সুপারস্টার সালমান খানের জেলজীবন
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে পর্দায় সবসময়ই আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী চরিত্রে দেখা যায়। তবে বহু বছর আগে কাটানো তাঁর কারাবাসের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। সম্প্রতি ভাই সোহেল খানের রিয়্যালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’—এ হাজির হয়ে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি শেয়ার করেন ‘ভাইজান’। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের সঙ্গে আলাপচারিতার একপর্যায়ে সালমান খান জানান, জেলের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও কষ্টকর। তাঁর ভাষায়, একটি ছোট কক্ষে ৫০ থেকে ৭০ জন বন্দিকে একসঙ্গে থাকতে হতো। পুরো কক্ষের জন্য ছিল মাত্র একটি ভারতীয় ধাঁচের শৌচাগার, যা ছিল অপরিষ্কার ও নোংরায় ভরা। এমনকি শৌচাগারের দেয়ালে টিকটিকি ঘুরে বেড়াত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সালমান বলেন, জেলে থাকার সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হতো শৌচাগার ব্যবহার করতে। সেই পরিবেশ মানিয়ে নেওয়া ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হত্যা মামলায় বিভিন্ন সময়ে পুলিশি হেফাজত ও কারাগারে থাকতে হয়েছিল সালমান খানকে। একাধিক দফা মিলিয়ে প্রায় ১৮ দিন তিনি কারাবন্দি ছিলেন। এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে সালমান জানিয়েছিলেন, তিনি জেলে মানসিকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কারণ, তাঁর বিশ্বাস ছিল তিনি যে অভিযোগে অভিযুক্ত, সেই অপরাধ তিনি করেননি। তাই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আত্মবিশ্বাস হারাননি।
এদিকে ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন সালমান খান। আসন্ন সিনেমা ‘মাতৃভূমি’র প্রস্তুতির জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর ওজন কমে যাওয়া নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও অভিনেতা নিজেই জানিয়েছেন, এটি চরিত্রের প্রয়োজনে নেওয়া পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। তাঁর এই নতুন রূপ এবং জেলজীবনের অকপট স্বীকারোক্তি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্য দিকে, সালমান খানকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। তার অভিনয়জীবন, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে নানা অভ্যাসও প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে। এবার অভিনেতাকে নিয়ে বহু বছরের পুরোনো এক মজার ও ব্যতিক্রমী স্মৃতির কথা শেয়ার করেছেন প্রযোজক ও শিল্পপতি শৈলেন্দ্র সিং। শৈলেন্দ্র জানান, একসময় মুম্বাইয়ের বিখ্যাত গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে প্রতি সোমবার নিয়মিত আড্ডা ও পার্টির আয়োজন হতো। তিনি সেই আড্ডার নিয়মিত অতিথিদের একজন ছিলেন। সেখানেই কাছ থেকে দেখেছেন সালমান খানের একটি অদ্ভুত অভ্যাস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খাওয়ার সময় সালমান ডাইনিং টেবিলের সামনে থাকা আয়নার দিকে তাকিয়ে বসতে পছন্দ করতেন। শুধু তাই নয়, নিজের প্রতিবিম্বের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই কথাও বলতেন তিনি। তবে সবচেয়ে অবাক করা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন এক সোমবারের আড্ডায়। শৈলেন্দ্র বলেন, সালমান তখন আরাম করে বসে বিরিয়ানি খাচ্ছিলেন। এমন সময় গ্লাভস পরা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে এক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি সালমানের মাথার ত্বকে সুচ প্রয়োগ করতে শুরু করেন। ঘটনাটি দেখে বিস্মিত হয়ে আয়নার মাধ্যমে সালমানকে ইশারায় কী হচ্ছে জানতে চান শৈলেন্দ্র। জবাবে অভিনেতা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলেন, অভিনেতা হওয়ার মূল্য তো দিতেই হবে, ভাই।
মজার বিষয় হলো, চিকিৎসার সময় কোনো ধরনের অস্বস্তি প্রকাশ না করে সালমান আগের মতোই বিরিয়ানি খেতে থাকেন। পরে শৈলেন্দ্র জানতে পারেন, সালমান আসলে ‘প্লেটলেট—রিচ প্লাজমা’ (পিআরপি) থেরাপি নিচ্ছিলেন। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে নিজের রক্ত থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা ব্যবহার করে চুল পড়া কমানো ও নতুন চুল গজাতে সহায়তা করা হয়। শৈলেন্দ্র বলেন, সে সময় তিনি চিকিৎসাটি সম্পর্কে জানতেন না। তবে বর্তমানে চুলের যত্ন ও পুনরুদ্ধারে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। তার মতে, বয়সের সঙ্গে চুল পাতলা হয়ে গেলে অনেক তারকাই এখন পিআরপি থেরাপির শরণাপন্ন হন।
অ্যালায়েন্সে সালমানের চমক
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’—এর সেটে দেখা গেছে। এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও তার উপস্থিতির কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন কোনো বিশেষ পর্বে অতিথি হিসাবে দেখা যেতে পারে এ তারকাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে তারকাখচিত প্রতিযোগী, নাটকীয় মোড় এবং আবেগঘন মুহূর্তের কারণে ‘অ্যালায়েন্স’ বেশ আলোচনায় রয়েছে। শোটির অন্যতম আলোচিত প্রতিযোগী অভিনেতা ও নির্মাতা সোহেল খান। রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়া নিয়ে শুরুতে দ্বিধায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
শোটির আবেগঘন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যখন সোহেলের সাবেক স্ত্রী সীমা সাজদেহ ওয়াইল্ডকার্ড প্রতিযোগী হিসাবে ‘অ্যালায়েন্স’—এ যোগ দেন। তাদের উপস্থিতি দর্শকদের সামনে সাবেক এ দম্পতির বর্তমান সম্পর্কের এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। শো চলাকালে সীমা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পরে এক উচ্ছেদ পর্বে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন।
বিদায়ের আগে সীমা জানান, শোয়ের পরিবেশ তার জন্য মানসিকভাবে বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল এবং তিনি সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। তার বিদায়ে সোহেল খানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, যা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
এমন আবেগঘন ঘটনার মধ্যেই সালমান খানের সেটে উপস্থিতি নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন ভিডিওতে তাকে শুটিং লোকেশনে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও তিনি আদৌ শোয়ের কোনো পর্বে অংশ নিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি তিনি বা নির্মাতারা।
সালমানের উপস্থিতির পাশাপাশি তার স্টাইলিশ লুকও ভক্তদের নজর কেড়েছে। নীল শার্ট, ফেডেড কালো ডেনিম, হালকা বাদামি কাউবয় হ্যাট এবং পরিচিত ফিরোজা পাথরের ব্রেসলেট—সব মিলিয়ে তার ওয়েস্টার্ন কাউবয়—অনুপ্রাণিত সাজ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’—এর সফল সঞ্চালক হিসাবে সালমান খানের অভিজ্ঞতা সুবিদিত। তাই তিনি যদি ‘অ্যালায়েন্স’—এ সত্যিই বিশেষ অতিথি হিসাবে হাজির হন, তবে সেটি চলতি মৌসুমের অন্যতম বড় আকর্ষণে পরিণত হবে বলে মনে করছেন বিনোদন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ভাই সোহেল খানের সঙ্গে তার কথোপকথন কিংবা প্রতিযোগীদের উদ্দেশে দেওয়া পরামর্শ দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
কুনাল খেম্মু সঞ্চালিত ‘অ্যালায়েন্স’—এ আরও অংশ নিয়েছেন ডেইজি শাহ, কুশল ট্যান্ডন, অলি গনি, জায়েদ দরবার, মিনি মাথুরসহ বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। এখন শুধু অপেক্ষা নির্মাতাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার, সত্যিই কি ‘অ্যালায়েন্স’—এর মঞ্চে দেখা যাবে বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানকে, নাকি সেটে তার উপস্থিতি ছিল অন্য কোনো কারণেই।
এদিকে সালমান বর্তমানে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।
