আবু সয়ীদ আইয়ুবের রবীন্দ্রনাথ || ড. জীবন বিশ্বাস নিউইয়র্ক
মানুষ কখনো কখনো একটি ভাষার কাছে আসে মাতৃপরিচয়ের সূত্রে নয়, আত্মার অনিবার্য আহ্বানে। আবু সয়ীদ আইয়ুবের বাংলা ভাষা ও রবীন্দ্রনাথের কাছে আসার ইতিহাস তেমনই এক বিস্ময়কর আত্মযাত্রা। উর্দুভাষী পরিবারে জন্ম নেওয়া কিশোর আইয়ুব অনুবাদে ‘গীতাঞ্জলি’ পড়ে এমন গভীরভাবে আলোড়িত হয়েছিলেন যে রবীন্দ্রনাথকে মূল ভাষায় জানার জন্য বাংলা শিখেছিলেন। পরে সেই অর্জিত ভাষাতেই তিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম মননশীল লেখক এবং রবীন্দ্রকাব্য ও সংগীতের অসামান্য রসজ্ঞ বিশ্লেষক হয়ে ওঠেন। পদার্থবিজ্ঞান ও দর্শনের কঠোর অনুশীলন তাঁর বিচারবোধকে দিয়েছিল যুক্তির স্বচ্ছতা, আর কবিতার প্রতি গভীর অনুরাগ সেই যুক্তিকে দিয়েছিল অনুভবের উষ্ণতা। এই দুই ধারার মিলনেই জন্ম নেয় ‘আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ’ এবং ‘পান্থজনের সখা’— বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র—আলোচনা—সমালোচনার দুটি অপরিহার্য গ্রন্থ।
১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ’ তৎকালীন সাহিত্যজগতে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। গ্রন্থটি ১৯৬৯ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করে। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘পান্থজনের সখা’ প্রথম গ্রন্থটির পরিপূরক হিসেবে রবীন্দ্রকবিতা ও রবীন্দ্রসংগীতের আরও নিবিড়, ব্যক্তিগত অথচ যুক্তিনিষ্ঠ পাঠ নির্মাণ করে। বাংলা সাহিত্যের অনেক গুণী বিশ্লেষক তাঁদের মূল্যায়নেও দ্বিতীয় গ্রন্থটিকে প্রথমটির সম্পূরক এবং রবীন্দ্রকবিতা ও গানের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আবু সয়ীদ আইয়ুবের কাছে আধুনিকতা বিদ্বজন প্রদত্ত নিছক কোনো সংজ্ঞা নয় বরং আধুনিকতায় থাকবে ইহজাগতিকতা, যুক্তিবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ। আইয়ুবের দৃষ্টিতে, কোনো রচনা সাম্প্রতিক কালে লেখা হলেই আধুনিক হয়ে ওঠে না; আধুনিকতা মূলত এক বিশেষ চৈতন্য—জগৎ, মানুষ ও অস্তিত্বকে দেখার নতুন ভঙ্গি। বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে তিনি রবীন্দ্র—প্রভাব থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষা, ভাষার স্বাতন্ত্র্য এবং প্রথম মহাযুদ্ধ—পরবর্তী মানবমনের গভীর সংকটকে আধুনিকতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করেন। আধুনিক কবির চোখে পৃথিবী শুধুমাত্র সৃষ্টির নিখুঁত শিল্পকর্ম নয়, বরং তার দেয়ালে যুদ্ধ, অন্যায়, মৃত্যু, নিঃসঙ্গতা ও অর্থহীনতার কালো দাগও সন্নিবিষ্ট হয়। আইয়ুব এই সর্বগ্রাসী চেতনাকে বলেছেন ‘অমঙ্গলবোধ’—জগৎ ও জীবনের দুঃখ, পাপ এবং অসংগতির এমন উপলব্ধি, যা আধুনিক কবির সমগ্র মানসকে আচ্ছন্ন করে রাখে।
এখানেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাঁর মৌলিক প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়; যাঁর কাব্যের অন্তঃসুর আনন্দ, ঐক্য ও বিশ্বমৈত্রী, তিনি কি আধুনিক মানুষের দুঃখচেতনার বাইরে? রবীন্দ্রবিরোধী আধুনিকতার সহজ উত্তর ছিল—হ্যাঁ। আইয়ুব সেই উত্তর মেনে নেননি। তিনি রবীন্দ্রনাথকে আধুনিক বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাঁর গায়ে কোনো সুবিধাজনক তকমাও লাগাননি, বরং অনুসন্ধান করেছেন রবীন্দ্রকাব্যের ভিতর দিয়ে অমঙ্গলবোধের বিবর্তনের ধারাকে।
রবীন্দ্রনাথের ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘কল্পনা’, ‘ক্ষণিকা’, ‘নৈবেদ্য’, ‘গীতাঞ্জলি’ ও ‘বলাকা’ এবং আরও দীর্ঘ কাব্যপথ পর্যবেক্ষণ করে আইয়ুব দেখান, রবীন্দ্রনাথ দুঃখকে অস্বীকার করেননি। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ আছে, মৃত্যুশোক আছে, ইতিহাসের নিষ্ঠুরতা আছে, সভ্যতার আত্মবিনাশ আছে। তবে অমঙ্গল সেখানে শেষ সত্য হয়ে থাকে না। রবীন্দ্রনাথ অন্ধকারের দিকে চোখ মেলে তাকান, কিন্তু অন্ধকারকেই বিশ্বসত্যের শেষ নাম বলে স্বীকার করেন না। আধুনিক কবির একাংশ যেখানে ভগ্ন পৃথিবীর ধ্বংসাবশেষে দাঁড়িয়ে বিতৃষ্ণাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেন, রবীন্দ্রনাথ সেখানে দুঃখকে অতিক্রম না করে, দুঃখের মধ্য দিয়েই বৃহত্তর অর্থের সন্ধান করেন।
আইয়ুবের এই সিদ্ধান্ত রবীন্দ্রনাথকে সরল আশাবাদী কবিতে পরিণত করে না। রবীন্দ্র—আনন্দ কোনো নির্বোধ প্রসন্নতা নয়, বরং তা বেদনার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আনন্দ। পৃথিবীতে অমঙ্গল আছেÑতবু পৃথিবী সম্পূর্ণ অমঙ্গলময় নয়। মানুষের মধ্যে লোভ ও হিংসা আছেÑতবু প্রেম, সৃজনশীলতা ও আত্মোৎসর্গও আছে। মৃত্যু অনিবার্যÑতবু মৃত্যুর উপস্থিতিই জীবনকে গভীর ও মূল্যবান করে। রবীন্দ্রনাথের এই দ্বন্দ্বময় জীবনবোধ আইয়ুবের বিচারে আধুনিকতার চেয়ে কম নয়, বরং নৈরাশ্য—অতিক্রমী এক বিকল্প আধুনিকতা।
কবির শেষ জীবনের ‘রোগশয্যায়’, ‘আরোগ্য’ ও ‘শেষ লেখা’ কাব্যে এই উপলব্ধি আরও কঠিন ও নিরাবরণভাবে উন্মোচিত। এখানে পূর্বপর্বের অলংকারময় সৌন্দর্য অনেকখানি সরে গেছে। দেহের অবক্ষয়, মৃত্যুর নৈকট্য, মানবসভ্যতার সংকট এবং অস্তিত্বের দুর্বোধ্যতা কবির সামনে রুক্ষ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু শেষ অন্ধকারের মধ্যেও তাঁর প্রশ্ন থামে না। বিশ্বাস তখন আর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নিশ্চয়তা নয়; সংশয় ও যন্ত্রণার আগুনে পরীক্ষিত এক অভিমুখ। আইয়ুব এই পর্বের রবীন্দ্রনাথকে আধুনিক মানুষের খুব কাছে দেখতে পান। কারণ এখানে কবি যেমন বিশ্বাস করেন, তেমনি প্রশ্ন করেন; যেমন আশ্রয় চান, তেমনি আশ্রয়ের প্রকৃতি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
