন্য অনেকে তাচ্ছিল্য করে বলেনÑ ভেতো বাঙালি। তার ওপর ডাক্তার সাহেবরা কথায় কথায় ‘ভাত বন্ধ’ বলার কারণে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে ভাত নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ভাত খারাপ খাবারÑএ কথা ঠিক নয়। ভাত নিয়ে বেশি ঝামেলায় আছেন ডায়াবেটিসের রোগীরা। ভাতে শর্করা আছে, তাই ডায়াবেটিস থাকলে কতটুকু খাচ্ছেন, তা দেখা দরকার। তবে মিষ্টি চা, কোমল পানীয় আর মিষ্টি সিরিয়ালের কথাও ভাবতে হবে, শুধু ভাতকে দোষ দিলে হবে না।
গোটা গমের আটার রুটিতে সাদা ভাতের চেয়ে ফাইবার বেশি থাকতে পারে। কিন্তু রুটি সব সময় ভাতের চেয়ে ভালোÑএমন নয়। ভাত বা রুটি কতটুকু খাচ্ছেন, কোন ধরনের, আর সঙ্গে কী খাচ্ছেনÑএসবও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট কিছু গবেষণায় ভাত—রুটির পর রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়ায় ভাত ভয়ংকরভাবে সুগার বাড়ায় একরকম তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাত—ব্যথা? সেখানেও ভাতের দিতে আঙুল। ভাত খেলে নাকি শরীরে পানি জমে, পা ফোলে, বাতের ব্যথা বাড়ে। ভাত খেলেই হাঁটু ব্যথা বা আর্থরাইটিস হয়Ñএমন প্রমাণ নেই।
জ্বর হলে ভাত খাওয়া বারণ, এটা অনেক পুরনো ভুল ধারণা। ঠান্ডা ভাত নিয়েও আছে ভুল ধারণা।
এগুলোর কোনটাই ঠিক নয়।
রান্না করা ভাত ঠান্ডা করে আবার গরম করলে কিছু ক্ষেত্রে শর্করা কম বাড়তে পারে, তবে গবেষণার ফল মিশ্র।
কথা হলো, ভাতকে একা দোষ না দিয়ে পুরো খাবার, পরিমাণ আর নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভাবুন। ঠান্ডা ভাত খেতে চাইলে রান্নার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখুন এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করুন। তাতে ক্ষতি নেই বরং সুগারের মাত্রা ঠিক গরম ভাতের মত না বাড়ার কারণে কিছুটা উপকারই পাবেন।
