রবীন্দ্রসংগীতের শিল্পীকুল সমীপে মুত্তালিব বিশ্বাস নিউইয়র্ক
বিগত শতকের খ্যাতিমান কিছু রবীন্দ্রসংগীত—সাধকের চিন্তাভাবনাপূর্ণ উক্তি বর্তমানের দিকভ্রান্ত রবীন্দ্রসংগীত চর্চাকারীদের উদ্দেশে নিবেদন করতে চাই। উক্তিগুলো সন্ধ্যা সেন—প্রণীত, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা থেকে ১৯৭৯ সনে প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে সংগৃহীত এবং স্মরণিকা হিসেবে উদ্ধৃত।
*উদ্ধৃতি এক— “পাশ্চাত্য সংগীত শুধুমাত্র স্বরলিপি নির্ভর হতে পারে কারণ তাঁদের সংগীতধর্ম আলাদা। ভারতীয় সংগীতে এ নিয়ম পুরোপুরি খাটে না। কারণ ভারতীয় সংগীত ভাবগম্ভীর এবং সৃষ্টিশীল। এখানে প্রতি মুহূর্তে শিল্পীর নিজেকে মেলে ধরার অবকাশ আছে।”—অমিয়া ঠাকুর, পুস্তক—পৃষ্ঠা—৯।
*উদ্ধৃতি দুই— “...[এখনকার]...যাঁরা গাইছেন তাঁদের তাল, মান, লয় আগের চেয়ে অনেক উন্নত সন্দেহ নেই। কিন্তু ভাবের সেই ছোঁওয়া কই? তার কারণ হয়ত স্বরলিপি নির্ভরতা।...স্বরলিপি দেখে সুর তুলে তালের সঙ্গে সেট করে নিয়ে নির্ভুলভাবে গাইলে সে রূপ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। কারণ প্রথমটিতে থাকে একটা ভাবকে নিজের অনুভবলোকে সত্য করে তোলার আকুলতা, অন্যটিতে সতর্ক মনের সচেতন পাহারাদারী—এদিক ওদিক ভয়ে ভয়ে দেখে পা টিপে চলা। যেন ভুল না হয়। অন্তর্মুখী চেতনা ও বহির্মুখী যতন—এ দুয়ের মধ্যে একটা তফাত থাকবেই।
“আমরা যখন রেকর্ড করতাম তখন মিউজিক বোর্ড, অথবা সংগীতগুরুদের অনুমোদন এ সবের কোনো বালাই ছিলো না—। তার ফলে অনেক বেসুরো গানও রেকর্ড হয়ে বেরোতো।
“আমাদের সময়ের গান তালে বড় একটা গাওয়া হতো না অধিকাংশ রেকর্ড—এর গানই তালবিহীনভাবে গাওয়া হয়েছে।” —কনক বিশ্বাস, পুস্তক—পৃষ্ঠা—২০।
*উদ্ধৃতি তিন— “এতজন শিল্পী রবীন্দ্রসঙ্গীত গায় কিন্তু কারো স্টাইলই গুরুদেবের স্টাইল বলে কানে লাগে না...একমাত্র জর্জ ঠিক গায়। ওঁর গলা এক্সপ্রেশন, অনুভবের গভীরতা, সব মিলিয়ে যে স্টাইলটি ফুটে ওঠে সেইটেই রবীন্দ্রভাবনার স্বরূপ। মেয়েদের মধ্যে মোহর, সুচিত্রা, নীলিমা —ইদানীংকালের শিল্পীদের মধ্যে খুকু (ঋতু গুহঠাকুরতা), সুমিত্রা সেন, অর্ঘ্য সেন এদের গানও আমার খুব ভালো লাগে। হেমন্তর কয়েকটি গান এত ভালো লেগেছে ভোলা যায় না।” পুস্তক—পৃষ্ঠা ৩৫।
