কুইন্সবরো ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের ফিনালিতে || একমাত্র বাঙালি নীলা জেরিনের কত্থক
বাঙালী প্রতিবেদনঃ তিনমাস ব্যাপি কুইন্সের বিভিন্ন লোকেশনে নানা দেশের, নানা সংস্কৃতির আলোয় উদ্ভাসিত নৃত্য পরিবেশনার পর ত্রয়োদশ কুইন্সবরো ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের সিজন ফিনালি হয়ে গেল গত রবিবার। ফ্লাশিং মেডো করোনাপার্কের কুইন্স থিয়েটারে রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সিজন ফিনালিতে নৃত্য পরিবেশন করে বাছাইকৃত ৭টি ড্যান্স ট্রুপ। তবে গত মে মাস থেকে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালে কুইন্সের ২০টি দল অংশ নেয়। রবিবার দুপুর ২টা থেকে কুইন্স থিয়েটারের মূল মঞ্চে এই ২০টি ট্রুপ ড্যান্স পরিবেশন করে। তাদের মধ্য থেকে ৭টি ট্রুপকে নির্বাচন করা হয় মেধার ভিত্তিতে।
উল্লেখ্য বেলা বারোটায় ফ্লাশিং মেডো করোনা পার্কের ইউনিস্ফেয়ারে কোফাগো ড্যান্স এনসেম্বলের ড্রাম বাজিয়ে ড্যান্স পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর নৃত্যশিল্পীরা র্যালি করে ইউনিস্ফেয়ার থেকে কুইন্স থিয়েটারে যায়।
সিজন ফিনালিতে যে সাতটি ট্রুপ বর্ণাঢ্য দৃষ্টিনন্দন ড্যান্স পরিবেশন করে তার মধ্যে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ড. নীলা জেরিনের ড্যান্স স্কুল অংশ নিলেও ড. জেরিন দুটি একক কত্থক নৃত্য পরিবেশন করেন। এই দুটি কত্থকের প্রথমটি ছিল একটি ঠুমরী ‘ঝুলতা রাধে নাবালাকিশোর’ এর তালে। এই ঠুমরীটি ছিল দেশ রাগে তিন তালে। দ্বিতীয় নাচটি ছিল তিনতালে, তবে মুলতানি রাগে, একটি তারানা। নীলা জেরিনের পর্বটির নাম ছিল মিউজ এন্ড মুভমেন্ট। হলভর্তি দর্শক কুইন্স থিয়েটারের সুপরিসর মঞ্চের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনশীল আলোর বিচ্ছুরণের মধ্যে ১০ মিনিটকাল নৃত্য পরিবেশন উপভোগ করেন।
অন্য যে ৬টি ট্রুপ নৃত্য পরিবেশন করে তারা হলো কোফাগো তারাচি ড্যন্স কোম্পানির ওয়াংগো ড্যান্স, সেনেগালের এই নাচ পরিবেশন করে ৪ জন শিল্পী। গোথাম ড্যান্স থিয়েটার পরিবেশন করে প্রতিবাদী নৃত্য ‘রক দ্য ওয়ার্ল্ড’। এই ড্যান্সের সাথে যে গান তা পরিবেশিত হয় স্প্যানিশ, আরবী ও তাগালোগ ভাষায়। এদিনের পরিবেশিত ড্যান্সটি ছিল ইন্দো—ফিলিপিনোর গভীর অরণ্য ও পাহাড়বেষ্টিত একটি প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের।
পরের ড্যান্সটি ছিল চার তরুণ—তরুণীর চমৎকার ব্যালে। পরিবেশন করে কুইন্স ব্যালে কালেকটিভ। এই পর্বের নাচের নাম ছিল ব্রাহমস পিয়ানো কোয়াট্রেট।
পরের নাচটি ‘ইকোস অব দ্য মাউন্টেন পিপল’। কর্ডিনেরা কালচারাল এনসেম্বল এই নাচটি পরিবেশন করে। এটি মূলত ফিলিপিন্সের একটি পাহাড়ি অঞ্চলের লোকনৃত্য।
পরের নাচটি ছিল ‘ডিলেমা’, পরিবেশন করে ক্যুকালা ড্যান্স কোম্পানি। এটি মূলত ম্যানহ্যাটানের সালসা স্টাইলের নাচ। এতে অংশ নেন জ্যামাইকা, গ্রিস, পুয়েটোরিকো, ইকুয়েডোরের শিল্পীরা।
সবশেষে এক দল নৃত্যশিল্পী আদি যুগে হরিণ শিকারের ওপর ভিত্তি করে লোকনৃত্য পরিবেশন করে তাদের কোম্পানির নাম জ্যাটারি সাঞ্চি ডানজা। এতে অংশ নেয় ১৯ জন শিল্পী। নাচের নাম ‘ক্যাসেরিয়া ডি ভিনাডো’।
সবশেষে প্রতিটি ড্যন্স কোম্পানির প্রতিনিধিরা মঞ্চে আসেন এবং সংক্ষেপে নাচ বিষয়ক তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
