জরিপে এগিয়ে সিনেট প্রার্থী আব্দুল্লাহ || সকলের চোখ মিশিগানের দিকে
বাঙালী প্রতিবেদনঃ আমেরিকার নির্বাচনে ধমীর্য় ইস্যুটি নতুন নয়। তবে সম্প্রতিকালে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে মুসলমান প্রার্থীদের উত্থান অনেকের জন্য গাত্রজ্বালার কারণ। মেয়র নির্বাচনের আগে জোহরান মামদানির অন্য কোনো সমস্যা কট্টর সমালোচকরা খুঁজে না পেলেও তিনি যে মুসলিম বংশোদ্ভুত এই বিষয়টিই সামনে চলে আসে। তিনি অবশ্য স্থানীয় রাজনীতিক হলেও হঠাৎ করেই আলোচনায় আমেরিকার কেন্দ্রে চলে যান। মিশিগান থেকে ৩ নভেম্বরের ইউএস সিনেট প্রার্থী আবদুল্লাহ আল সাঈদ আর এক নতুন গাত্রজ্বালা এবং মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তিনি মুসলিম বংশোদ্ভুত। এই ইস্যুটি প্রাইমারির পর থেকে এতটাই জোরালো হয়ে ওঠে যে তার নির্বাচনটি আর তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার পক্ষে—বিপক্ষে মাঠে নেমে পড়েন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদিস্ট’, ‘মুসলিম ব্রাদারহুড মেম্বার’ ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করেন গত রবিবার মিশিগানের পোর্ট হুরনে আয়োজিত সভায়। আর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একই উইকএন্ডে আবদুল্লাহ আল সাঈদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন ডেট্রয়েটে। আল সাঈদের পক্ষে প্রচারণার জন্য মিশিগান যান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজসহ অন্য কয়েকজন।
সর্বশেষ ম্যারিস্ট জরিপ অনুসারে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আল সাঈদের প্রতি মিশিগানের ভোটারদের সমর্থন ৫০% আর রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে সমর্থন ৪৮%। অপরপক্ষে সিবিএস ডেট্রয়েটের করা ২৫—২৭ অক্টোবরের জরিপে দেখা গেছে আল সাঈদের পক্ষে ৫১% আর মাইক রজারের পক্ষে ৪৪% সমর্থন রয়েছে। উল্লেখ্য আবদুল্লাহ আল সাঈদের জন্ম মিশিগানে। তিনি মিশরীয় ইমিগ্রান্টের সন্তান। তিনি আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েন কাউন্টিতে হেলথ কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেছেন। সে কারণে তার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পাচ্ছে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ সহ ইউনিভার্সাল হেলথকেয়ার কর্মসূচী।
জরিপে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও তাদের হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। আবদুল্লাহ আল সাঈদের ভোটব্যাংকে মুসলিম ভোটার তার শক্তি। এই নির্বাচনে তাকে জয়ী করতে প্রচারণায় সহায়তার জন্য নিউইয়র্ক থেকেও কয়েকজন বাংলাদেশী মিশিগানে গেছেন বলে জানা গেছে।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে আমেরিকানদের চোখ এখন মিশিগানের দিকেই। কারণ আল সাঈদের জয় এবং পরাজয় দুইই অন্য এক মেসেজ নিয়ে আসবে।
