নিউইয়র্কে ‘দম দ্বিতীয় সপ্তাহে

বাঙালী প্রতিবেদনঃ উত্তর আমেরিকায় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিবেশক বায়োস্কোপ ফিল্মস ৫৩তম ছবিদমকুইন্সে মুক্তি পায় গত ১০ এপ্রিল। পুরো সপ্তাহ জুড়ে প্রতিদিন তিনটি করে প্রদর্শনীর পরে দর্শকদের চাহিদার কারণে কিউ গার্ডেন্স সিনেমায় আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ফলে চলবে আগামী ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এছাড়াও সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে লং আইল্যান্ডের ফার্মিংডেল থিয়েটারসহ আপস্টেটের বিংহ্যাম্পটনে।

বায়োস্কোপ ফিল্মস সিইও রাজ হামিদ সাপ্তাহিক বাঙালীকে জানিয়েছেন, গতকাল ১৭ এপ্রিল থেকেদমআমেরিকার ৫০টি মুভি থিয়েটারে এবং ক্যানাডার ৮টি থিয়েটারে চলছে। পরের সপ্তাহে মুক্তি পাবে বাফেলো অলবেনিতে।

উল্লেখ্য গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নির্মিত দম ছবিটির কাহিনী আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে একটি এনজিওর কমীর্দের নিয়ে। সেখানকার চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়া বাংলাদেশী মো. নূর ইসলামকে (আফরান নিশো) প্রথমে আমেরিকার চর হিসা বন্দি করে নির্যাতন শেষ পর্যন্ত হত্যার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সত্ত্বেও জোরে জোরে সুরা ইউনুস পড়ায় তা জঙ্গি নেতার কানে যায়। তিনি বুঝতে পারেন সে মুসলমান। দফায় ছাড়া পেলেও জঙ্গি গোষ্ঠী তাকে পুনরায় আটক কেও তার কাছে কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। না দিতে পারলে তাকে হত্যা করা হবে বলে জানায়। শেষ পর্যন্ত তার বাংলাদেশী সহকমীর্ অনেক কষ্ট করে সংগ্রহ করে অর্ধেক অর্থ দিলেও রেহায় পায় না। সময় সন্ত্রাসী আক্রমণে গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেলে নূর ইসলাম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু একজন পশতু জঙ্গি তাকে অনুসরণ করে।

এর সাথে ঢাকায় এনজিও প্রধান অফিসের কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবহেলা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও উঠে এসেছে। সাংবাদিকের তৎপরতাও তুলে ধরা হয়েছে। ছবির তৃতীয় ধাপে একজন আফগান পশতু জঙ্গির চাচা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারালে তার প্রতিশোধ নিতে চায় বাংলাদেশের নূর এর ওপর আক্রমণ চালিয়ে। সেখানেও নূরের জয় হয়। নিশো আফগানিস্তানে যাওয়ার আগে বিয়ে করে বউ রেখে গিয়েছিল। যখন দেশে ফেরে তখন সে উপহার পায় নবজাতক সস্তানকে।

এইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও সেখানে আফগান জঙ্গিদের হাতে বন্দি হয়ে প্রচন্ড নির্যাতনের যে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে, তাতে অনেকেই একাত্তরে পাকিস্তানি বন্দি শিবিরে নির্যাতনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন। মনে হয়েছে একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতনই প্রতীকী হয়ে উঠেছে এই নির্যাতন পর্ব। আফরান নিশোর অভিনয় কোথাও কোথাও অতিরিক্ত হলেও তিনি ভাল করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গটি আরোপিত মনে হয়েছে।দমছবিটিদমনিয়েই। কারণ জীবনযুদ্ধে জয়ের জন্য দম যে কতটা জরুরী তা এই ছবিতে খুব বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা রেদোয়ান রনি। এই ছবির সম্পদ এর গল্প নির্মাণ ছাড়াও নিশোর অভিনয় এবং ফটোগ্রাফি।

বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন .. পাতায়।

Related Posts