ভুল থেকেই নিজেকে গড়ছি: আইশা

অভিনয়ের জগতে জনপ্রিয়তা অনেকটা জোয়ারের মতো। কেউ সেই জোয়ারে ভেসে যান, কেউ আবার দাঁড়িয়ে থাকেন নিজের তীরে। আইশা খান যেন দ্বিতীয় দলের মানুষ। আলোচনায় থাকার চেয়ে তিনি বেশি বিশ্বাস করেন নিজেকে প্রস্তুত করে তোলায়। চরিত্রের ভেতর ডুবে যাওয়াকে তিনি মনে করেন অভিনয়ের সবচেয়ে বড় অনুশীলন। তাই কাজের সংখ্যা নয়, প্রতিটি কাজের গভীরতাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উপস্থাপনা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও খুব অল্প সময়েই অভিনয়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন আইশা। ছোট পর্দার নাটক, ওয়েব কনটেন্ট কিংবা বিশেষ প্রযোজনাপ্রতিটি মাধ্যমেই তিনি রেখেছেন সংযত অথচ স্বতন্ত্র উপস্থিতির ছাপ। তাই এখন নাটকের অন্যতম ভরসার নাম আইশা। 

অভিনয়ে কখনও অতিনাটকীয়তা নেই, নেই অকারণ চমক; বরং স্বাভাবিকতা আর পাশের বাড়ির মেয়ের সহজসরল আবহই তাঁকে দর্শকের কাছে আলাদা করে তুলেছে। এবার তাঁর অভিষেক হচ্ছে বড় পর্দায়। যুক্ত হচ্ছে চিত্রনায়িকার পরিচয়। সিনেমার নামশেকড়

শেকড়ে ফেরার গল্প

আইশার এই যাত্রায় নতুন সংযোজন প্রসূন রহমান পরিচালিত চলচ্চিত্রশেকড় সিনেমাটিতে তিনি অভিনয় করেছেনফাল্গুনীচরিত্রে। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন এফ এস নাঈম। আরও অভিনয় করেছেন একঝাঁক অভিনয়শিল্পী। তবে মধ্যমণি যে আইশা খানই, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ এটি তাঁর প্রথম সিনেমা, প্রথম বড় পর্দা, প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়ার অভিজ্ঞতা। অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, শেকড়ের সন্ধান এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছেশেকড় নির্মাতা প্রসূন রহমানের ভাষায়, এটি মানুষ, মাটি স্মৃতির অদৃশ্য বন্ধনের এক আবেগঘন ভাষ্য।

শুক্রবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলশেকড় এরপর আগস্ট কানাডায় মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডেও সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশের দর্শকদের জন্য তৈরি হচ্ছে স্প্যনিশ সংস্করণও। তাই প্রথম সিনেমা দিয়েই যেন বিশ্বভ্রমণে বের হচ্ছে আইশার অভিনয়।

অভিনেত্রী বলেন, শেকড় আমার ক্যারিয়ারের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। অবশেষে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। শেষ হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার। দর্শক ছবিটি হলে গিয়ে দেখবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি বিশ্বাস করি, গল্প আর চরিত্রদুটিই তাদের ভালো লাগবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চলচ্চিত্রেরই একটি নিজস্ব যাত্রা থাকে। নির্মাতার হাত ধরে সেই যাত্রা শুরু হলেও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই তা পূর্ণতা পায়। একজন শিল্পী হিসেবে আমি আন্তরিকতার সঙ্গে একটি গল্প বলার চেষ্টা করেছি। সেই গল্প দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারছে কিনা, সেটি এবার দর্শকদের কাছ থেকেই জানতে চাই।

যেন পরিণত হওয়ার পথ

অনেক সময় একটি সফল কাজ শিল্পীকে আরও ব্যস্ত করে তোলে। আইশা যেন উল্টো পথে হাঁটছেন। তাঁর কাছে সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়; বরং আরও ভালো হওয়ার দায়। তিনি বলেন, শেকড়এর পর আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমি এখনও শিখছি, ভুল করছি, আবার সেই ভুল থেকেই নিজেকে গড়ে তুলছি। যখন আবার পর্দায় ফিরব, চাই আরও পরিণত একজন অভিনেত্রী হিসেবে ফিরব।

এই কথার মধ্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর শিল্পদর্শন। দ্রুত আলোয় আসার চেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতিতেই তিনি বেশি বিশ্বাসী। শেকড়কে আপাতত শেখার যাত্রারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছেন তিনি। তাই আপাতত নতুন সিনেমা নয়, নিজের প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগ দিতে চান।

আইশা বলেন, আমি থিয়েট্রিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসিনি। তাই প্রতিদিনই শিখছি। প্রতিটি চরিত্র আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এই শেখার পথটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Related Posts