বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে

ঢাকা থেকেঃ কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এতে তাঁর প্রশাসনের বাজেট, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কংগ্রেসের চাপের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।  তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এ পরিবর্তনে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কিংবা ব্যবসাবাণিজ্যে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেসের টানাপোড়েন বাড়তে পারে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেস চাপ প্রয়োগ করতে পারে। কারণ কংগ্রেসের হাতে আর্থিক ক্ষমতা রয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা সে ক্ষমতা ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র—ইরান সম্পর্কের বিদ্যমান গতিপথে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।’

ট্রাম্পের পরাজয়ে বাংলাদেশের ব্যবসাবাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের অবস্থান দুর্বল হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির স্বাভাবিক ব্যবসাবাণিজ্যিক সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প এখনো দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাহী বিভাগেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্টের কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বাজেট, আইন প্রণয়ন এবং বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা অনুমোদন না—ও পেতে পারে।’

কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এলেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তনের আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশের মতো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্বাভাবিক ব্যবসাবাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, তা মূলত বিদ্যমান নীতিমালা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার কারণে এসব সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এমন কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে বাণিজ্যনীতি, শুল্কনীতি কিংবা বড় কোনো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এলে তার প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের নির্বাহী কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বাজেট অনুমোদন, নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধী দলগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা দেশটির রাজনীতিকরা দলমতনির্বিশেষে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।’

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক স্বার্থ ও জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। ফলে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিবর্তন ঘটলেও বাংলাদেশ—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

Related Posts