“...উনি [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর] গান রচনা করার সঙ্গে সঙ্গেই দীনুদা স্বরলিপি করে নিতেন। একটা গান সকালে হয়ত ভৈরবীতে সুর দিলেন। আবার বিকেলে গাইবার সময় গাইলেন খাম্বাজে। দীনুদা সকালের সুর শোনাতেন। বলতেন, দীনু তুই ভুল সুর করছিস। ...দীনু দা সঙ্গে সঙ্গে স্বরলিপি দেখিয়ে দিতেন। আর কবি ছেলেমানুষের মতো অপ্রস্তুত মুখ করে বসে থাকতেন।” —সতী দেবী, পুস্তক—পৃষ্ঠা ৪১।
*উদ্ধৃতি চার— “...কিন্তু আমরা আজকাল সাধারণত যেসব শিল্পীর গান শুনতে পাই, তাদের গলা শুনে আমাদের মন ভরেনা। আমি বলছি বিশেষ ছেলেদের কথা। তাদের কারো কারো কন্ঠেই ওজস, পৌরুষ—এসব পুরুষোচিত শক্তি—সম্পদের যে আবেদন তার কোন পরিচয়ই পাই না। তাদের কণ্ঠস্বর শুনে মনে হয় শক্তিহীন, দুর্বল, শুধু মিষ্টত্বেরই পূজারী। অথচ গাইয়ে তারা সত্যই ভালো। ...এখনকার এইসব চাপা চাপা অস্বাভাবিক কণ্ঠ শুনে আমাদের—যারা আজীবন স্বাভাবিক খোলা গলার গান গেয়ে এসেছি, প্রাণ এক এক সময় হাঁপিয়ে ওঠে। মাইক আমাদের এক দিক দিয়ে যেমন উপকার করেছে, তেমন একদিক দিয়ে কত যে ক্ষতি করেছে তাই ভাবি। মাইকের যুগে স্বাভাবিক গলায় কেউ আর বড় গায় না, তার মূল্যও কেউ ধরে বলে মনে হয় না। মাইকে আবার সকলের গলা সমান আসে না। কারো কারো খুবই ভালো আসে অন্যদের তুলনায়। ...কারুরই আসল গলার শোনা আমাদের ভাগ্যে হয় না।” —সাহানা দেবী, পুস্তক—পৃষ্ঠা ৪৪।
*উদ্ধৃতি পাঁচ— “অসংখ্য বন্ধন মাঝে মহানন্দময় লভিব মুক্তির স্বাদ”—রবীন্দ্রনাথের গানের সম্বন্ধে এইটাই হলো আমার প্রধান ও শেষ কথা।” পুস্তক পৃষ্ঠা ৫৬।
“...বাক, বীটোফেনের মৌলিক সংগীতকে সংরক্ষণ করেও ইউরোপীয় সংগীতকার তাদের নতুন ইন্টারপ্রিটেশন দিতে পারেন। ঠিক এই অ্যাপ্রোচের প্রচুর অবকাশ রবীন্দ্রসঙ্গীতেও আছে। তবে নিজেদের খুশি মত পরিবর্তন ও তছনছ করার নাম যথার্থ পরিবেশনা নয়। আগে অর্জন করতে হবে সংরক্ষণের গর্ব, তারপর আপন নিয়মেই আসবে ব্যাখ্যানার [ব্যাখ্যানের?] শক্তি ও অধিকার। সংরক্ষণ ও আবহমানতার মধ্যে ঠিক একটা ভারসাম্য বা সমন্বয় না ঘটলে এ—বস্তু সম্ভব নয়।
“রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভাবগভীরতা, কথার অন্তর্নিহিত গভীর অর্থ না বুঝে কি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া যায়?”— জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, পুস্তক—পৃষ্ঠা ৫৯।
