বিশ্বজুড়ে ডানপন্থার বিরুদ্ধে গণজাগরণ || ইশান থারুর

উত্তর ভারতের চণ্ডীগড় শহরে এক কুয়াশাচ্ছন্ন সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনীশ গাওয়ান্ডে খবর দেখতে বসেন। আগের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে থেকেই তিনি একটি খবরের অপেক্ষায় ছিলেন। প্রায় ৯ হাজার মাইল দূরে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় তাঁর এই জয় দুই সপ্তাহ আগেও অনেকের কাছে অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল।

বামপন্থী এই নেতা জনমত জরিপ ও বিভিন্ন পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে আবারও ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি করেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও অসংখ্য মানুষ এতে যুক্ত হন। এমনকি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম দফায় যারা তাঁকে ভোট দেননি, তাদের মধ্য থেকেও লাখ লাখ ভোটারকে নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হন তিনি।

লুলার এই প্রত্যাবর্তন অনীশ গাওয়ান্ডেকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। গাওয়ান্ডে ভারতের একটি বিরোধী দলের জাতীয় মুখপাত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের তিনি একজন সরব সমালোচক। টেলিভিশনের সন্ধ্যাকালীন আলোচনা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সবখানেই তিনি সরকারের নীতির বিরোধিতা করেন।

২০২০ সালে মোদি সরকার ব্রাজিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানালে গাওয়ান্ডে এর প্রতিবাদ করেছিলেন। বলসোনারো সমকামিতাবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর শাসনামলে আমাজন রেইনফরেস্ট ধ্বংসও বেড়েছিল। গাওয়ান্ডের কাছে এসব কর্মকাণ্ড মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির বিভেদমূলক ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতিরই প্রতিফলন ছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাওয়ান্ডে ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেন—জি আন্দোলনকে সমর্থন করে আসছেন। এই আন্দোলন মোদি সরকারের শাসনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভ থামাতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে।

গাওয়ান্ডের ভাষায়, ‘এই বিক্ষোভগুলো দেশে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে।’ ভারতের বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারা অর্থনীতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণ নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্দেহজনক নানা কারণে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

‘উগ্র ডানপন্থার ট্রেন’

ব্রাজিলে লুলার জয়ের মধ্যে গাওয়ান্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ ও রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী জোট গড়ে তুলতে পারে।

গাওয়ান্ডে বলেন, লুলার বিজয় দেখিয়েছে, ‘বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি বহুমুখী জোটও তৈরি করা যেতে পারে, যা মোদির বিজেপির বিপুল ক্ষমতার মোকাবিলা করতে পারবে।’

লুলার জয়ের পর ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছিলেন, ‘ব্রাজিলে যদি এটা সম্ভব হয়, তাহলে ভারতেও সম্ভব।’

বিশ্বজুড়ে প্রগতিশীলদের নতুন আশা

গাওয়ান্ডের মতো আশাবাদী হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিকেরাও। ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদি, জাইর বলসোনারো এবং তাঁদের মতো নেতাদের উত্থানের পর দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল ও উদারপন্থীরা হতাশায় ভুগছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।

স্পেনের মধ্য—বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ব্রাজিলে যা ঘটেছে, স্পেনেও তা ঘটতে পারে। শক্তিশালী হয়ে ওঠা ডানপন্থীদের মোকাবিলা করতে তিনি আগাম নির্বাচন ডেকেছেন।

সানচেজের ভাষায়, ‘বিশ্বজুড়ে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রত্যাবর্তন কেবল শুরু হয়েছে।’

ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দোমিনিক দ্য ভিলপ্যাঁও লুলার বিজয়কে আশার বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন। ফ্রান্সে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চরম ডানপন্থীদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন স্থানে গণবিক্ষোভ চলছে।

লুলার জয় নিয়ে দ্য ভিলপ্যাঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রপন্থীরা গণতন্ত্র নিয়ে এক বিশাল বৈশ্বিক লড়াইয়ের প্রথম পর্বে জয়ী হয়েছেন।’

তবে এই উচ্ছ্বাস কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে পশ্চিমা বিশ্বের ডানপন্থীরাও বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ের পর বড় বড় দাবি করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উচ্ছ্বাস অনেক ক্ষেত্রেই ম্লান হয়ে গেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থার জটিলতার মধ্যে পরিবর্তনের আশা হারিয়ে গেছে।

লুলার বিজয় বলসোনারো পরিবারের আরও দুটি বড় পরিকল্পনাকেও বাধাগ্রস্ত করেছে। একটি হলো ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা, অন্যটি দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা।

নির্বাচনের আগে লুলা নিজেকে ব্রাজিলের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রভাব থেকে ব্রাজিলকে রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং ধনী ও ক্ষমতাবানদের সমালোচনা করেন। অর্থাৎ, তিনিও নিজের মতো করে জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি করেছেন।

নির্বাচনের পর বলসোনারো কিছু সময়ের জন্য ফলাফলকে অবৈধ বলে দাবি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের ডানপন্থী নেতারাও শেষ পর্যন্ত লুলার বিজয় মেনে নেন।

ডানপন্থী বিশ্বজোটেও ফাটল

বলসোনারোর পরাজয় এবং এ বছরের শুরুতে হাঙ্গেরিতে দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ক্ষমতাচ্যুতি—এই দুটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। কারণ, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর ডানপন্থী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে এই দুই নেতা ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।

একই সময়ে ইসরায়েলের নির্বাচনেও স্পষ্ট বিজয়ী নির্ধারিত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল ঐতিহাসিকভাবে বেশি।

আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও একটি রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা হাউজ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশা করছেন।

