পারমিতার প্রথম উপন্যাস এ্যাপেটাইট নিয়ে হয়ে গেল আলাপচারিতা

বাঙালী প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত লেখক পি. পারমিতার ডেব্যু উপন্যাস এ্যাপেটাইট নিয়ে ‘অথর টক’ বা লেখকের সাথে আলাপচারিতার আয়োজন করেছিল কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির সেন্ট্রাল লাইব্রেরি। গত রবিবার দুপুরে লেখক পারমিতা মুখোমুখি বসেন পরমা জাহিদের। শুরুতেই কুইন্স লাইব্রেরির বেলরোজ শাখার ম্যানেজার আবদুল্লাহ জাহিদ সকলকে স্বাগত জানিয়ে পি. পারমিতার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন।

আলাপচারিতার শুরুতেই পরমা জাহিদ এ্যাপেটাইট উপন্যাসে বাংলাদেশী খাবারের বর্ণনার কথা তুলে ধরে বলেন, বইটি পড়তে শুরু করে আমি ক্ষুধার্ত হয়ে উঠি। বিশেষ করে আলু ভর্তা, পরাটা ইত্যাদি প্রসঙ্গগুলো যে কোনো পাঠকেরই জিভ আর্দ্র করে তুলবে। তোমার এই উজ্জ্বল বর্ণনায় তুমি যে আলু ভর্তার প্রসঙ্গটি এেনেছ, তা কোন্ ভাবনা থেকে? অন্য অনেক খাবারই তো আছে? পারমিতা বলেন, আলু ভর্তা, শর্ষের তেল, কাঁচা মরিচ এসব বাংলাদেশে ঘরে ঘরে খুব মুখরোচক ও নিত্য দিনের খাবার। তাছাড়াও যখন ঘরে শাকসবজি, মাছ—মাংস থাকে না, তখন বিকল্প হিসাবে আলু ভর্তাকে বেছে নেয়া হয়।

পারমিতা বলেন, তিনি কোনোদিন রেস্টুরেন্টে কাজ করেননি। রান্না এমন কি রেসলিং বিষয়টি নিয়েও তিনি গবেষণা করে জেনেছেন। তিনি জানান রেসলিংও তার প্রিয় খেলা নয়। তবু বাংলাদেশের নিজস্ব খাবার এবং আমেরিকার রেসলিংএর মধ্যে তিনি একটি সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন।

পারমিতা বলেন, এই সময়কালটি সোশাল মিডিয়ার। সোশাল মিডিয়া কিভাবে আমাদের প্রজন্মকে জড়িয়ে রাখে এবং জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে সেই বিষয়টিও তুলে আনতে চেয়েছি। 

তিনি জানান, তিনি টিভি শো টপ শেফ নিয়মিত দেখেছেন, রেসলিংও দেখেছেন। জার্সি সিটির ‘কড়াই কিচেন’ রেস্তোরাঁও তাকে এই ফিকশনটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি এ্যাপেটাইট লেখার সময় প্রায় কড়াই কিচেনে যেতেন বলেও জানান।

পারমিতা জানান, আমার এই উপন্যাসটি পড়ার পরে হয়ত অনেক তরুণী নিজের রেস্টুরেন্ট খুলতে চাইবে। অবশ্য এটা লেখার উদ্দেশ্য তা নয়। তবে আমি পাঠকদের কথা ভেবে লিখি না। আমি লিখি আমার জন্য। প্রকাশকরা চেয়েছিল, যেহেতু এ দেশে বা অন্য দেশে অনেক বাংলাদেশী থাকে, তারা বইটি পড়ার জন্য আগ্রহী হবে। স্ট্র্যান্ডে প্রথম দিন সব বই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

পারমিতা আবার জানান, বাংলাদেশী বাবা—মা’রা চায় না, ছেলেমেয়েরা লেখক হোক। আমার মা চেয়েছিল, আমি যেন সাংবাদিকতায় আসি। তবে লেখালেখি শুরু করলে মা—বাবা দুজনেই উৎসাহ দিয়েছেন। পারমিতার বাবা জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হক।

পি. পারমিতা তার বইএর প্রচ্ছদ কিভাবে নির্বাচন করা হলো সে বিষয়ে জানান, প্রকাশক প্রথমে জানতে চেয়েছিল আমি এ্যাপেটাইটের কেমন প্রচ্ছদ চাই। কী রং প্রেফার করব। তারপর কয়েক রকম প্রচ্ছদ করে আমাকে পাঠায়। আমি এই প্রচ্ছদটি পছন্দ করি। প্রচ্ছদ শিল্পীর নাম সোফিয়া চুন। প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে চুল্লির আগুনের ইলাস্ট্রেশন আছে। সেটাও সোফিয়ার করা। ২৫২ পৃষ্ঠার ফিকশনটির প্রকাশক দ্য ডায়াল প্রেস।

উল্লেখ্য ৪ আগস্ট ম্যানহ্যাটানে এ্যাপেটাইটের প্রথম অথর টক হওয়ার পর কানেকটিকাট, ওয়াশিংটন ডিসি সহ বিভিন্ন শহরে এই বইএর ওপর আলাপচারিতা হয়েছে।

Related Posts