‘ট্রাশ—ফ্রি সাইডওয়াক’ কর্মসূচীতে সেনিটেশন ডিপার্টমেন্টের || কমিশনার ও বরো প্রেসিডেন্ট হিলসাইডে
বাঙালী প্রতিবেদনঃ জ্যামাইকায় ক্রমবর্ধমান হারে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেড়ে চলায় এবং হিলসাইড এভেন্যুর দুই পাশে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হওয়ায় এই এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে চিন্তা করছেন নিবেদিতপ্রাণ কম্যুনিটি একটিভিস্ট, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং স্থানীয় কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার। তারই অনুরোধে জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির উদ্যোগে হিলসাইড এভেন্যু পরিদর্শনে আসেন কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস জুনিয়র, নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সেনিটেশন কমিশনার গ্রেগরি এন্ডারসন। তাদের সাথে আরো ছিলেন কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিসের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাদেক, স্থানীয় কম্যুনিটি বোর্ডের চেয়ারসহ বাংলাদেশী কম্যুনিটির নেতৃবৃন্দ।
হিলসাইড এভেন্যু ও ১৬৭ স্ট্রিটের কর্ণারে সাইডওয়াকে স্থাপিত নতুন ডিজাইনের আধুনিক গার্বেজ ক্যান প্রদর্শন করে কমিশনার এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেনিটেশন ডিপার্টমেন্টের প্রায় ২৫,০০০ গার্বেজ ক্যান রয়েছে পাঁচ বরোর সাইডওয়াকে। এর মধ্যে ৩৫০০ ক্যান হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ক্যানগুলো কারা নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। আমরা নতুন ধরনের বাস্কেট স্থাপন করছি। তবে সর্বত্রই এই বাস্কেট বা গার্বেজ ক্যান স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এ বছরের শেষে পাঁচ বরোর নির্দিষ্ট রাস্তার সাইড ওয়াকে বাস্কেট স্থাপন করা।
বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস বলেন, জ্যামাইকা এভেন্যুতে গার্বেজ ক্যান অনেক বড় ইস্যু। এই রাস্তাটির দিকেও নজর দিতে হবে। কমিশনার বলেন, আমরা সেখানেও কাজ করছি।
কমিশনার এন্ডারসন বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে যেসব স্পট থেকে বাস্কেট মিসিং সেখানে স্থাপন করা। তারপর অন্যান্য স্ট্রিটেও দেয়া হবে।
ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার হিলসাইড এভেন্যুর গার্বেজ পরিস্থিতি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি কমিশনার ও বরো প্রেসিডেন্টের সামনে সংক্ষেপে গুছিয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরে বলেন, আমিও এই এলাকার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আমি এই এলাকাতেই বাস করি। তাই এই এলাকার বিষয়টি আমার নখদর্পনে। তিনি বলেন, ডিপার্টমেন্ট অব সেনিটেশন এবং প্রাইভেট কোম্পানি যতবার গার্বেজ পিকআপ করে তার ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো দরকার।
কমিশনার এবং তার সহকারীরা জানান, হিলসাইড এভেন্যুতে প্রতিদিনই গার্বেজ পিকআপ করা হয়। তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যদি দেখেন গার্বেজ পিকআপ হচ্ছে না, তাহলে ৩১১ এ ফোন করে জানাতে পারেন। অবশ্য সেনিটেশন সুপারভাইজাররা ব্যস্ত রাস্তার কর্ণারগুলো নিয়মিত ভিজিট করেন।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার অভিযোগ করে বলে, আমরা দেখেছি অনেক নেবারহুডে সার্ভিস ভাল দেয়া হয়। কোনো কোনো নেবারহুড বঞ্চিত হয়। আপনারা দেখবেন সকল নেবারহুডকে যেন সমান চোখে দেখা হয়। তিনি বলেন, আমাদের বরো প্রেসিডেন্ট সব সময় ঘুরে ঘুরে এই বরোর সমস্যাসমূহ শনাক্ত করেন।
তিনি কমিশনার এন্ডারসনকে ধন্যবাদ জানান জ্যামাইকায় এসে তাদের সাথে দেখা করার জন্য।
তিনি কমিশনারকে মাঝে মাঝে পাওয়ার ওয়াশের মাধ্যমে সাইডওয়াক পরিষ্কার করার অনুরোধ জানালে, তিনি তার সম্মতি জানান।
পরে তারা হিলসাইড এভেন্যুর সাইডওয়াকে হাঁটেন। বরো প্রেসিডেন্ট ফাতেমা গ্রোসারিতে এবং মান্নান বেকারিতে যান।
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার এর পরপরই মেয়র মামদানি এবং কমিশনার এন্ডারসন ব্রুকলিনে প্রথমবারের মত ‘রেসিডেনশিয়াল এম্পায়ার বিন’ স্থাপন করে নিউইয়র্ক সিটিতে ট্রাশ—ফ্রি সাইডওয়াকের ঘোষণা দেন।
