পোপকেও ছাড়লেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদনঃ শুধু ডেমোক্রেটদের সাথে নয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাক—বিতন্ডায় জড়িয়েছেন পোপ লুই চতুর্দশের সাথেও। সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রেসিডেন্ট নিজেই নিজের সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে, তা নিয়ে আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিকদের মাঝে প্রচন্ড আলোড়নের সৃষ্টি হয়। ছবিতে প্রেসিডেন্টকে অনেকটা যিশু খৃস্টের মত দেখাচ্ছিল, তিনি একটি শিশুর কপালে হাত স্পর্শ করে আছেন। আলোড়ন সৃষ্টির পরপরই তা তিনি সোশাল মিডিয়া থেকে প্রত্যাহার করে নেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি মানুষের সেবক। মানুষের সেবা করি। এই ছবিতে যিশু নয়, আমি একজন চিকিৎসক হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছি। তার কথায় অবশ্য বিতর্ক থামেনি। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম এই খবরটি নিয়ে শিরোনাম করেই চলেছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত এমন একটি প্রতিবেদন এখানে আংশিক প্রকাশিত হলো।
তারা দুইজনই মার্কিনি। একজন ক্ষমতাধর। অন্যজন প্রভাবশালী। একজনের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাহিনী। অন্যজন নেতৃত্ব দেন প্রায় ১৫০ কোটি ভক্তের।
তাদের দুইজনের জন্ম একই দেশে। ভাষা এক। একে অপরের শব্দচয়ন—উচ্চারণ সবই বোঝেন। দুইজনেই একই দলের সমর্থক; তবুও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
শুধু দ্বন্দ্ব নয়। ইতিহাস সৃষ্টিকারী দ্বন্দ্ব।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য: দুই বিশ্বনেতার এমন ‘কথা ছোড়াছুড়ি’ যেমনই অভূতপূর্ব, তেমনি অনাকাক্সিক্ষত।
পোপ লুই চতুর্দশ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ও যে ভাষায় কথা বলছেন তা জগৎজুড়ে শুধু বিতর্কই সৃষ্টি করছে না, জন্ম দিচ্ছে অশান্তিও।
গত ১২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে নিজেকে যিশু খ্রিষ্টের ‘বেশে’ উপস্থাপন করেন। এআই দিয়ে তৈরি করা ছবিটিতে ট্রাম্পকে ‘ঐশ্বরিক’ ক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে তুলে ধরা হয়। তাকে দেখা যায় এক অসুস্থ ব্যক্তির কপাল স্পর্শ করতে। সুস্থ করার আশায়। পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। স্ট্যাচু অব লিবার্টি, ইত্যাদি।
পরদিন জনপ্রিয় পডকাস্টার জেনিফার ওয়েলচ বলেন, ‘ইরানের মিনাবের এক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে শতাধিক শিশু হত্যাকারী ট্রাম্প নিয়েছেন যিশুর বেশ। ধিক, তাকে।’
অন্যদিকে, ট্রাম্পভক্ত ক্যাথলিক উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স বলেছেন—‘ওটা রসিকতা ছিল।’
এরপর, এক সময়ের ট্রাম্পভক্ত উগ্র ডানপন্থি সাবেক কংগ্রেস সদস্য মারজোরি টেইলর গ্রিন বলে বসেন, ‘এটা ধর্ম অবমাননা। ট্রাম্প খ্রিষ্টধর্মের অপমান করেছেন। ট্রাম্প ধর্মদ্রোহী।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ক্যাথলিক ধর্মগুরুদের বলতে শোনা গেল—‘এত নিচুমানের রসিকতা করে ট্রাম্প যেন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদেরই পরাজয় নিশ্চিত করছেন।’
গত ১৪ এপ্রিল সিএনএন—এর এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—আবারও পোপের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ালেন প্রেসিডেন্ট। তবে এবার এটা অন্যরকম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৫ কোটি বাসিন্দার ২০ থেকে ২২ শতাংশ ক্যাথলিক। তাদের প্রায় অর্ধেক ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের ভোট দিয়ে থাকেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, তথ্য অনুসারে ৫৫ থেকে ৫৯ শতাংশ ক্যাথলিক মতবাদের মানুষ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রটেস্ট্যান্ট মতবাদের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন।
এতে জানানো হয়—গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্যাথলিক একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসার ১৭ মাস পর সেই ট্রাম্প আবারও ক্যাথলিকদের ধর্মগুরু পোপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন।
তবে এবারের সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলেও প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রচারণার সময় ট্রাম্পের অভিবাসননীতি নিয়ে তৎকালীন পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়েছিল।
সেই নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হলেও, এবার পোপ লিওয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সংঘাতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এই সংঘাত দীর্ঘ হওয়ায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
