ফারহানা হকের কবিতা

রৌদ্রগন্ধা শীতে

খড়খড়ি গলে দুপুরের তুমুল রোদ 

ছুঁয়ে আছে তোমার খোলা পিঠ, 

রৌদ্রস্নানে ভেজা ঈষৎ খোলা ঠোঁট।


অন্ধ দু’চোখ। বধির আমি শব্দগুলো মূক!


ভালোবাসা আঁচড় কেটেছিল 

আদুল সে পিঠে, 

কবিতা খুঁজে পেল নতুন এক গন্ধ 

এই আনকোরা  শীতে।


চিত্রপট ১,২,৩

চরিত্র— রোদ + দেয়াল

সময়— অন্ধদুপুর


১

দুর্লভ দুপুর,

চুঁইয়ে পড়া রোদের ইচ্ছে 

ঈষদুষ্ণ স্নানে ভেজাবে

দেয়ালের আদুল শরীর


২

ওম ওম গন্ধে তাকে মাখা 

আলিঙ্গনে থরথর

অপরাজিতার পাপড়ি আর পাতা

ময়ূরনীল থেকে ক্রমশ গাঢ় নীলে

অবরুদ্ধ কণ্ঠবাষ্পীয় কথা।


৩

রোদ্দুরের ভৌগোলিক সমীকরণ

দেয়াল ভুলেছে অবাক মেরুকরণ

অগোছালো সে নিরাভরণ

রেখে গেছে নবজন্মের ঋণ।


পেয়েছি নতুন করে 

শীতের কোন এক 

গাঢ় রাতে 

হয়তো আমাদের

আবার হবে দেখা।

 

অবশ হাঁটু 

তবুও দাঁড়িয়ে  থাকা

থৈ থৈ জনারণ্য

ইন্দ্রিয় বিলুপ্ত কায়া।

অন্ধকার আবছায়া 

বিভ্রম নাকি মায়া?


কেটে গেছে বসন্ত থেকে হেমন্ত 

বেজে যায় মায়ার খেলার

পঞ্চমী সুর অনন্ত।


কড়ি কোমলের মীড়ে

অর্ধস্ফুট স্বরে 

বলবো—

তোমায় পেয়েছি নতুন করে...


সিম্ফনি নিখাদ

কেউ ডাকেনি, কপালে রাখেনি হাত।

বলেনি এই, ‘ওঠো’

তবু ঠিক উঠে বসলাম

নিশিপাওয়া মানুষের মত

মাঝ রাত্তিরে মগজের কোলাজে

সহসা করাঘাত।

শবাধার জুড়ে মখমলি অন্ধকারের সিম্ফনি নিখাদ...


সে কোন বনের হরিণ 

যে নির্জন নিবিড় রাত্তিরে 

বিবাগী বল্কলের 

নগ্ন গাছের ফাঁকে 

করুণ স্বরে 

ঘাই হরিণী ডাকে 

তুমি কি শুনতে পেলে তাকে? 


পূর্ণিমায় মাতোয়ারা  

গোটা বনভূমি 

হরিণীর চোখে বিম্বিত হয় না

চাঁদের রাগমোচন।

তার কালো চোখে

অনুপল নিষাদের বিভাজন। 


বুকে শরচিহ্ন,

রক্তের চিন চিন

ঘাতকের নিশানা,

সে চেনে বহুদিন...


জেগে আছে প্রাণপণ 

মৃত্যুর নকশা তার মুখে

করুণ ডাক নিভে আসে 

স্বপ্ন ঘোরে সে গেছে ভেসে।


উপসংহার — দীর্ঘশ্বাস 

রাতের দৈর্ঘ্য প্রস্থ মাপিনা 

এখন আর 

যদিও অন্ধকারের ঘনত্ব 

মুঠোবন্দী  করতে পারা প্রয়াস নয়, 

বেশ অনায়াস।


অঘুমা রাতের সাথে আমার

গভীর সখ্য  

নিত্য সহবাস।


স্বপ্নের পেয়ালায় চুমুক দেই না 

তবু নেশা বারোমাস।


যেসব  রাতে

পাঁজর ভাঙা 

শব্দের বুদবুদ ওঠে বুকে  

মন কলমে জমাট কালির কোলাজ


আর্তনাদে মিলায় শব্দ

উপসংহার, দীর্ঘশ্বাস!


তিয়াসা 

শীতার্ত রাতে নিঃসঙ্গ স্টেশনটা জেগে থাকে,  

কবোষ্ণ আলোর রোশনাই তার ইস্পাত চেরা 

বুকের দীনতা স্পর্শ করে,  ভালোবাসায় মাখে। 

মায়ার কোন রং হয় না তবু 

এ ওয়ার্ম টোন তাকে আগলে রাখে 


হুডির পকেটে হিম। 

জমে থাকা দুটো হাত, সমস্ত মন, 

দশটা আঙ্গুল তিরতির কাঁপে, 

গলে যেতে চায়  আরো দশটা 

আঙুলের আলিঙ্গনের উত্তাপে।


—নিউজার্সি

Related Posts