ঢাকা ড্রামার ৩০ বছর পূর্তির অন্যরকম আয়োজন || ৫ নাটকে সমাজের মুখোশ উন্মোচনের প্রচেষ্টা

কৌশিক আহমেদঃ কেবল নাটক দিয়ে সাজানো একেবারে অন্যধরনের অনুষ্ঠানমাস্কস এন্ড মেটাফরসনিউইয়র্ক এর প্রতিবেশী স্টেটসমূহের নাটকপ্রিয় বাঙালিদের মন ভরিয়ে দিয়ে শেষ হলো। গত শনিবার জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের মঞ্চে, আঙ্গিনায় এবং প্রাংগনে এই আয়োজনে ছিল কেবলই নাটক, এবং নাটক সম্পর্কিত অনুষঙ্গ। যেমন পোস্টার প্রদর্শনী একটি খোলামেলা কথাবার্তা। নিউইয়র্কের নিউজার্সির বাঙালিদের স্বনামধন্য নাটকের গ্রুপ ঢাকা ড্রামার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই মহার্ঘ আয়োজনে ছিল পাঁচ মেসেজ দেয়া পাঁচটি নাটকÑ প্রসিনিয়াম মঞ্চ থেকে উন্মুক্ত চত্বরে। নাটক ছিল বাংলায় এবং ইংরেজিতে। যে পাঁচটি গ্রুপ নাটক উপহার দিয়েছে সেগুলো হলো ঢাকা ড্রামা (নিরাকার), অন ডায়ালগ (যমুনা), এক্তা অব নিউজার্সি (শিখন্ডী), এপিক এ্যাকটর্স ওয়ার্কশপ এন্ড থিয়েটার ইন লাইফ (ভুল রাস্তা) এবং ্যাডিকেল এভোলিউশন (লুক বিফোর ইউ লিপ) এর মধ্যে ভুল রাস্তা ছাড়া সবগুলো নাটকের লেখক নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ক্যানাডার। মাস্কস এন্ড মেটাফরস যদি হয় মানুষের বাইরের চেহারা এবং আড়াল করা চেহারার দ্বান্দ্বিক প্রকরণ, স্বীকার করতে হবে, সেই কমিটমেন্ট নিয়েই ঢাকা ড্রামার এই আয়োজন। প্রতিটি নাটকে মানুষের বেঁচে থাকার যে সংগ্রাম, তার যে সাংস্কৃতিক আইডেনটিটির সংকট এবং দ্বৈতসত্তার দ্বন্দ্ব এবং নিজের সাথে নিজের, নিজের সাথে সমাজের সাংঘর্ষিক চেহারা তাকে উন্মোচন করার প্রয়াস লক্ষণীয়। কেবল এই কারণেই এমন একটি উদযাপন সফল হিসাবে গণ্য হতে পারে। ঢাকা ড্রামা এই তিরিশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে কোনো স্মৃতিচারণ পর্ব রাখেনি, বর্তমানের প্রতি আঙুল তুলে সামনের কথা ভাবতে সহায়তা করেছে দর্শকদের। এটাও এই আয়োজনের অন্যতম সাফল্য।

শুরুতে ছিল ঢাকা ড্রামার থিয়েটার কমীর্দের কর্মপদ্ধতি ভাবনা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন। তার আগে নিউার্সির বন্ড স্ট্রিট থিয়েটারের কিক অফ ইভেন্ট। চারজন শিল্পী তিনজন পেগ স্টিলটসের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়িয়ে রেগুলার সাইজের চেয়ে ছোট ড্রাম, স্যাক্সোফোন বাজিয়ে জেপ্যাকের সামনের প্রাংগন উৎসবমুখর করে তোলেন। দর্শকরা ঝালমুড়ি, সিঙ্গারা, কুলফি বা কফি খেতে খেতে এই পর্বটি উপভোগ করেন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্ব জেপ্যাকের মঞ্চে হয়। এই পর্ব পরিচালনা করেন ঢাকা ড্রামার অন্যতম কান্ডারি গাগীর্ মুখাজীর্। তিনি একে একে মঞ্চে আহবান করেন আন্তর্জাতিক পরিসরের বিশিষ্ট নাট্যজন প্রফেসর রিচার্ড শেকনার, নিক সরডেলে, জেপ্যাক জেক্যালের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর কোর্টনি ফ্রেঞ্চ এবং . আবদুস সেলিম, রথীন্দ্রনাথ রায়, রেখা আহমেদ, . দীপেন রয়, বাবুল বিশ্বাস, . আশরাফ চৌধুরী, সুদীপ্ত ভৌমিক, শুভাশীষ দাস, তন্দ্রা দাস এবং গোলাম সারোয়ার হারুনকে। অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে হাতে ফুল তুলে দেন রথীন্দ্রনাথ রায় রেখা আহমেদ।

বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রফেসর শেকনার বলেন, আমরা সত্যিই খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি। যারা এই সংকটকালকে তাদের কাজের মধ্য দিয়ে তুলে ধরছেন তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে আমি বাংলাদেশকে চিনি। সেই সময় আমি কলকাতায় যাই। কলকাতা থেকে গিয়ে কিছুদিন শরণার্থী শিবিরে কাজ করেছি। আপনাদের এই আয়োজন এই বয়সে আমাকে আশাবাদী করে তোলে। প্রফেসর শেকনার বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গোলাম সারোয়ার হারুন গাগীর্ মুখাজীর্কে।

এরপর সকল অতিথি মিলে মঞ্চে বেদিতে রাখা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে ঢাকা ড্রামার ৩০ বছর পূর্তি উৎসব উদ্বাধন করেন।

প্রথম নাটকটি ছিল মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে একক অভিনয়। সুদীপ্ত ভৌমিকের লেখা শিখন্ডী নাটকটিতে একক অভিনয় করেন সুদীপ্তা মজুমদার। মহাভারতের এই ট্রান্সজেন্ডার চরিত্রটির মধ্য দিয়ে প্রায় তিন হাজার বছর আগের জেন্ডার বৈষম্য নিপীড়নের চিত্র যে আজও পরিবর্তন হয়নি, তা নানাদিক থেকে আলো ফেলে দেখানো হয়েছে শিখন্ডীতে। শিখন্ডী তার প্রতি অবিচারের প্রতিবাদ করতে চায়, জেগে উঠতে চায়, কিন্তু তাকে দমন অবদমন করা হয়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শেষে ভীষ্ম যখন তীরবিদ্ধ হয়ে শরশয্যায় তখন শিখন্ডী তার জীবনের গোপন প্রকাশ্য কাহিনী বর্ণনা করে। শিখন্ডী কি তার আম্বার ওপর যে নির্যাতন তার প্রতিশোধ নেবে সব নারীর পক্ষ হয়ে?

সুমন চট্টোপাধ্যায়ের চমৎকার ডিরেকশনে এক্তা অব নিউজার্সির পরিবেশনায় যুগে যুগে অপরিবর্তনীয় যে মেসেজ নিয়ে ঢাকা ড্রামার ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রথম নাটক হিসাবে মঞ্চে আসে শিখন্ডী তা অভাবনীয় বলতে হবে।

প্রসিনিয়াম মঞ্চ ছেড়ে এবার বাদল সরকারেরভুল রাস্তাপথ নাটকটি চলে আসে জেপ্যাকের সামনের ঘাসি প্রাংগনে। এক সময় নেচে, গেয়ে এবং বর্ণনাত্মক ভঙ্গিতে গ্রামে গ্রামে রাজারাজরাদের কাহিনী বিবৃত হতো, সেই গ্রামীণ পদ্ধতিতে বর্ণনায় সাধারণ মানুষের জীবন আড়ালেই থেকে যেত। নিউজার্সির এপিক এ্যাকটর্স ওয়ার্কশপেরÑ থিয়েটার ইন লাইফ নিয়ে কাজ করা দুই নাট্যজন শুভাশিষ দাস তন্দ্রা দাস এই স্টোরিটেলিং পারফর্মেন্স করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যে দর্শকরা বাদল সরকারেরথার্ড থিয়েটারদেখার সুযোগ পাননি, তারা এর থেকে সেই স্বাদ পেয়েছেন, আশা করা যায়।

এর পরের নাটকটি ছিল অন ডায়ালগের যমুনা জেপ্যাক মঞ্চে। বাইরেভুল রাস্তাদেখে ভেতরে ঢুকেই দর্শকরা চমকে ওঠেন। নির্দেশক শামসুল আলম বকুলের ক্রিয়েটিভ নির্দেশনার অন্যতম হলো স্টেজ ক্র্যাফটিং। পাঁচটি বেদির ওপর পাঁচটি ভাস্কর্য নিথর। তারা মুখোশ পরে। মুখোশের মুখ মাথার পিছনে। আর ভাস্কর মঞ্চের এক কোণে বসে গছের শুকনো ডালপালা অর্থাৎ ড্রিফটউড দিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করছেন। প্রকৃতপক্ষে এই নারী একাত্তরের ধর্ষিতা। কিন্তু আজো দেশে তিনি ব্রাত্য অস্পৃশ্য। রাজনীতিকদের কুপমন্ডুকতা দেশকে কোনো সুবিচারের ধারায় আনতে পারেনি। ক্ষমতায় থাকলে এক ধরনের ন্যারেটিভ আর ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়লে সম্পূর্ণ বিপরীত ধমীর্ ন্যারেটিভ চলে আসে। সাংবাদিকের জেরায় ভাস্কর তাঁর অতীত তুলে আনেন।

