আন্তর্জতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনাল্ডোর
স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ম্যাচটি ছিল গত সেপ্টেম্বরে ওয়েলসের বিপক্ষে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রোনালডো। তবে ঘরোয়া পর্যায়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।
পুরুষদের ফুটবলে কোনো খেলোয়াড়ই নিজ দেশের জার্সিতে এত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি (২৩৪) কিংবা এত বেশি গোল করেননি (১৪৬)। তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উয়েফা নেশন্স লিগে ওয়লসের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ১—০ গোলে জয়ের পরের ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড়দের তালিকায় ছিলেন রোনালডো। তাকে আভাস দিলেও বেঞ্চ থেকে আর মাঠে নামাননি পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুস। এই ইস্যুতে জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের আগে আচমকা পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। এই ঘটনার জন্য শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাকে ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয় এবং ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তার আগে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে ১ হাজার ৭৪০ শব্দের একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছেন না। তবে সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে যেতে বেশিদিন সময় লাগল না।
৮৬৬ শব্দের বিদায়ী বার্তায় রোনালডো বলেন, ‘অবশেষে সেই দিনটি এসেছে, যেদিন আমি আমাদের জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি কখনোই মনে করিনি, জার্সিটি শুধু আমার একার। তবে ২৩ বছর ধরে এটি গায়ে জড়ানোর, এর মর্যাদা রক্ষা করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে একে নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব আমার ছিল।’ বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরে খেলা এই তারকা জানান, অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ না হলেও এটাই উপযুক্ত সময়, ‘আজ সময় এসেছে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। কারণ কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয়ের অনুভূতিও সেখানে জড়িয়ে থাকে।’ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শের দ্বারপ্রান্তে আছেন রোনালডো। দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে তিনি যোগ করেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে শুরু হওয়া যে যাত্রা আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছিল, আজ তার সমাপ্তি ঘটল। জাতীয় দলের হয়ে কাটানো সময়ের দিকে ফিরে তাকালে আমার চোখে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফি ভেসে ওঠে না। গোল একসময় ম্লান হয়ে যায়। ট্রফি ঠাঁই পায় জাদুঘরে। রেকর্ডও একদিন ভেঙে যায়। কিন্তু এমন একটি বিষয় রয়েছে, যা সময় কখনো মুছে ফেলতে পারে না— মানুষের হৃদয়ে আমাদের জন্য থাকা জায়গাটি।’
পর্তুগালের হয়ে একটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও দুটি নেশন্স লিগজয়ী এই ফরোয়ার্ড কৃতিত্ব দেন সতীর্থদের, ‘(তোমাদের ধন্যবাদ) প্রতিটি দৌড়ের জন্য, প্রতিটি আলিঙ্গনের জন্য, প্রতিটি তর্কের জন্য, মাঠে নামার আগে প্রতিটি নীরব মুহূর্তের জন্য, একসঙ্গে উদযাপন করা প্রতিটি জয়ের জন্য এবং প্রতিটি পরাজয়ের জন্য, যা আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে।’
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এক বিবৃতিতে তাদের ‘চিরন্তন অধিনায়ক’—এর প্রতি ‘গভীর ও চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি রোনালদোর ‘বর্ণাঢ্য ও অসামান্য ক্যারিয়ারের উপযুক্ত সম্মাননা’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে রোনালদো তিনটি গোল করেন। তবে স্পেনের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় তার দল পর্তুগালকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
ফুটবলে রোনালডোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসিও গত আগস্টের শেষদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গত মাসে সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।
মিরপুর টেস্টঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে
