আলোর সাথে উদ্ভিজ্জ তেলের সম্পর্ক
ডা. সজল আশফাক: আলো, বাতাস ও তাপের সংস্পর্শে এলে উদ্ভিজ্জ তেল ধীরে ধীরে জারিত হতে পারে। এতে তেলের গুণমান কমে যায় এবং বাসি বা পচা গন্ধ ও স্বাদ তৈরি হতে পারে। সূর্যের আলো তেলের ওপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে, তবে স্বচ্ছ বোতলে দীর্ঘদিন সাধারণ ঘর বা দোকানের আলোতেও তেলের গুণমান নষ্ট হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ফ্লুরোসেন্ট আলোর সংস্পর্শে থাকা সয়াবিন তেলে অন্ধকারে রাখা তেলের তুলনায় অনেক বেশি জারণ হয়েছিল।
কিছু তেল অন্যগুলোর তুলনায় সহজে জারিত হয়। তিসি, আখরোট, আঙুরের বীজ, সাধারণ সূর্যমুখী, সয়াবিন ও ভুট্টার তেলে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, তাই এগুলো সাধারণত কম স্থিতিশীল। জলপাই ও অ্যাভোকাডো তেলে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় এগুলো সাধারণত তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল। তবে এই তেলগুলিও জারিত হতে পারে। এমনকি এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেলও সূর্যের আলোতে গুণমান হারাতে পারে। গাঢ় রঙের বা আলো আটকায় এমন পাত্র তেলকে বেশি সুরক্ষা দেয়।
জারণের ফলে মূলত তেলের সতেজতা ও গুণমান কমে। সামান্য জারিত তেল খাওয়ার স্বাস্থ্যগত প্রভাব পুরোপুরি জানা যায়নি, তাই অল্প সময় আলোতে থাকলেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। তবে তেলে বাসি বা পচা গন্ধ কিংবা স্বাদ হলে তা ফেলে দিন।
তেল ভালো রাখতে বোতলের মুখ শক্ত করে বন্ধ করে চুলা ও জানালা থেকে দূরে, ঠান্ডা ও অন্ধকার আলমারিতে রাখুন। সম্ভব হলে গাঢ় রঙের বা আলো আটকায় এমন পাত্রের তেল কিনুন। কিছু জাতের তেল, যেমন হাই—ওলেইক সূর্যমুখী তেল সাধারণ জাতের তুলনায় জারণের বিরুদ্ধে বেশি স্থিতিশীল।
