একদিনে ছয় নাটকের উৎসব || মাসুম রেজা
একদিনে ছয় নাটকের উৎসব। পহেলা আগস্টের সারাদিনে নিউইয়র্কের বাঙালিরা মাতবে সে উৎসবে। বাংলাদেশে এখন বর্ষার ঘনঘটা আর নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে ঘনঘটা নাটকের। আয়োজন করছে ঢাকা ড্রামা, নিউইয়র্ক। গতবছর আমি যখন নিউইয়র্কে ছিলাম তখন দেখেছি বাঙালিদের নাট্য উন্মাদনা। একদিকে ডায়াসপোরা আয়োজন করছে নিত্যপুরাণের প্রদর্শনী, অন্যদিকে জ্যামাইকার আরেকটি মিলনায়তন মেতে উঠছে কৃষ্টির উৎসবে। নিউজার্সিতে চলছে দক্ষিণ এশীয় নাট্যোৎসব। আমি ভীষণ মুগ্ধ হয়েছিলাম এইসব আয়োজনের ঘনঘোর আড়ম্বরে। ঢাকা ড্রামা, নিউ ইয়র্ককে দেখেছি উৎসবে নাটক পরিবেশন করতে। আমরা ঢাকাতে যেমন নিয়মিত থিয়েটারে মগ্ন থাকি, তেমনি ঢাকা ড্রামাকেও দেখেছি থিয়েটারের নিয়মিত ব্যস্ততায়। তাদের পহেলা আগস্টের ছয় প্রহরের নাট্যায়োজনের উপলক্ষ হলো এ বছর তারা দলের তিরিশ বছর পূর্ণ করবে। দলের জন্যে এ এক অসাধারণ সাফল্য আর দর্শকদের জন্যে অসাধারণ প্রাপ্তি। একটা দল তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখছে মার্কিন মুলুকে। এই তিরিশ বছরে ঢাকা ড্রামার নাটকের ফর্দও দীর্ঘ। মঞ্চে এনেছে একত্রিশটি নাটক। হিসেবে প্রতিবছর তাদের একটি নতুন নাটক মঞ্চে এসেছে। নিউইয়র্কে বসবাস করে, জীবন ও জীবিকার হিসেব মিলিয়ে থিয়েটার করা সত্যিই যেখানে বিলাসিতার মতো মনে হয়, সেখানে ঢাকা ড্রামা নিয়মিত থিয়েটার করছে তিরিশ বছর ধরে। তাদেরকে সাধুবাদ জানাতে কারও কুণ্ঠা করার সুযোগ নাই। নিউইয়র্কের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, যারা ঢাকা থেকে গিয়ে ওখানকার অভিবাসী হয়েছেন, তাদের ভিতরে যারা এদেশে থিয়েটারে যুক্ত ছিলেন তারা নিউইয়র্কেও কোনো না কোনোভাবে থিয়েটারটা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ঢাকা ড্রামার প্রধান সংগঠক ও বেশিরভাগ নাটকের নির্দেশক গোলাম সারোয়ার হারুন তাঁদেরই একজন। একটা দল গতিমান হয় দলের সকল সদস্যের শ্রম মেধা ও ঘামে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। প্রচেষ্টার এই সম্মিলনকে একমুখী করার দায়িত্ব দলে কাউকে না কাউকে নিতে হয়। ঢাকা ড্রামার গোলাম সারোয়ার হারুন এবং গার্গী মুখোপাধ্যায়কে আমি সেই ভূমিকায় দেখেছি। ঢাকা ড্রামার এই তিরিশ বছরের পথ চলায় দর্শকদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। সব মিলিয়ে ঢাকা ড্রামা এক সম্পন্ন নাটকের দল। তাদের তিরিশ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানমালার সাফল্য কামনা করছি। থিয়েটারের জয় হোক। ঢাকা ড্রামার প্রতি আমার প্রণতি। প্রণতি দর্শকদের।