ইউরোপে জেন—জিরা ফুঁসছে কেন

ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রিপাবলিকানদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ব্রাজিলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক বিতর্কের মিল ছিল।

ওবামা অভিযোগ করেন, ধনী অভিজাত ও প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালীরা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারছেন। তাঁর মতে, রিপাবলিকান পার্টি এখন এমন এক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, অদক্ষ সরকার কিংবা সরকারহীন অবস্থাকেও সমর্থন করে বলে মনে হয়।

সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন 

লুলা যখন ক্ষমতাসীন হয়েও বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ সামলে জয়ী হলেন, তখন আরেকজন দীর্ঘদিনের ক্ষমতাধর নেতা ঠিক উল্টো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী। তিনি হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং একসময় রাশিয়ার ক্ষমতাকেন্দ্র ক্রেমলিনেরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি কার্যত দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হয়ে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন ভুচিচ। কিন্তু একটি নতুন ছাত্র আন্দোলন তাঁর সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়।

আন্দোলনটির সঙ্গে যুক্ত ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ বা ‘ছাত্র তালিকা’ নামে পরিচিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রার্থীরা ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির চেয়ে ভালো ফল করেন। শেষ পর্যন্ত ভুচিচ পরাজয় মেনে নেন।

ইউরোপজুড়েও ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের আন্দোলন দেখা যাচ্ছে।

ইতালির রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাতালি তুচ্চি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ইতালির লা স্তাম্পা পত্রিকায় লিখেছেন, ‘সার্বিয়ার তরুণদের ভাবনার সঙ্গে ইউরোপের আরও অনেক তরুণের ভাবনার মিল রয়েছে।’

তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান বিক্ষোভের কথা তুলে ধরেছেন।

আলবেনিয়ায় ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ আন্দোলনে শিক্ষার্থী, পেশাজীবীসহ সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ অংশ নিচ্ছেন। দেশটির সরকার উপকূলীয় একটি পরিবেশগত সংরক্ষিত এলাকায় বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের যে প্রকল্পে সমর্থন দিয়েছে, তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটির পেছনে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগকারীরা।

এই প্রকল্পকে ঘিরে শুরু হওয়া প্রতিবাদ এখন আরও বড় অসন্তোষের রূপ নিয়েছে। দেশটির ধনকুবের, অলিগার্ক এবং ক্ষমতাবানদের প্রভাবের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভও এতে প্রকাশ পাচ্ছে।

এ ছাড়া ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও ইতালিতেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্কুল—কলেজে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো।

তুচ্চির মতে, এসব আন্দোলনের পেছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর আদর্শ। তিনি লিখেছেন, ‘এটি গণতন্ত্র, সমতা এবং সামাজিক, পরিবেশগত, আন্তর্জাতিক ও প্রজন্মগত ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টিভঙ্গি। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গি ও অঙ্গীকার প্রকাশ পাচ্ছে।’

ফ্রান্সের বিক্ষোভ নিয়ে ডানপন্থীদের ভিন্ন ব্যাখ্যা

তবে এসব বিক্ষোভকে সবাই একভাবে দেখছেন না।

বিশেষ করে প্যারিস ও ফ্রান্সের অন্যান্য শহরের সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতিকেরা নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্যের পক্ষে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।

তাঁদের দাবি, মুসলিম অভিবাসী এবং তাদের প্রশ্রয় দেওয়া বামপন্থী চরমপন্থীরাই ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের জন্য দায়ী।

এই বিক্ষোভের সঙ্গে রাজনৈতিক ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ থেকেই আন্দোলনের শুরু। কিন্তু পরে তা আরও বড় আকার ধারণ করে এবং ফরাসি সমাজের বিস্তৃত অংশকে যুক্ত করে।

এই মানুষদের অনেকেই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর কথিত নব্যউদারবাদী নীতির বিরোধী। তাঁরা চান, সরকার জনসেবামূলক খাতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করুক।

অবশ্য আন্দোলনের মধ্যে এমন কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষও ছিল, যারা বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে লুটপাট করেছে। সরকার এই সহিংসতার জন্য ‘চরম বামপন্থীদের’ দায়ী করেছে।

এদিকে কিছু পর্যবেক্ষক সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভকারীদের একটি ছোট অংশের সহিংসতা পুরো আন্দোলনের ক্ষতি করতে পারে। দোকানপাটে লুটপাট এবং লিমোজ শহরের পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা চরম ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেনের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

মাক্রোঁ বর্তমানে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। ফলে আগামী বছর তাঁর স্থলাভিষিক্ত কোনো মধ্যপন্থী নেতার পক্ষে ক্ষমতায় আসা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিচ্ছিন্ন আন্দোলনগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটে যাওয়া এসব আন্দোলনকে একটি মাত্র ব্যাখ্যার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়।

বেলজিয়ামের দার্শনিক মিশেল ফের এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু প্রতিধ্বনি, যেগুলোকে এখন পরস্পরের সঙ্গে সুর মেলাতে হবে।’

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলে অহিংস প্রতিরোধ আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করা ম্যাথিউ সেবুল মনে করেন, এসব আন্দোলনের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র রয়েছে। তা হলো, সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করা এবং দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ।

সেবুল আরও বলেন, ‘মানুষ দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের শাসনে থাকতে চায় না। তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ দুর্নীতির বদলে দক্ষ সরকার চায়। আর গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনগুলো যখন আরও ভালো শাসনব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন তারা মানুষের সমর্থন অর্জন করতে পারে এবং বাস্তবেও তা পারছে।’

—লেখাটি দ্য নিউ ইয়র্কার থেকে অনুবাদ করেছেন আব্দুর রহমান সার্জিল

Related Posts