নায়লা আজাদের পরিচালনায় হয়ে গেল স্টোরি টেলিং ওয়ার্কশপ

বাঙালী প্রতিবেদনঃ নাট্যজন নায়লা আজাদ নূপুরের পরিচালনায় নিউইয়র্কে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের জন্য একটি থিয়েটার ওয়ার্কশপ হয়ে গেল গত রবিবার। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশীদের জন্য নতুন স্টোরিটেলার তৈরির পদক্ষেপ। থিয়েটার একাত্তর আয়োজিত এই ওয়ার্কশপে সকাল সাড়ে দশটা থেকে নায়লা আজাদ নূপুর টিনএজার ছেলেমেয়েদের আত্মবিশ্বাস তৈরি, সকলে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার হওয়া সত্ত্বেও একত্রে কাজ করার প্রক্রিয়া, মঞ্চভীতি কাটানো, মঞ্চে দাঁড়ানো, হাঁটাচলা, কথা বলা এবং শরীরের ব্যবহার ইত্যাদি জরুরী বিষয়গুলো তিনি খেলাচ্ছলে তুলে ধরেন। শেষ পর্যায়ে ছিল কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার ইংরেজি ভার্সনের আবৃত্তির প্রশিক্ষণ দেন। এই কবিতাটি আবৃত্তির মধ্যদিয়ে কণ্ঠের ওঠানামা, কোন্ শব্দে অভিঘাত পড়বে বা কোন শব্দের কোন্ অংশে অভিঘাত প্রয়োজন ইত্যাদি বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

শেষে নায়লা আজাদ নূপুর বলেন, আমি অনেক বছর আমেরিকার অন্য শহরে থাকি। কিন্তু কখনো সেভাবে আমাদের কম্যুনিটিতে আসিনি। আজকের ওয়ার্কশপ করার পর ঠিক করলাম আবার আসব। নতুন ছেলেমেয়েদের সাথে কাজ করব।

এসময় এই ওয়ার্কশপ আয়োজনের উদ্দেশ্য যথার্থতা তুলে ধরেন থিয়েটার একাত্তরের কর্ণধার খাইরুল ইসলাম পাখি। তিনিও বলেন, আমি নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আরো কাজ করতে চাই। এই ওয়ার্কশপে ছেলেমেয়েদের নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

সাদিয়া খন্দকারের সুন্দর সঞ্চালনায় সমাপনী পর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রোকেয়া রফিক বেবি, অনুতোষ সাহা, মিথুন আহমেদ কৌশিক আহমেদ। এরপর অংশগ্রহণকারী কিশোরকিশোরীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন নায়লা আজাদ নূপুর। আর তার হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন খাইরুল ইসলাম পাখি।

এই ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করে নাহরিন ইসলাম, অদ্বিতীয়া, আরশান, আয়ান, রিশান, আমরিন, সামিয়া, মালিহা তিথি।

ওয়ার্কশপ শেষে নিউইয়র্কের নাট্যজনদের সাথে মতবিনিময় করেন নায়লা আজাদ। নিউইয়র্কের নাট্যজনরা এখানকার নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গত ৩৬ বছর ধরে যে নাট্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই প্রসঙ্গটি তুলে ধরে বলেন, এই সাড়ে তিন বছরে অর্জন মোটেও কম নয়।

এই আয়োজনটি হয় জ্যামাইকায় কুইন্স সোশাল এডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের হলরুমে।

Related Posts