আটলান্টিক কাউন্সিল ঃ সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন || সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হওয়ার আশংকা
এপি ও রয়টার্স প্রতিবেদনঃ দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া এবং দেশে ফেরার ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য দুই দেশই চেষ্টা চালাচ্ছিল। বাংলাদেশ সরকারের আগাম আপত্তি সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় কূটনৈতিক অস্বস্তি আরও বেড়েছে। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও ঢাকার রাজনৈতিক মহলে সেই ব্যাখ্যা খুব বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প মেয়াদে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক অস্বস্তি ও বাগযুদ্ধ বাড়তে পারে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় আসবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক পুরোপুরি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাণিজ্য, ট্রানজিট, আঞ্চলিক সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো কৌশলগত স্বার্থ দুই দেশকে সহযোগিতায় বাধ্য করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক তৎপরতাই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা সাময়িক থাকবে, নাকি গভীর সংকটে রূপ নেবে। তবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে সম্পর্ক আবারও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, ‘ভারত একটি মধ্যপন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করেছে। তবে আমার মনে হয় না, এই ব্যাখ্যা ঢাকাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে।’ তাঁর মতে, ভারত চাইলে এ সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করতে পারত। ফলে বাংলাদেশ এটিকে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখবে।
ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, পর্যটন ভিসা আবার চালু হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছিল। দিল্লিতে ওই সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া সেই ধীরগতির অগ্রযাত্রায় সাময়িক ধাক্কা দিয়েছে। তাঁর মতে, দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সুসম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। তাই সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কম।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক আসিফ বিন আলি বলেন, ভারত—বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চললেও একটি বড় বাধা রয়ে গেছে, যাকে তিনি ‘হাসিনা ব্লক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কার্যকরভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ভারত—বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে একধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে এবং মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিতে পারে।
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে আসিফ বিন আলি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কঠিন। তবে তিনি দেশে ফিরতে পারলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, যা হয়তো সংঘাতের দিকে এগোবে।
মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, সরকারের জন্যও একটি জটিল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
