এক আনন্দময় গুমর || বদরুজ্জামান আলমগীর
যেমন হবার কথা— ঢাকা ড্রামার যে নাট্যিক অভিযাত্রা তা একবার ঘুরে এলে আমাদের তেমন একটা পরিতৃপ্তি ও আহাজারির যৌথ বিন্দুতে এনে দাঁড় করায়; জীবনের সমান চুমুক, আকস্মিক হয়তোবা জীবনের অধিক দাবাখেলার ছকঘরে, কখনও বা ব্রুকলীন ব্রিজের কূল নাই কিনার নাই আশা ঘুড্ডির প্রতিটি মোহন মোড়ে তালিয়া বাজায়, কী অসহায় অশ্রুপাত করে!
যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা ড্রামা যে নাটকগুলো মঞ্চে তুলেছে কেবল সে নামগুলো একবাউলি ঘুরে আসিÑ স্টোরিজ অব জ্যাকসন হাইটস, আনডিভাইডেড, আই শকুন্তলা, উন্মাদ সাক্ষাৎকার, সগগতে শয়তান, নিরস্ত্র, গিট্টু, ঝড়ের খেয়া, ঘড়ি আংটি ইত্যাদি, মহাবিদ্যা, রাক্ষুসী, স্মৃতি একাত্তর, আন্ডা, মোহরা, চরকাঁকড়া, মৌমাছি, রিসার্চ, লোট্টো, প্রথম পার্থ, আদাব, ওরে বিহঙ্গ, কালের যাত্রা, মিছে কোলাহল, একই বৃন্তে, গল্প নিয়ে গল্প, কিত্তনখোলা, এটাও ঠিক ওটাও ঠিক, হট্টমালার ওপারে, বলদ, ভেলকি, সোনার টুকরো ছেলে, ১৯৭১।
উপর্যুক্ত তালিকা থেকে ঢাকা ড্রামার থিয়েটার পরিবেশনা ধারাক্রম, এর অন্তর্গত সামাজিক নৃতাত্ত্বিক চিন্তার যে ঘনবদ্ধ বিস্তার— তার দিকে নজর করে তাকালে একটা ব্যাপার পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়— তাদের নাট্যপ্রসূন বহুমুখী, ভৌগোলিক সীমানা ডিঙানো, তারা সত্যের অনুসন্ধানকারী, সেইসাথে সত্যিকার আন্তর্জাতিকতাবাদী।
তাদের নাট্য নির্বাচনে যেমন আছে ব্যক্তির আইডেন্টি সংকট, গণতান্ত্রিক মানসের চয়ন, শ্রেণী বিভক্ত মন ও সমাজ রাষ্ট্রের অভিঘাত, নাটকের চারিত্র্যে তারা প্রহসন, বিয়োগান্ত বা মনোস্তাত্ত্বিক— সবধরনের পাণ্ডুলিপিই সেখানে গৃহীত হতে দেখি।
সবচেয়ে আনন্দ আর ভরসাসুন্দর দিক হলো— ঢাকা ড্রামা'র সাকল্য উদ্যমের কেন্দ্রীয় ভরকেন্দ্র এক আর্টিস্টিক জাস্টিস। আমরাও তাই শত নাল্লতের জীবনসংগ্রাম শেষে ঘুটঘুটে টানেলের অন্তে একটুকরো আলোর সংকেত ফুটে থাকার মতই ঢাকা ড্রামার জেগে থাকাও আমাদের সমুখে এক আনন্দময় গুমর— একদিকে উদয় গো ভানু চৌদিকে পসর।
বদরুজ্জামান আলমগীর: নাট্যকার, কবি।
