চোখের নীরব ঘাতক গ্লুকোমা
ডা. আহসান কবিরঃ যন্ত্রণাবিহীন রোগ কখন যে আমাদের দৃষ্টি কেড়ে নেবে তা টের পাওয়া যাবে না। একবার দৃষ্টি হারালে সে দৃষ্টি আর ফিরে আসে না। এই নীরব দৃষ্টিঘাতক রোগটির নাম হলো ‘গ্লুকোমা’। বর্তমান বিশ্বে এ রোগের রোগীর সংখ্যা ৮ কোটির ওপরে এবং অনুমান করা হচ্ছে ২০৪০ সালের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। চোখের ছানির রোগের পর গ্লুকোমা রোগে মানুষ সবচেয়ে বেশি অন্ধত্বের শিকার হয়। অন্ধত্বের প্রধান কারণ হলো, প্রায় ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো লক্ষণই থাকে না। এ রোগ ‘নীরব দৃষ্টিচোর’ বলে পরিচিতি লাভ করেছে।
গ্লুকোমা রোগ আসলে কী?
আমাদের চোখে দুই ধরনের পানি থাকে। একটি হলো কান্নাকাটি করলে বা আঘাত, পেঁয়াজের ঝাঁজ ইত্যাদিতে চোখ বেয়ে পানি গাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
আরেক ধরনের পানি সে চোখের ভেতরেই চলাফেরা করে, বাইরে কখনও আসে না। চলাচল করে সে আবার রক্তে ফিরে যায়। এই ভেতরের পানিটাই হলো সব সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু। যদি কোনো কারণে চোখের পানি চলাচল পথ বন্ধ হয়ে যায় বা চলাচল কমে যায় বা যদি বেশি আকারে তৈরি হয়, তাহলে চোখ যে নির্দিষ্ট চাপে আকার ধারণ করে থাকে তাতে চাপ পরোক্ষভাবে রেটিনা বা চোখে দেখার তুলতুলে নার্ভ (অপ্টিক নার্ভ) এর মুখের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে করতে নার্ভের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে এবং দৃষ্টি কমতে কমতে একসময় হারিয়েও যায়। আর ফিরে আসে না; যা অনেকেই বুঝতে পারেন না।
গ্লুকোমা রোগে কী হয়?
● চোখের পানির চাপ বৃদ্ধি। স্বাভাবিক চোখের পানির চাপ ১৮—২০ মিমি।
● ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি পরিধি কমে যাওয়া।
● চোখের অপটিক স্নায়ু শুকিয়ে যাওয়া।
গ্লুকোমা কত রকম:
বিভিন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ বিভিন্নভাবে এ রোগ ভাগ করেছেন। তবে ব্যাপক অর্থে শিশুদের আর বড়দের গ্লুকোমা।
● শিশুরা গ্লুকোমা নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে কিংবা একটু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে আক্রান্ত হতে পারে, যেখানে চোখে আকৃতি ও বংশের ইতিহাস অতি মূল্যবান।
● বড়দের সাধারণত ৩৫—৪৫ বয়সীদের এ রোগ বেশি দেখা যায়। পুরুষরাই বেশি।
চোখের বিভিন্ন আকৃতি—প্রকৃতির ওপরও এ রোগ ভাগ করা হয়েছে।
কী করে বুঝবেন গ্লুকোমা হয়েছে:
● যে কোনো চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া।
● ঘন ঘন মাথা, চোখ ব্যথা ও লাল হওয়া।
● ঘনঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তন বা অল্প বয়সে কাছে কম দেখা।
● রাতে বেলায় বাল্বের পাশে রংধনু রং দেখা।
● সামনে ভালো দেখা যাচ্ছে। অথচ আশপাশের কিছু দেখা যাচ্ছে না।
● হাঁপানি, বাত ব্যথার জন্য স্টেরয়েড ওষুধ খাওয়া ইত্যাদি অন্যতম কারণ।
কী করবেন:
চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন চোখের প্রেশার মাপিয়ে এবং কিছু আনুষঙ্গিক চোখের বিশেষ পরীক্ষার প্রয়োজন পড়বে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার, নিয়মিত চোখের পরীক্ষা—নিরীক্ষা করলে এ রোগ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। অনেক ক্ষেত্রে অপারেশন বা লেজার চিকিৎসাও লাগে বা করাতে হবে।
আপনার বয়স যদি ৪০ ঊর্ধ্ব হয়, চোখ পরীক্ষা করতে গেলে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করবেন আমার চোখে গ্লুকোমা রোগের কোনো লক্ষণ আছে কি?