*উদ্ধৃতি ছয়— “গুরুদেবের গানের শক্তি রয়েছে তাঁর অনুপম ব্যক্তিত্বে। এ গান চলবে সেই জোরেই।” পুস্তক পৃষ্ঠা ৮৫।
“দ্বিতীয় যুদ্ধ হলো বিশ্বভারতী সোসাইটি সৃষ্টির পরের যুগ। প্রথম যখন সোসাইটি রেজিস্টার্ড হলো, কবি যেন কিছু চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। ছাত্র সমাজের এই সহজ, স্বচ্ছন্দ জীবনপ্রবাহ যদি নিয়মের নিগড়ে প্রতিহত হয়? এই সময় এন্ড্রুজ সাহেবকে লেখা চিঠিপত্রে এই আশঙ্কাই প্রকাশ পেয়েছিলো। ভয় জেগেছিলো, আইনটাই বুঝি বড় হয়ে ওঠে। ‘অচলায়তন’, ‘ডাকঘর’ ‘শারদোৎসব’—ঠিক এর আগের যুগে সৃষ্টি। নিয়ম, প্রথা এসবে কবির বড় আতঙ্ক ছিলো। সহজ প্রাণের উচ্ছল গতি অপ্রতিহত থাক— শান্তিনিকেতনের মূলমন্ত্র ছিলো তাই।
“... কবির বিশেষ পদ্ধতি ছিলো ছোটদের শিক্ষার জন্য একটু কঠিন বস্তু দেওয়া। যাতে তারা ভাবতে শেখে। ‘সাহিত্য’ ধরনের কঠিন ও চিন্তাপ্রধান বই ম্যাট্রিকের দু’বছর আগেই আমাদের শেষ [হয়ে?] গিয়েছিলো। শিশুরা যতটা বুঝতে পারে —তার চেয়ে একটু উঁচু স্ট্যান্ডার্ডে শিক্ষা দিতে চাইতেন বলে লাইব্রেরীতেও সেই ধরনের বই রাখতেন। [তাঁর] মতে ছোটদের এমন জিনিস দিতে হবে— যা তখনই হয়ত আসিমিলেট করতে পারবে না, কিন্তু অবোধ্য বিষয়কে বোঝবার চেষ্টাতেই চিন্তাশক্তি জাগ্রত হবে। তারপর হঠাৎই একদিন তাদের অনুভবের দরজাটা খুলে যাবে। এই দরজাটা খোলবার জন্যই কঠিনের ধাক্কার প্রয়োজন আছে।” পুস্তক—পৃষ্ঠা ৮৬—৮৭।...
“১৯৪০ সাল থেকে শান্তিনিকেতনে পুরোপুরি নাচ এলো।...প্রথম সুপরিকল্পিত নৃত্যনাট্য হলো ১৯২৬ বা ২৭ সালে, খুব সম্ভব, ‘নটীর পূজা’।”...পুস্তক—পৃষ্ঠা ৮৯।
“...কোনোরকমে স্বরলিপি অনুসরণ করে গান গেয়ে তার সঙ্গে নৃত্যভঙ্গি জুড়ে দিয়েই নিশ্চিন্ত। অভিনয়ের মাধ্যমে কবির চিন্তা কতখানি ফুটে উঠলো সে চিন্তার ছায়া কই? আমরাও প্রথমটা সৌখিন হিসেবেই শুরু করেছিলাম। তারপর কবির ক্রমাগত তত্ত্বাবধানে ও সকলের সমবেত চেষ্টায় অভিনয় গান ও নৃত্যের সঙ্গে টেকনিক এমন করে মিশে গেছে যে আজ আর চেষ্টা করেও আলাদা করা যায় না।
[টেকনিকটা হচ্ছে] “গানের মেজাজটাকে নাচ দিয়ে বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া। কোন কথায় ও সুরে কিভাবে আকসেন্ট দিলে তার অন্তরের রূপ মূর্ত হয়ে উঠতে পারে এই বোধ বা তাগিদেই মনিপুরীর কোমল সুষমা ও কথাকলির নাট্যরূপের ছায়া আপনা থেকেই নাচে এসে পড়তো।
