একাত্তরের প্রহরীর উদ্যোগে তাসিন ও বীথির জন্য শোকসভা
আসলাম আহমাদ খানঃ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস বিপা’র শিক্ষক ও সংগঠক, ভরতনাট্যমের প্রতিভাধর শিল্পী তাসিন ফেরদৌস এবং নেত্রকোনা জেলার প্রয়াত জননেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম আব্দুল কদ্দুস আজাদের কন্যা, তরুণ রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহমিনা পারভীন বীথির অকাল প্রয়াণে শোক সভা করেছে একাত্তরে প্রহরী ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্ক।
২৮ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায়, জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিজ্ঞানী ড. নুরুন নবী। ড. নবী বলেন, একাত্তরের প্রহরী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত একটি আলোকিত পরিবার, এই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে আমরা শোকাহত। তিনি বলেন, ‘যাদেরকে আমরা ভালোবাসি, তারা কখনো হারিয়ে যায় না’ এবং আজকের এই উপস্থিতি সে চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি শত কষ্টের মাঝেও একে অপরের হাতটি শক্ত করে ধরে রাখার জন্য।
শোকসভায় শুরুতেই ১ মিনিট নীরবতা পালন করার পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাত্তরের প্রহরীর সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্যের পর তিনি তাসিন ফেরদৌসের মা এ্যানি ফেরদৌস ও বাবা জাফর ফেরদৌসের লিখিত বার্তা পড়ে শোনান। বার্তায় তারা বলেন, এখানে উপস্থিত হওয়ার মতো মানসিক অবস্থা আমাদের নেই। আমরা আরো ভেঙে পড়বোÑ এজন্য আসিনি। তবে, আপনাদের ভালোবাসার কাছে আমরা ঋণী।
সদ্য প্রয়াত সংগঠক তাহমিনা পারভীন বীথির বোন তাহরিনা পারভীন প্রীতি, তার স্বামী আমিরুল ইসলাম কামাল, কন্যা অধরা তাহিয়াত মঞ্চে কথা বলার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা এ আয়োজনের জন্য তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শোক সভায় কবিতা, গান ও প্রার্থনায় স্মরণ করা হয় সদ্য প্রয়াত দুই গুণীজনকে। সংস্কৃতজন গোপাল সান্যাল তার বক্তৃতায় বলেন, তাসিন ফেরদৌস ছিলেন নৃত্যকলার বাঙালি কমিউনিটির বিশ্ব এম্বাসেডর, আর বীথি ছিলেন গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একজন সম্পন্ন মানুষ, যার জানাজায় লক্ষ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে কত জনপ্রিয় একজন মানুষকে আমরা হারিয়েছি। এ ক্ষতি অপূরণীয়।
তাদের উদ্দেশে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন, রাজনীতিক ও সংগঠক রাফায়েত চৌধুরী।
লালন এবং রবীন্দ্রনাথের গানে চলে যাওয়া দুইজনের উদ্দেশে ভালোবাসা জানান শিল্পী তাহমিনা লাইজু এবং সংস্কৃতজন মৃদুল আহমেদ।
বাচিক শিল্পী গোপন সাহার সঞ্চালনায় এ আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন, বিজ্ঞানী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জিনাত নবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আনোয়ার বাবলু, কবি ফকির ইলিয়াস, ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, লেখক ও ছড়াকার মনজুর কাদের, লেখক, সাংবাদিক ও নির্মাতা শামীম আল আমিন, সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবাধিকার কর্মী রওশন আরা নীপা, শিল্পী স্বপন দত্ত, পুষ্পিতা রায়, বাচিক শিল্পী স্বাধীন মজুমদার, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, সাঈদা উদিতা, আবৃত্তি শিল্পী পারভীন সুলতানা, মনিরা আকঞ্জি, সুতিপা মন্ডল, সোহেব মজুমদার, সমাজ সংগঠক পরিমল সাহা পলাশ, সাংবাদিক ইয়াকুব আলী মিঠু, সাংবাদিক আব্দুল হামিদ, সংগঠক রামদাস ঘরামী, কবি সুমী খান, কবি সালেহা ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার ড. এনামুল হক এবং একাত্তরের প্রহরীর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসলাম আহমাদ খান।
সকলের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি ড. নুরুন নবী।