এই পাঠের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। রবীন্দ্রনাথের আনন্দময় বিশ্বদৃষ্টিকে আইয়ুব নিষ্ক্রিয় ঈশ্বরনির্ভরতা হিসেবে দেখেননি। মানুষের দুঃখ দূর করার দায়িত্ব মানুষেরই। ক্ষুধা, শোষণ, অপমান কিংবা যুদ্ধকে কোনো মহাজাগতিক পরিকল্পনার অজুহাতে গ্রহণ করা চলে না। বিশ্বসত্তার সঙ্গে মানুষের যোগের অনুভূতি তাই পার্থিব দায়িত্ব থেকে পলায়ন নয়, বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে আরও গভীর করে। রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিকতা মাটিবিমুখ নয়—তার পা ধুলায় প্রোথিত, মুখ আলোয় উদ্ভাসিত।
আইয়ুবের ‘পান্থজনের সখা’—য় এসে এই রবীন্দ্রপাঠ আরও অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠে। গ্রন্থের নামটিই একটি সুন্দর রূপক। ‘পান্থজন’ জীবনপথের যাত্রী মানুষ। তার পথ অনিশ্চিত, ক্লান্তিকর এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে প্রবাহিত। সেই যাত্রায় রবীন্দ্রনাথ ‘সখা’Ñউপদেশদাতা গুরু নন, দূরের দেবতাও নন; পাশাপাশি চলা এমন এক বন্ধু, যাঁর গান আনন্দে ভাষা দেয়, শোকে নীরব সঙ্গ দেয় এবং সংশয়ের মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস জোগায়। লেখকের নিজের ব্যাখ্যাতেও রবীন্দ্রনাথই এই বিশেষণের লক্ষ্য, আর তিনি নিজে অসংখ্য পান্থজনের একজন।
গ্রন্থটির প্রবন্ধবিন্যাস আইয়ুবের অনুসন্ধানের বিস্তার ও বিশালতা স্পষ্ট করে। ‘রবীন্দ্রনাথের দুঃখের গান’, ‘পদ্মের মাঝখানে বজ্র’, ‘এ দুর্লভ প্রেম প্রেমের দুই রূপ’, ‘চণ্ডালিনীর ঝি ও রাজেন্দ্রনন্দিনী’, ‘পান্থজনের সখা’ ইত্যাদি শিরোনামগুলোর মধ্যেই প্রেম, দুঃখ, ঈশ্বর, মানুষ, সমাজ ও মৃত্যুকে ঘিরে তাঁর গভীর আলোচনার চিত্রটি ধরা পড়ে।
রবীন্দ্রনাথের দুঃখের গান বিচার করতে গিয়ে আইয়ুব দেখান, এই গানগুলো কেবল ব্যক্তিগত বিষাদের সংগীত নয়। ব্যক্তির কান্না কখনো বিশ্ববেদনার দিকে প্রসারিত হয়; আবার বিশ্ববেদনাও এসে আশ্রয় নেয় একটি একাকী হৃদয়ে। রবীন্দ্রনাথ দুঃখকে সৌন্দর্যে্যর আবরণে ঢেকে দেন না, কিন্তু তাকে অর্থহীনও হতে দেন না। দুঃখ তাঁর কাছে আত্মসম্প্রসারণের একটি দ্বারÑযে দ্বার দিয়ে মানুষ নিজের ক্ষুদ্র সীমানা ছাড়িয়ে অন্যের বেদনার কাছে পৌঁছায়। তাই তাঁর শোকের গান নিঃসঙ্গ মানুষকে শুধু কাঁদায় না; কান্নার মধ্যেও তাকে আরেক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি যোগায়।
রবীন্দ্রসংগীতের প্রচলিত ‘পূজা’ ও ‘প্রেম’ শ্রেণিবিভাগও আইয়ুবের কাছে অনমনীয় নয়। প্রেমের গানে প্রিয় মানুষ কখনো অসীমের আভা ধারণ করে; পূজার গানে ঈশ্বর আবার অত্যন্ত মানবিক, ঘনিষ্ঠ ও আকুল প্রিয়জন হয়ে ওঠেন। ‘তুমি’ সর্বনামটি কোথাও মানবপ্রেমিক, কোথাও জীবনদেবতা, কোথাও বিশ্বসত্তাÑআবার কোনো কোনো গানে এই পরিচয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবে পরস্পরের মধ্যে মিশে যায়। এই অস্পষ্টতা দুর্বলতা নয়, বরং রবীন্দ্রসংগীতের অসাধারণ কাব্যিক শক্তি। গভীর প্রেমে মানুষ ও অসীমের সীমারেখা সব সময় পরিষ্কার থাকে না, আইয়ুব তাই রবীন্দ্রসংগীতকে কেবল সুরবদ্ধ ধর্মবাণী বা আবেগময় প্রেমগাথা হিসেবে নয়, স্বয়ংসম্পূর্ণ উচ্চমানের গীতিকবিতা হিসেবে পাঠ করেন।