“এই বোধের অভাবেই গুরুদেবের অমন ভাবসমৃদ্ধ গানও অনেক সময় ড্রইংরুম সং হয়ে পড়ে।” পুস্তক পৃষ্ঠা ৯২—৯৩।
“ইয়ং জেনরেশন তার গান গাইবেন, বুঝবেন, এটা তিনি অন্তর থেকে চাইতেন।
“[গানের সম্বন্ধে তাঁর কোনো বিধিনেষেধ] প্রথম দিকে একেবারেই ছিলো না। তখন তাঁর গান যে—কেউই নিজের বা অন্যের সুর গাইতেন। বার্ক সাহেব তাঁর গান গেয়েছিলেন। উদাহরণ [উচ্চারণ?] সুর কোনোটিই সঙ্গীত রসিকের মনোহরণ করার মত নয়। কিন্তু কবি বাধা দেন নি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন এ—গানের অনুভূতিটা সবার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ুক।
“১৯২৫ সাল থেকে বিশ্বভারতীর অনুমতি, রয়ালটি ইত্যাদির প্রবর্তন করা হয়। প্রথমত শান্তিনিকেতন গড়বার জন্য অর্থের প্রয়োজন ত ছিলই। তাছাড়া এ—গানের স্বাতন্ত্র বা বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার তাগিদটাও কম নয়।
[সন্ধ্যা সেন—এর জিজ্ঞাসা: গায়কী সম্বন্ধে তাঁর কি কোনো নির্দিষ্ট রূপ বা নকশার ধারণা ছিলো?] জবাবে [তিনি] বলেন: “একেবারেই না। ...এখানে কোনো নিয়ম বেঁধে দিলে গানের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগটা নষ্ট হয়ে যায়। —এ সম্বন্ধে গুরুদেবের উদারতা ছিল আমাদের ধারণার অতীত।
“একটি উদাহরণ। শাহানা দেবী ছিলেন এদিক দিয়ে তাঁর সবচেয়ে স্নেহের পাত্রী। তাঁর গাওয়া গান সম্বন্ধে গুরুদেবের অভিমত ছিলো— তুমি যখন আমার গান করো শুনলে মনে হয় আমার গান রচনা সার্থক হয়েছে।
“কিন্তু সাহানা দেবী ত গাইতেন দিলীপ রায়ের ছাঁদের গান? ...শিল্পীর স্ব—ধর্ম কথাটায় উনি ভারী বিশ্বাস করতেন। তার ওপর চাপ দিয়ে স্বভাববিরুদ্ধ কিছু করিয়ে নেবার ওপর তাঁর আস্থা একেবারেই ছিলো না।
[রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গতে পাশ্চাত্য যন্ত্র বা সঙ্গীত প্রয়োগে বিষয়ে শান্তিদেব ঘোষের উক্তি:] “ও দেশের জীবনধারা অনুসারেই গড়ে উঠেছে সংগীতচিন্তা। ওদের গানে স্বর প্রয়োগের পদ্ধতি হার্মানাইজেশন—সবকিছু ওদের সংগীতের এক্সপ্রেশনের সঙ্গে সুন্দরভাবে খাপ খেয়ে যায়। সেই—রকম যদি গানের ভাবের বিকাশের সহায়ক হয়ে ওঠে সেখানে ইস্টার্ন বা ওয়েস্টার্ন মিউজিক এরকম কোনো জাত বিচার নিরর্থক। আর যদি ভাবের অনুকূল না হয় তবে কোনো মিউজিকেরই সার্থকতা নেই। পুস্তক—পৃষ্ঠা ৯৫।
“...আজ গুরুদেবের গান দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।...