সেলিনা শেলী এই পাঁচ ভাস্কর্যকে ৮টি চরিত্র হিসাবে দাঁড় করিয়ে তাদের মুখ থেকে সেইসব কথা বের করে এনেছেন, যা কেউ উচ্চারণ করতে সাহস করে না। দুর্গা, টিয়া হুসনা তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুলতানা খানম, ছয়ফল চরিত্রে শ্যাম ঘোষ, সাংবাদিক ফাহমিদা শিল্পী, রঞ্জন জিয়াউদ্দিন শিপন আর ফুল চরিত্রে রেশমা চৌধুরী। সমাজে নানাভাবে নিগৃহীত নির্যাতিত হওয়ার কথা তুলে ধরে এই বিমূর্ত যুগপত মূর্তিমান চরিত্রগুলো তাদের ভাস্কর্যের আভরণ খুলে বেরিয়ে এসে। এই নাটকটি বর্বরতার বিরুদ্ধে, ধসে পড়া রাজনীতির বিরুদ্ধে, ধমীর্য় মৌলবাদের বিরুদ্ধে এক প্রচন্ড প্রতিবাদ। নতুন আঙ্গিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবতীর্ সময়ের যে অবিমৃষ্য সমাজচিত্র তা প্রতীকী প্রকাশের মধ্যদিয়ে উঠে এসেছে নির্মম জোরালোভাবে। যমুনার ভূমিকায় তাহমিনা মোস্তফার অভিনয়ের মধ্য দিয়ে যে কঠোর বাস্তবতা উঠে এসেছে তা প্রায় দ্ব্যর্থহীন। শামসুল আলম বকুলের এই সৃজনশীল উপস্থাপনা নাটকটিকে দৃঢ়তা দিয়েছে মিথুন আহমেদের তৈরি মুখোশ, আঁকা ভাস্কর্যদের চমৎকার আভরণ এবং শিল্পিত প্রতীকী মঞ্চ।

প্রসিনিয়াম থেকে পুনরায় প্রাংগনে। এবার আমেরিকানের পরিবেশনালুক বিফোর ইউ লিপ’Ñ পথনাটক বা থিয়েটার ফর অপ্রেসডএর একটি অনবদ্য উদাহরণ। ্যাডিকেল এভোলেউশনের এই পথনাটকে নিউইয়র্কে সাবওয়ে বাসের ভাড়া বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষদের জীবনে তার তীব্র প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে সিস্টেম পরিবর্তন না করলে বাস ভাড়া না দেয়া, সাবওয়ের টার্নস্টাইল ডিঙিয়ে যাওয়ার প্রবণতা শেষ হবে না। এর সাথে এসেছে নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষদের এফোর্ডিবিলিটির নানা প্রসঙ্গ। শাণিত সংলাপ, কাব্যিক অথচ স্পষ্ট উচ্চারণ সেই সাথে নাচ গানের সমন্বয় নিউইয়র্কবাসীর হৃদয়ে দাগ কাটার কারণ এই ন্যারেটিভ শ্রমজীবী মানুষদের অনেকেই বাংলাদেশী।