তাঁর বিশ্লেষণে ‘গীতাঞ্জলি’, ‘গীতিমাল্য’ ও ‘গীতালি’ পর্যায়ের বহুল উচ্চারিত আগমন, প্রতীক্ষা ও মিলনের প্রতীকও নতুন অর্থ লাভ করে। যিনি আসছেন, তিনি কি ঈশ্বর, প্রেমিক, মৃত্যু, না জীবনেরই পূর্ণতর আহ্বান? আইয়ুব তাড়াহুড়া করে একটিমাত্র ধর্মতাত্ত্বিক উত্তর চাপিয়ে দেন না। তিনি কবিতার বহুস্বর অক্ষুণ্ণ রাখেন। তাঁর সমালোচনার বড় গুণ এখানেইÑদার্শনিক হয়েও তিনি কবিতাকে দর্শনের দৃষ্টান্তে নামিয়ে আনেন না। কবিতার সত্য যে যুক্তিবাক্যের সত্যের মতো একরৈখিক নয়, সে সম্পর্কে তিনি সর্বদা সতর্ক।
তাঁর আলোচনায় রবীন্দ্রচেতনার সঙ্গে বাংলার লোকায়ত মানবসাধনারও একটি আত্মীয়তা প্রকাশিত হয়। এখানে মানুষকে অতিক্রম করে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া নয়, মানুষের গভীরতম সত্যে পৌঁছেই অসীমকে স্পর্শ করার আকাক্সক্ষা মুখ্য। উপনিষদের আনন্দতত্ত্ব, বাউলের মনের মানুষ এবং আধুনিক মানবতাবোধ রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে কোনো যান্ত্রিক সমন্বয়ে নয়, জীবন্ত সংলাপে মিলিত হয়েছে। কিন্তু আইয়ুবের যুক্তিবাদী মন এই আধ্যাত্মিক ভাষাকে আক্ষরিক অলৌকিকতার অনুমোদন বলে গ্রহণ করে না। তাঁর নিজের সংশয়ী, অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধ রবীন্দ্রনাথের মর্ত্যপ্রীতির সঙ্গেই সবচেয়ে গভীরভাবে যুক্ত হয়।
বাংলা ভাষার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ’ এবং ‘পান্থজনের সখা’ মিলিয়ে আইয়ুব যে রবীন্দ্রনাথকে নির্মাণ করেন, তিনি শান্ত মন্দিরে স্থাপিত কোনো অচঞ্চল প্রতিকৃতি নন। তিনি সংশয়ী মানুষের সহযাত্রার এবং দুঃখের ভিতর দিয়ে আনন্দের সম্ভাবনা সন্ধানকারী কবি। তিনি এমন এক মর্ত্যপ্রেমিক যিনি ঈশ্বরকে খুঁজতে গিয়ে মানুষকে হারান না। আবার তিনি এমন এক আধুনিক মনের অধিকারী যিনি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জীবনের প্রতি বিস্ময় হারান না। আইয়ুবের নিজস্ব কৃতিত্ব হলো, তিনি রবীন্দ্রভক্তিকে বিচারহীন বন্দনায় পরিণত করেননি, আবার আধুনিকতার নামে রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রান্ত বলেও ঘোষণা করেননি। তাঁর যুক্তি শ্রদ্ধাকে শুদ্ধ করেছে, আর রসবোধ যুক্তিকে দিয়েছে হৃদয়।
২২ শ্রাবণের নীরবতায় তাই আইয়ুবের রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে নতুন করে ফিরে আসে। সাড়ে আট দশক হল এ চরাচরে নশ্বর রবীন্দ্রনাথ নেই, কিন্তু তাঁর পদধ্বনি থামেনি। কোনো শোকের রাতে, কোনো অলস দুপুরে কিংবা হঠাৎ আনন্দে ভেসে ওঠা সকালে তাঁর গান এসে সুর শোনায়। পথের শেষ কোথায়, তা কারোরই জানা নেই। কিন্তু পথ যত দিন আছে, পান্থজনের এই সখা, রবীন্দ্রনাথও তত দিন আছেনÑপ্রশ্নে, বেদনায়, প্রেমে এবং সেই দুর্লভ আলোয়, যা অন্ধকারকে অস্বীকার না করেও মানুষকে সামনে চলতে শেখায়।
