দুধ খেলে কি সর্দি বাড়ে?
ডা. সজল আশফাক: অনেকেই মনে করেন, দুধ খেলে শরীরে অতিরিক্ত মিউকাস বা শ্লেষা তৈরি হয়, ফলে সর্দি—কাশি দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধারণাটি আরও বেশি প্রচলিত। বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা হচ্ছে দুধ কফ বাড়ায় না।
বৈজ্ঞানিক সূত্র মতে, সর্দি—কাশির প্রধান কারণ হচ্ছে ভাইরাস (যেমন— রাইনোভাইরাস), কিংবা এলার্জি।
দুধ খাওয়ার ফলে মিউকাস উৎপাদন বাড়ে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। দুধ এবং মিউকাস তৈরির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, দুধ খেলে কফ বাড়ে এটি একটি ভুল ধারণা।
তাহলে মানুষ কেন এমনটা মনে করে?
প্রথমত দুধ খাওয়ার পর অনেকের গলায় পিচ্ছিল বা ঘন অনুভূতি হয়। এই অনুভূতিকে অনেকেই ‘কফ বেড়েছে’ বলে মনে করেন, যদিও বাস্তবে নতুন মিউকাস তৈরি হয়নি।
গরম দুধ বা যে কোনো গরম পানীয় শ্বাসনালীর পেশি শিথিল করে, ঘন মিউকাসকে পাতলা করে মিউকাসের চলাচল বাড়ায়। ফলে আগে থেকে থাকা কফ সহজে বের হয়ে আসে। এতে মনে হয় কফ বেড়েছে, কিন্তু আসলে এটি জমে থাকা নিঃসরণ বের হওয়া। তাছাড়া দুধ একটি তরল খাদ্য, যা শরীরকে জলযুক্ত রাখে। শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকলে মিউকাস কম ঘন হয় এবং কফ সহজে বের হয়।
যদিও সাধারণত দুধ নিরাপদ, কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা অসহিষ্ণুতা থাকলে, দুধ খাওয়ায় নিয়মিত ব্যক্তিগত অস্বস্তি হলে, দুধে এলার্জি থাকলে দুধ না খাওয়াই ভালো।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, দুধ সর্দি বা কফ বাড়ায় না। গরম দুধ জমে থাকা কফকে পাতলা করে বের হতে সাহায্য করে। ‘কফ বেড়েছে’ ধারণাটি মূলত একটি সেনসরি ইলিউশন বা অনুভূতিগত বিভ্রম।
সুতরাং, দুধ নয়, ভুল ধারণাই আমাদের বিভ্রান্ত করে।
