মেয়র অফিসে রাউন্ডটেবিল কমিশনার ফাইজা || ইমিগ্রান্টদের পাশে মেয়র মামদানি
বাঙালী প্রতিবেদনঃ ‘ইমিগ্রান্টস পাওয়ার নিউইয়র্ক’ অর্থাৎ ইমিগ্রান্টরাই নিউইয়র্ককে শক্তিশালী করে এমন আপ্তবাক্য উচ্চারণ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র অফিসের ইমিগ্রান্ট এ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের কমিশনার ফাইজা এন. আলি গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২২তম ইমিগ্রান্ট হেরিটেজ উইকের উদ্বোধন করলেন। এর মধ্য দিয়ে মেয়র মামদানির গত ১০০ দিনের কার্যক্রমে যে ডাইভারসিটি, ভাইব্রেন্সি ও অর্থনৈতিক অবদান রেখে চলেছে ইমিগ্রান্টরা তার স্বীকৃতি দেয়া হলো।
কমিশনার আলি বলেন, ৩০ লক্ষেরও বেশি ইমিগ্রান্ট নিউইয়র্ক সিটিকে মনেপ্রাণে তাদের হোম মনে করেন। একজন ইমিগ্রান্টের কন্যা হিসাবে আমি নিউইয়র্ক সিটির সকল শ্রমজীবী ইমিগ্রান্টদের জন্য গর্ব বোধ করি।
উল্লেখ্য গত সোমবার সিটি হলের ব্লুরুমে কমিশনার ফাইজা এন. আলি ছাড়াও মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন ইকোনমিক জাস্টিস বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু এবং ডিপার্টমেন্ট অব স্মল বিজনেস এর কমিশনার কেনি মিনায়া।
এই উপলক্ষে এথনিক মিডিয়ার সাথে এক রাউন্ডটেবিল বৈঠকে কমিশনার আলি, কমিশনার মিনায়া এবং ডেপুটি মেয়র সু নিউইয়র্ক সিটির শ্রমজীবী ইমিগ্রান্টদের ‘ট্রু কস্ট অব লিভিং’ মেজার বা ঞঈঙখ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তারা বলেন, ইমিগ্রান্টরা যা আয় করেন সুন্দরভাবে এই সিটিতে জীবনযাপনের জন্য তা অবশ্যই যথেষ্ট নয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী সংসারের সচ্ছলতা নির্ভর করে।
তারা বলেন, নিউইয়র্ক সিটির ৬২ শতাংশ মানুষ যাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ, তাদের জীবনযাপনের পুরো ব্যয় নির্ধারিত আয় থেকে সংকুলান করা অসম্ভব। যেমন এই ধরনের পরিবারের বাড়ি ভাড়া, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, চাইল্ড কেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, ট্যাক্স পে সহ অন্যান্য ব্যয় সংকুলান করতে হিমশিম খায় তারা। কারণ তাদের বার্ষিক আয় হওয়ার কথা ন্যূনতম ১৫৯,১৯৭ ডলার। কিন্তু তারা আয় করে অনেক কম।
সিটির কর্মকর্তারা বলেন, এই ‘ট্রু কস্ট অব লিভিং’এ পৌঁছতে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ইমিগ্রান্ট হিসাবে বৈষম্য। হিস্পানিক ইমিগ্রান্টরা এই বৈষম্যের শিকার ৭৮ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গ ইমিগ্রান্টরা বৈষম্যের শিকার ৬৬ শতাংশ, আর এশিয়ান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার গ্রুপ এই বৈষম্যের শিকার ৬৩ শতাংশ।
তারা বলেন, শুধূ রেসিয়াল বা এথনিক বৈষম্য নয়, নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোতে কারা কোন এলাকায় বাস করেন তার ওপর ভিত্তি করেও বৈষম্য হয়। যেমন ব্রংক্সে যারা বাস করেন তাদের ৭৫.১% বৈষম্যের শিকার, ব্রুকলীনের বাসিন্দারা ৬১.৫% আর কুইন্সের ৬১.১%। আর স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে যারা বাস করেন তাদের ৪৮.২% বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এর পাশাপাশি যারা প্রতিবন্ধী তাদের বৈষম্যের শিকার হতে হয় ৯২%।
কমিশনার ফাইজা আলি বলেন, এইসব বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য আমরা সিটি থেকে নানা প্রণোদনা ঘোষণা করছি। এর অন্যতম হলো বিনামূল্যে কে—টু কর্মসূচী এবং সিটির নিজস্ব গ্রোসারি চালু করা। তিনি বলেন, মেয়র জোহরান মামদানির যে নির্বাচনী প্রতিশ্রম্নতি ছিল, তা বাস্তবায়নে তিনি বদ্ধপরিকর। ধীরে ধীরে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন।