“[অচিরেই] যারা তাঁর কাব্য দর্শন কিছুই বোঝে না... তাদের কাছেও তিনি আপনার জন হয়ে উঠবেন।
“বাউল গান দ্যাখো না? অনেক হেঁয়ালি আছে। এক কথার অনেক মানে। সেসব গানের মানে বুঝতে হলে আমাদের বই খুলতে হবে। কিন্তু ওরা সহজ আনন্দে গেয়ে যাচ্ছে। অমনই মুক্ত প্রাণের প্রবাহে তিনি মিশে থাকবেন।” —শান্তিদেব ঘোষ, পুস্তক—পৃষ্ঠা ৯৬।
*উদ্ধৃতি সাত— “রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবার সময় যে কথাটি সবচেয়ে বেশি মনে রাখা দরকার তা হলো এ সংগীতের কাব্যধর্মিতা। [তিনি] ভারী স্পর্শকাতর ছিলেন কথার সৌন্দর্য বিষয়ে। ...তাঁর গান যাঁরা গাইবে কথার মাধুর্যের বিকাশের প্রতি তাদের লক্ষ্য থাক এই ইচ্ছেই তিনি নানা ভাবের প্রকাশ করেছেন। ...[এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি স্মরণীয়]: ‘তাঁহারা গানের কথার ওপর সুরকে দাঁড় করাইতে চান, আমি গানের কথাগুলিকে সুরের ওপর দাঁড় করাইতে চাই।’ ” —শুভ গুহঠাকুরতা (কলকাতায় ‘গীতবিতান’ ও ‘দক্ষিণী’র’ প্রতিষ্ঠাতা), পুস্তক—পৃষ্ঠা ১০৩।
কৈফিয়ৎ, তথা উপসংহার, হিসেবে কিছু কথা:
বাহুল্যবোধে এবং পাছে পাঠকদের কাছে বিরক্তিভাজন হতে হয়, সেই ভয়ে, সন্ধ্যা সেনে—র পুস্তকটিতে নীহারবিন্দু সেন, পঙ্কজ মল্লিক, শৈলজারঞ্জন মজুমদার, অর্ঘ্য সেন, অরবিন্দ বিশ্বাস, অরুন্ধতী দেবী, অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতু গুহঠাকুরতা, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, কানন দেবী, দেবব্রত বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র প্রমুখ অভিজ্ঞ জনদের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া উদ্ধৃতিযোগ্য উক্তিসমূহ সংযোজিত হলো না।
বিভিন্ন সময়ে ও উপলক্ষে সংগীত বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যা—যা বলেছিলেন ও লিখেছিলেন সে—সবের সংকলন হিসেবে প্রকাশিত ‘সংগীতচিন্তা’ নামক পুস্তক থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া পরিহার করা হয়েছে, কারণ, ওই পুস্তকে যত—যা—কিছু আছে তার সঙ্গে রবীন্দ্রসংগীত—শিল্পীদের সম্যক পরিচয় আছে। আমার বিশ্বাস, পুস্তকটির অন্তর্ভুক্ত রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় কথা স্মরণে রেখেই, পাঠকেরা বক্ষ্যমান লেখায় ব্যবহৃত উদ্ধৃতিগুলো পড়বেন এবং সেগুলোর যথার্থতা, সঙ্গতি—অসঙ্গতি, স্ববিরোধিতা, যুগোপযোগিতা ইত্যাদি বিবেচনাপূর্বক নীতিনির্ধারণে সচেষ্ট হবেন।
যে—সব বিদগ্ধ ব্যক্তির উক্তি থেকে উদ্ধৃতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে রবীন্দ্রসংগীতের ক্ষেত্রে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা ও যোগ্যতাসূচক পরিচয় দেবার প্রয়োজন বোধ করিনি। কারণ, রবীন্দ্রসংগীত—সংশ্লিষ্ট মহলে তাঁদের সকলেই যথেষ্ট সুবিদিত।
বক্ষ্যমান লেখকের নিজস্ব কোনোরূপ মতামত এখানে অবান্তর। প্রতিটি পাঠক তাঁর নিজস্ব চিন্তা—ভাবনা এবং বিচার—বিবেচনা প্রয়োগ করতে—করতে লেখাটা পড়বেন, আর, স্থির সিদ্ধান্তে সুস্থিত হবেন—এটাই বিশেষভাবে কাম্য।