এই ৩০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে শেষ নাটক ছিল ঢাকা ড্রামার। তাদের নিজেদের প্রযোজনায়নিরাকার গোলাম সারোয়ার হারুনের লেখা এবং গাগীর্ মুখাজীর্ হারুনের নির্দেশনায় এই নতুন নাটকটি বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গাজাসহ অন্যান্য এলাকার যে বৈশ্বিক সমস্যা, ব্যক্তিজীবন থেকে সমাজজীবন, সেখান থেকে রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বলয়ের ব্যত্যয়গুলো অত্যন্ত সহজ ভাষায়, সহজ ভঙ্গিতে, অথচ অদম্য কটাক্ষে নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। শুরু যেখানেই হোক একটা পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু হয় অন্যায়ের এবং জন্মাতে থাকে ঘৃণা। সেই ঘৃণা তৈরি করে মানুষে মানুষে দেয়াল, বিভেদ এবং যাবতীয় অসংগতি। যেসব কথা বলা যায় না, যেসব প্রশ্ন তুলতে অনেকে দ্বিধা করে, সংকোচ করে, সেসব কথা কথাচ্ছলে মহান ব্যক্তিদের দর্শন আদর্শকে কোট করে কখনো কটাক্ষ করা হয়েছে, কখনো তীর্যক বাণ নিক্ষেপ করা হয়েছে সমাজ সমাজপতি এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে। বর্ণনাত্মক, সংলাপপ্রধান ঘটনাবহুল একসাথে তিনটি প্রক্রিয়ায় গোলাম সারোয়ার হারুন গল্প বলেছেন। আর বিষয়গুলো হৃদয়গ্রাহী করতে তিনি হাস্যরসের উপকরণ দিয়েছেন পরিমিতির সাথে। অনেক সময় মনে হয়েছে এটা যেন আমেরিকার নব্বইএর দশকের সিটকমের মতো সেই গল্পের সাথে ত্রিভুজ প্রেমের প্রসঙ্গ নাটকটিকে অন্যদিকে টার্ন নিতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত হেইট ক্রাইমের শিকার হয়ে সাবওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মূল চরিত্রের মৃত্যু দিয়ে সমাপ্তি টানলেও মায়ের চরিত্রে রেখা আহমেদ পুরো নাটকটিকে অন্য এক দ্যোতনা এনে দেন। ভিডিওতে মায়ের চেহারা ভেসে ওঠা যে দূরত্ব পরবাসের নৈমিত্তিক যাতনাকে তুলে ধরে, ছেলের মৃত্যুর পর দর্শকদের মধ্য দিয়ে কোনো স্পট লাইট মাইক্রোফোন ছাড়াই ছেলের জন্য আকুতি জানাতে জানাতে ৮২ বছর বয়সী অভিনেত্রী রেখা আহমেদ একা একা মঞ্চে উঠে যান। এই দৃশ্য বাস্তব স্বপ্নকে দূরত্ব স্পর্শকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে সবকিছু ছাপিয়ে প্রবাসী জীবনের নির্মম দিকটি তুলে ধরেছে। নাটকে পশ্চাদপটে ভিডিওতে বারবার ট্রেন চলে যাওয়ার ছবি প্রতীকী হয়ে উঠেছে।

এই শেষ নাটকনিরাকার গোলাম সারোয়ার হারুন সমাজ, রাষ্ট্র ব্যক্তির কাছে যেসব প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, তা তার সাহসিকতাকে প্রমাণ করে। হারুন গাগীর্র স্বাভাবিক অথচ বলিষ্ঠ অভিনয় অন্য শিল্পীকে নিয়ন্ত্রণ করেছে সুচারুভাবে।

নাটকে এছাড়াও অভিনয় করেছেন লায়লা ফারজানা, টিটু গাজী, মনির হাসান ননি, জুবায়ের হোসেন, সাজ্জাদ রহমান খান, রিপন রহমান, আদিব শান, বসুনিয়া সুমন প্রতিমা সুমি। তবে যমুনা এবং নিরাকার দেখে মনে হয়েছে এই দুটি নাটকের আরো বেশি মহলা প্রয়োজন। মহলা শেষে দুটি নাটকের আরো প্রদর্শনী করা উচিত। 

সবশেষ বিশিষ্টজনদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এবং স্পন্সরদের শুভেচ্ছা জানানো হয় গুচ্ছ ফুল দিয়ে। সম্মাননা জানানো হয় অফ ব্রডওয়ের পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যজন মিশা চৌধুরী প্রজেকশন ডিজাইনার ক্যামেরন মিলকে।

নাটকের পাশাপাশি জেপ্যাকের বেসমেন্টে দেয়াল জুড়ে ঢাকার এবং প্রবাসের নাটকের প্রায় ১৫০টি পোস্টারের প্রদর্শনী হয়। নাট্যজন বাবুল বিশ্বাসের সংগৃহীত এই পোস্টারসমূহ নিউইয়র্কের নাট্যামোদীদের স্মৃতিকাতর করে তোলে। এইসব পোস্টারের অনেকগুলিই নিঃসন্দেহে আর্টপিস।

নাটকের মাঝখানে এই পোস্টার প্রদর্শনীর জায়গায় আয়োজিত হয় নাটক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা। ঢাকা ড্রামার গোলাম সারোয়ার হারুনের সঞ্চালনায় এখানে কথা বলেন ঢাকা থেকে আগত নাট্যজন . আবদুস সেলিম, লায়লা আজাদ নূপুর, অনুতোষ সাহা, এহসান হক ছোটন, সুদীপ্ত ভৌমিক, বন্যা মির্জা, মাসুদ সুমন, হীরা চৌধুরী, তমালিকা কর্মকার, শামতলী হক, বাবুল বিশ্বাস। 

ঢাকা ড্রামার ৩০ বছর পূর্তি উৎসবের নাম মাস্কস এন্ড মেটাফরস। পুরো উৎসবই মেটাফরের মধ্য দিয় মুখোশ উন্মোচনের অন্য এক তাৎপর্য তৈরি করেছে।

Related Posts