পাদপ্রদীপের আলোয় ঢাকা ড্রামা— ৩০ || মামুনুর রশীদ
আজ থেকে ৩০ বছর আগে নিউইয়র্ক শহরের কিছু বাঙালি তরুণ এক নাট্য অভিযাত্রা শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ঢাকা ড্রামা। প্রবাসের নাট্যচর্চা কোনো সহজ কাজ নয়। নানা কারণেই মানুষ প্রবাস জীবন বেছে নেয়। উচ্চতর জীবন যাপন, জীবিকার নিশ্চিত আশ্রয়, উচ্চশিক্ষা এমনি নানা কারণের মধ্যেও আছে— দেশের অনিশ্চিত জীবন। এই অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে আছে রাজনৈতিক উত্থান পতনের প্রতিহিংসাপরায়ণতা। আরো আছে দেশে ফেলে আসা আপনজনদের প্রতি দায়িত্ববোধ। এই দায়িত্ববোধের পরিধি যখন সংস্কৃতির দিকে হাত বাড়ায়, তখন একটি জাতির প্রতি মানবিক বোধের গন্ডি পেরিয়ে আরো এগিয়ে যায় একটি ভিন্ন মহাদেশে আত্মপরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশে। সেই কাজটির তাগিদ অনুভব করার জন্য আমাদের এই সংস্কৃতি কর্মীরা আমাদের এক কৃতজ্ঞতাবোধে অনুপ্রাণিত করে। সম্প্রতি উত্তর—আমেরিকার বেশ কটি স্টেটে আমার নাটক অভিনয় ও কর্মশালা পরিচালনার সুযোগ হয়েছে। সেই সাথে বেশ কিছু বইমেলায় অংশ নিয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। কারণ তাদের সাহিত্যে যেমন আগ্রহ, তেমনি নাট্য অভিনয়ের নিয়মিত ইতিহাস আছে। তেমনি আবৃত্তি ও চারুকলার ক্ষেত্রে কাজ করার উৎসাহব্যঞ্জক ঐতিহ্য রয়েছে। শুধু তাই নয় এর মধ্যে কিছু সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষক দাঁড়িয়ে গেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিল্পীরা নিজেদের অর্থ ও মূল্যবান সময়কেও এক্ষেত্রে নিয়োজিত করে রেখেছেন বছরের পর বছর।
ঢাকা ড্রামার সবকিছু যাচাই বাছাই করলেও এর সত্যতা মেলে। ১৯৯৬ সাল থেকে নাট্য অভিনয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে ঢাকা ড্রামা। আরো একটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে। তা হল, বাংলা ভাষার বড় অংশীদার পশ্চিম বাংলার নাট্যকর্মীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন। তাদের সাথেও কিছু কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে একটা নতুন ধরনের বিস্তৃতির সুযোগ হয়েছে। নিউইয়র্কের গন্ডি পেরিয়ে নিউ জার্সিতেও কিছু কর্মকাণ্ডের সুযোগ হয়েছে। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে বেশ কিছু নাট্যদল কর্মরত রয়েছে যাদের কাজও প্রশংসার যোগ্য।
ঢাকা ড্রামা সেইসব ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সাথে সৌহার্দে্যর সাথে কাজ করে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে তুলেছে। ঢাকা ড্রামার সহকর্মীরা সবাই আন্তরিক এবং যোগসূত্র হচ্ছে সারোয়ার হারুন যিনি বাংলাদেশেও আমার সহকর্মী ছিলেন। তাঁর সূত্রেই পশ্চিম বাংলার নাট্য সংগঠক ও অভিনেতা এপিক থিয়েটারের দীপেন এর সাথে পরিচয়টি একটি বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে।
মহাকালের বিচারে ৩০ বছর একটি অনুক্ষণ মাত্র। যেতে হবে অনেকদূর অনেক আধুনিকতা এবং সক্ষমতা নিয়ে। আশা করি এবং কামনা করি, বাংলা ভাষা ও বাংলা নাটক নিয়ে আমাদের আত্মপরিচয়ের গন্ডিটি আরো অনেক মহত্তর পথে এগিয়ে যাবে।
