অপরাহ্ণ সুসমিতো’র কবিতা

এ কবিতার কোনো নাম হতে পারে না

পরদিন ক্লাস থেকে বেরুতেই দেখি হাওয়ায় তোমার আঁচল উড়ছে চঞ্চল। মেঘেদের বাড়ি থেকে তুমি হেঁটে এলে পাহাড়ের সানুতলে। তুমি ক্লাস করছ না। কর্মবিরতির প্রভা তোমার নন্দন কাননে।


তোমার পায়ের পাতা ভেজা কেন সই? 

খালি পায়ে হাঁটছো কেনো তুমি?

বৃষ্টিগুলো ডাকাত হয়ে ভেজালো বুঝি! চোখের পাতায় এত কদমের রেণু মাখো, আমি ভাবি আজ এ মেঘের অঞ্চল তুমি নিপুণ আঁকো। 


আমি কি তবে এই জনপদে একাকী ইবনে বতুতা? নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক? সব বোঝ, আর নিরিবিলি বর্ষণ বোঝো না? ইনতেরিম নিষ্ঠুর বল্লম নিয়ে কোন কোন দেশে তোমার আক্রমণ বলো তো?



ট্রেন থেকে বাতাসে উড্ডীন পতাকার মতো তোমার অন্তঃনীল পতাকা ভেসে বেড়ায়, আমি উবু হয়ে তোমাকে ডাকি, পৃথক রাজ্যের মতো তুমি বনে চলে যাও। 


আমি ডাকি আর ডাকি। ডাক কান্নায় দ্রুতগামী ঢালু ব্রিজ বেয়ে নেমে যায় শালিকের মতো একা। আমি রাজা মাইডাসের মতো তৃষ্ণার্ত ডাকি;


আমার ইচ্ছা করে, জমানো মনের কথা কই। 


হাসপাতালে সারি সারি মানুষ শুয়ে থাকে, কমলাপুর শিশুর মতো। আমার মতো তীব্র বেদনায় চিৎকার করে মা: ও আমার জবা কুসুম শিশু...ফিরে আয় ফিরে আয়। মধ্য রাত কেঁপে ওঠে আর্তনাদ করে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে। ধ্বসে পড়া বাড়ি থেকে হুমহুম করে ফিরে যায় মুক্তিযুদ্ধ, তুমুল শঙ্খ নিনাদ, আমাদের মেঘের কান্না। আজ তুমি কি আসিবে না? 


আজ কি তবে শুক্রবাসরীয় সেলফি?


আমাদের বাড়িতে আবারও নেমেছে রৌদ্র হানাহানি করতালি মেঘেদের পালক। আমি কান্না করি অক্ষমতার সবুজের করতলে। তিতির ডাকাডাকি করি যেমন ডাকাডাকি করে ফেরিওয়ালাকে একাকী চামেলী হাতে আবুল হাসান। 


ওলো সই ওলো সই, এসো অবাক ভিজে দেখি আমাদের মুক্তিযুগ্ধটা গেলো কই!



সে গুগলের মতো সর্বত্র

মিশরের একটা লাইব্রেরি’র খোঁজ করছিলাম চ্যাটজিপিটিতে, আমি ভুল করে তোমার নাম টাইপ করে ফেললাম, আলেকজান্দ্রিয়ার বইয়ের ঘ্রাণ নিয়ে তুমি আমার সামনে ক্যাটওয়াক করলে।


গটগট করে হেঁটে একটা কফিশপে ঢুকলে, তোমার ব্যাগভর্তি রাষ্ট্র, তোমার চিবুকে দীর্ঘ অণুগল্প, তুমি রাষ্ট্রপতির মতো একা।


তুমি কী হে!


বাতাস পোকা তোমার চুলে খেলে উড়ে যায় প্রাচীন সভ্য পলেস্তারের মতো,

ব্যাগ থেকে কলম আর নোট বের করে বসে যাই আমার পড়ার সৌখিন টেবিলে

ডলফিন পোনার মতো চ্যাটজিপিটিতে ভেসে ওঠে আমার স্ক্রিনে তোমার বই মাখা নাম;

আমি তোমার নাম লিখে ফেলি।


দেখো আমি তোমার নাম লিখতে পারছি।


নোটপ্যাড ব্যাগে রাখতেই ব্যাগ তোমার নামের সাথে হ্যান্ডশেক করল

তোমার জিন্সের প্রশংসা করল, তোমাকে চিমটি দিতে চাইল

তুমি হা রে রে রে রে করে সরে দাঁড়ালে।


আমি হেসে দিতে তোমার নাম আমার দিকে কটমট করল। আমি তোমাকে, তোমার নামকে মুখস্থ করে ফেললাম।

বিকেলটা মুখ গোল করে বোতল থেকে এক ঢোক পানি খেলো। অসাবধানে এক ঝলক পানি পড়ে গেল তোমার জিন্সে..


চ্যাটজিপিটি ও আমি যুগপৎ দেখলাম তুমি খানিক ভেজা।


তোমার নামটা বই পড়তে চাইল না এ রকম রুমাল চোর বা চোর পুলিশ খেলার মতো সন্ধ্যায়।

নামটা স্ক্রিন, নোটপ্যাড থেকে টুপ করে লাফ দিয়ে আমার চোখের পাতায় এসে বসে রইল।


চোখের পাতা থেকে লাফ দিয়ে এবার নাকের ডগায় এসে বসো। চোখের পাতায় বসে থাকলে কি দেখা যায়?

Related Posts