বিশ্বকাপ ২০২৬’র পর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে যে ১০ ফুটবলারের

স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ বিশ্বকাপ শেষ হলেও এর রেশ এখনো কাটেনি। শিরোপা জিতেছে স্পেন, গোল্ডেন বুট গেছে এমবাপ্পের হাতে। তবে টুর্নামেন্ট শেষে সবচেয়ে বড় হাসিটা হয়তো ফুটবলারদের বাজারমূল্যই হাসছে। তরুণ প্রতিভা, প্রতিষ্ঠিত তারকা কিংবা নতুন উদীয়মান মুখঅনেকেরই প্রাইসট্যাগ বেড়েছে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে। সর্বশেষ হালনাগাদে এমনই ১০ ফুটবলারের গল্প।

এলিয়ট অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড)

লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে বা জুড বেলিংহাম নন, সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের। টুর্নামেন্টে জুড বেলিংহামের পাশে অ্যান্ডারসনের উপস্থিতি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডকে ভারসাম্য দিয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে অ্যান্ডারসন ছিলেন নটিংহাম ফরেস্টে। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ম্যানচেস্টার সিটি তাঁকে দলভুক্ত করে ফেলে, চূড়ান্ত চুক্তি সই হয় বিশ্বকাপ ফাইনালের তিন দিন পর। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে সিটি তাঁর জন্য ১১. কোটি পাউন্ডের চুক্তি করেছে।

বাজারমূল্য: . কোটি ইউরো থেকে ১১ কোটি (. কোটি বৃদ্ধি)

জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মিডফিল্ডারদের একজন ছিলেন আগেই। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে সেই অবস্থান আরও শক্ত করলেন বেলিংহাম। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমারদের একজন ছিলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। করেছেন গোল। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে তাঁর বাজারমূল্য বেড়েছে কোটি ইউরো।

বাজারমূল্য: ১২ কোটি ইউরো থেকে ১৫ কোটি ( কোটি বৃদ্ধি)

আইয়ুব বুয়াদ্দি (মরক্কো)

১৮ বছর বয়সেই মরক্কোর মাঝমাঠের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া সহজ কাজ নয়। আইয়ুব বুয়াদ্দি সেটাই করেছেন। ক্লাব ফুটবলে লিলের হয়ে খেলা এই মিডফিল্ডার বিশ্বকাপে মরক্কোর অন্যতম সেরা পারফরমার।

বুয়াদ্দিকে নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমাণ করার পর সেই আগ্রহ আরও বাড়ার কথা। বাজারমূল্যে কোটি ইউরোর উল্লম্ফন সেটিরই প্রতিফলন।

বাজারমূল্য: কোটি ইউরো থেকে কোটি ( কোটি বৃদ্ধি)

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে)

নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে বিদায় নিলেও হলান্ড ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। করেছেন গোল। ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার আগেই বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁর মূল্য আরও কোটি ইউরো বাড়িয়েছে।

বাজারমূল্য: ২০ কোটি ইউরো থেকে ২২ কোটি ( কোটি বৃদ্ধি)

লামিনে ইয়ামাল (স্পেন)

চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুর দিকে খুব বেশি সময় খেলতে পারেননি। তবে যখনই সুযোগ পেয়েছেন, খারাপ করেননি। গোল হয়তো মাত্র একটি, কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণে সব সময়ই বড় আতঙ্ক হয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর নাম এখন ব্যালন ডিঅর আলোচনায়ও চলে এসেছে। বিশ্বকাপের পর ইয়ামালের বাজারমূল্য কোটি বেড়ে ২২ কোটিতে পৌঁছেছে।

বাজারমূল্য: ২০ কোটি ইউরো থেকে ২২ কোটি ( কোটি বৃদ্ধি)

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)

ফ্রান্স শিরোপা জিততে না পারলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে আবারও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপ এলেই যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে করেছেন ১০ গোল, জিতেছেন গোল্ডেন বুটও। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেছেন। ক্লাব ফুটবলে এখন রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণের প্রধান মুখ এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক গোল, গতি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁকে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলারদের কাতারে আরও ওপরে তুলে দিয়েছে। বাজারমূল্য বেড়ে ২০ কোটিতে পৌঁছানো তারই স্বীকৃতি।

বাজারমূল্য: ১৮ কোটি থেকে ২০ কোটি ইউরো ( কোটি বৃদ্ধি)

মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স)

এমবাপ্পে গোল করেছেন, আর সেই গোলের অনেকগুলোর পেছনে ছিলেন মাইকেল ওলিসে। ডান প্রান্তে তাঁর গতি, সৃজনশীলতা এবং নিখুঁত ক্রস ফ্রান্সের আক্রমণকে ধারালো করেছে। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৭টি অ্যাসিস্ট তাঁর। গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া এই উইঙ্গারের দাম বিশ্বকাপের পর কোটি ইউরো বেড়েছে।

বাজারমূল্য: ১৫ কোটি থেকে ১৭ কোটি ইউরো ( কোটি বৃদ্ধি)

হুলিয়ান আলভারেজ (আর্জেন্টিনা)

লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযানে আর্জেন্টিনার আক্রমণে অন্যতম ভরসা ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করা এই ফরোয়ার্ডের বাজারমূল্য বেড়েছে কোটি। বিশ্বকাপের পর তাঁর দলবদল নিয়ে ট্রান্সফারমার্কেটেও আলোচনাও কম নয়। আতলেতিকো মাদ্রিদ তাঁকে রেখে দিতে চায়, কিনে নিতে চায় বার্সেলোনা।

বাজারমূল্য: ১০ কোটি থেকে ১২ কোটি ইউরো ( কোটি বৃদ্ধি)

মরগান রজার্স (ইংল্যান্ড)

বিশ্বকাপ যাঁদের ক্যারিয়ারে বড় বাঁক নিয়ে এসেছে, মরগান রজার্স তাঁদের একজন। ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গতি ড্রিবলিং দিয়ে আক্রমণভাগে নজর কেড়েছেন। গত মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলা রজার্স বিশ্বকাপের পর ১১. কোটি পাউন্ডে চেলসিতে নাম লিখিয়েছেন।

বাজারমূল্য: কোটি থেকে ১১ কোটি ইউরো ( কোটি বৃদ্ধি)

পাও কুবারসি (স্পেন)

ডিফেন্ডারদের বাজারমূল্য সাধারণত এত দ্রুত বাড়ে না। কিন্তু পাও কুবারসি ব্যতিক্রম। এবারের বিশ্বকাপে সেরা উদীয়মানের পুরস্কারজয়ী বলে কথা! স্পেনের রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে ওঠা এই সেন্টার ব্যাকের বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ১০ কোটির ঘরে পৌঁছেছে।

বাজারমূল্য: কোটি থেকে ১০ কোটি ইউরো ( কোটি বৃদ্ধি)

Related Posts