ম্যানহাটানের স্ট্র্যান্ড বুকশপে পি.পারমিতার ডেব্যু উপন্যাসের প্রকাশনা

বাঙালী প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আমেরিকান লেখক পি. পারমিতার প্রথম উপন্যাসএ্যাপেটাইটএর প্রকাশনা উপলক্ষে ম্যানহ্যাটানের স্ট্র্যান্ড বুক শপে আলাপচারিতা বুক সাইনিং হয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। ইউনিয়ন স্কয়ারের এই বুকশপে পি. পারমিতার সাথে আলাপচারিতায় অংশ নেন ব্রুকলীনে বাস করা লেখক হ্যালি জেকবসন। হ্যালির প্রথম উপন্যাসওল্ড এনাফনিউইয়র্ক টাইমসের এডিটর্স চয়েসে নির্বাচিত হয়।

স্ট্র্যান্ডের তিনতলায় দুর্লভ বইএর সংগ্রহকে ব্যাক ড্রপে রেখে মুখোমুখি প্রায় ঘন্টাখানেক কথা বলেন এই দুই তরুণ লেখক। যেহেতু অনুষ্ঠানটি ছিল পারমিতার ডেব্যু উপন্যাসের প্রকাশ উপলক্ষে, তাই হ্যালি জেকবসন প্রশ্ন করেন পি. পারমিতাকে। পারমিতা সুন্দরভাবে সেসব প্রশ্নের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেন।

হ্যালি জেকবসনের প্রশ্নগুলি ছিল এইরকমঃ এ্যাপেটাইট উপন্যাসে রেসলিং খাবারের কথা প্রসঙ্গে পারমিতা উল্লেখ করেছেন রেসলিং অনলাইনে প্রত্যক্ষ করলেও রান্নার বিষয়টি অফলাইনে অর্থাৎ নিজে করতে হয়। অথচ এই দুটি বিষয়ই তার প্রিয়। তিনি কীভাবে এই দুই মেরুর দুই বিষয়কে এত সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করেছেন?

অপর একটি প্রশ্ন ছিল এমনঃ খাবার নিয়ে লেখালেখি মানুষের ইন্টিমেসির চেয়েও কঠিন বলে তার কাছে মনে হয়। এ্যাপেটাইটে খাবার নিয়ে লেখার অংশ পড়তে গিয়ে হ্যালি জেকবসন জানান তার জিভে পানি চলে এসেছিল। এমন আন্তরিকতা কীভাবে পেলেন তিনি?

এ্যাপেটাইটে পারমিতা বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সাথে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের যে সংযুক্তি তৈরি করেছেন, তাও অত্যন্ত নিপুণ বলে উল্লেখ করেন হ্যালি।

কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেনের একটি ফ্যান্সি রেস্টুরেন্টে প্রেপ কুক হিসাবে কাজ করা জারিনা বেশি কাজ করেও বেতন পায় খুব কম। তা সত্ত্বেও রেস্টুরেন্টের বেঁচে যাওয়া খাবার সে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশী খাবারের সাথে মিশিয়ে খায়। এর বাইরে তার সবচেয়ে বড় প্যাশন প্রফেশনাল রেসলিং দেখা। তার প্রিয় রেসলার ছিল সিয়েরা মিস্ট। সিয়েরা তার কাছে সুপার হিরো। এক রাতে জারিনা সিয়েরা মিস্টকে নিয়ে পোস্ট দিলে একটি অভাবনীয় ঘটনা ঘটে। সিয়েরা এই পোস্টের উত্তর দেয়। জারিনার যেন স্বপ্ন পূরণ হয়। তাদের ফ্রেন্ডশিপ তার কাছে জীবনের যেন সব কিছু। সে সিয়েরার অবৈতনিক পারসোনাল এ্যাসিস্ট্যান্ট হতে চায়। কিন্তু অচিরেই সেই স্বপ্ন হুমকিতে পতিত হওয়ার আশংকা তৈরি হয়।

এ্যাপেটাইট উপন্যাসের ব্যাক কভারে এভাবে এর কাহিনী সংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।

পি. পারমিতা বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের মেয়ে। তিনি ২০১৪ সালে আন্ডারগ্র্যাড পড়তে ম্যাসাচুসেটসের ওয়েলসলি কলেজে ভর্তি হন। গ্রাজুয়েশন শেষে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ক্রিয়েটিভ রাইটিংএ এমএফএ করেন। বর্তমানে সাদার্ন কানেকটিকাট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিয়েটিভ রাইটিংএর এডজাংক্ট শিক্ষক হিসাবে পড়ান।

বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানেএ্যাপেটাইটউপন্যাস থেকে পড়ে শোনান পারমিতা। এবং উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

বইটি প্রকাশ করেছে পেংগুইন ্যান্ডম হাউজ প্রকাশনা সংস্থার দ্য ডায়াল প্রেস।

Related Posts