আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে || চার বাংলাদেশী রাজনীতিকের জয়

নিউইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিকদের বড় জয়ের মধ্যেই চার স্টেটে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিক। নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনায় তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে জয়ী চারজনের মধ্যে তিনজন ডেমোক্রেটিক পার্টির এবং একজন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ছিলেন। পিরোজপুরের আবুল খান রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেটের হাউজে সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের শেখ রহমান জর্জিয়া সিনেটের ৫ নম্বর আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়েছেন।

চাঁদপুরের মাসুদুর রহমান কানেকটিকাট সনেটের ৪ নম্বর আসনে বড় ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। আর গাজীপুরের হাসিব ফাতেমি নর্থ ক্যারোলাইনা সিনেটের ১৮ নম্বর আসনে জয় পেয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে নোয়াখালীর সাদ্দাম আজলান সালিম ভার্জিনিয়া সিনেটের ৩৭ নম্বর আসনে নির্বাচিত হন। আগামী বছর ওই আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্রেটিকদের জয় এবং স্টেট পর্যায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফয়জুল ইসলাম বলেন, ট্রাম্পের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিনরা। তাঁর মতে, ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থনভিত্তি দুর্বল হয়েছে।

রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বাদল বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি মিলিয়ে সাধারণ মানুষ এবং রিপাবলিকানদের একাংশও বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

খোরশেদ খন্দকার বলেন, ট্রাম্প যেসব প্রার্থীর সমালোচনা করেছিলেন, তাঁদের জয়ও নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর মতে, আগামী দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মেরিল্যান্ডের লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী আশরাফ আহমেদ মনে করেন, এবারের ফল ডেমোক্রেটিকদের জয়ের চেয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষেরই প্রতিফলন। তাঁর মতে, কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে ডেমোক্র্যাটরা মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ কমাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, বাংলাদেশের বিষয়ে দেশটির নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে একই নির্বাচনে দুই প্রধান দলের প্রতিনিধিত্বই তাঁদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তবে স্টেট পর্যায়ের এই সাফল্য জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং বাংলাদেশ—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকেরা সতর্ক অবস্থানে আছেন।

Related Posts