টেক্সাসের সিনেটর—ইলেক্ট জেমস, প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের || ইমিগ্রেশন সমস্যা সমাধানের নতুন আশাবাদ
বাঙালী প্রতিবেদনঃ মধ্যমেয়াদী নির্বাচনে কয়েকটি রেড স্টেটের অর্থাৎ রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত স্টেটের ব্লু স্টেটে রূপান্তর এই নির্বাচনে দ্বিতীয় বড় ঘটনা। প্রথম বড় ঘটনা বিশাল ভোটে ডেমোক্রেটদের কংগ্রেসের হাউজ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। এই নির্বাচনে বিজয়ী সকল প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন টেক্সাস থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেট সিনেটর জেমস ট্যালারিকো। বয়সে তরুণ, কথায় চৌকস এবং দীপ্তিময় মেধাবী এই সিনেটর—ইলেক্ট তার ভিক্টরি স্পিচ বা বিজয় ভাষণেই মুগ্ধ করেছেন আমেরিকানদের। যখন বললেন, আমি ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর হলেও আমি পুরো টেক্সাসের সকল জনগণের সিনেটর। আমি কোনো দলীয় নই, টেক্সাসবাসীর যে সমস্যা তথা পুরো আমেরিকার যে সমস্যা তা সমাধানের চেষ্টা করব।
সিনেটর—ইলেক্ট ট্যালারিকো পরদিন বুধবার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমরা নানা বিষয়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে একত্রে কাজ করতে পারি। তার মধ্যে অন্যতম ইমিগ্রেশন ইস্যু। আমরা চেষ্টা করব কমপ্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাশ করতে। তার মধ্যে অন্তভুর্ক্ত থাকবে বর্ডার সিকিউরিটি।
জেমস বলেন, আগের প্রশাসনের চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্ডার সিকিউরিটি বিষয়ে যে ভাল কাজ করেছেন তার জন্য তার ক্রেডিট প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের কঠোর পরিশ্রমী ইমিগ্রান্টদের জন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ দিতে হবে। তারা এদেশে এসেছে, অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে এবং আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তিশালী করেছে।
সিনেটর ইলেক্ট বলেন, এবং তাদের ‘প্যাথওয়ে টু সিটিজেনশিপে’র পথও খুঁজে বের করতে হবে, যারা আমাদের প্রতিবেশী এবং কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে দশকের পর দশক। তাদের আড়াল থেকে বের করে আনতে হবে।
তিনি বলেন, এফোর্ডেবল হাউজিং সেক্টরেও পরিবর্তন আনতে প্রেসিডেন্টের সাথে কাজ করতে চাই। কারণ তিনি বিল্ডার। জেমস ট্যালারিকোর কথা ছিল স্পষ্ট এবং বোল্ড।
নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটিভিস্ট মোহাম্মদ এন মজুমদার সাপ্তাহিক বাঙালীকে জানান, তরুণ সিনেটর—ইলেক্ট জেমসের বক্তব্য আমাকে আশাবাদী করেছে। কারণ হাউজ এবং সিনেটে ডেমোক্রেটদের বড় দূরত্বে নিয়ন্ত্রণ এবং রিপাবলিকানদের নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত বিষয়ে বোধোদয় হওয়ায় এবার জেমস ট্যালারিকো যদি কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল তোলেন, তাহলে হয়ত তা পাশ হওয়ায় কোনো বাধা থাকবে না।
ইমিগ্রেশন বিষয়ক বিশিষ্ট এটর্নি খায়রুল বাশার সাপ্তাহিক বাঙালীকে বলেন, যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্রেটরা পেয়েছে, কংগ্রেসে এটা তাদের প্রথম অগ্রাধিকার না হলেও তারা বিল তুলবে। আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী।
বিশিষ্ট এটর্নি এবং মূলধারার রাজনীতিক মঈন চৌধুরী সুদূর জেদ্দা থেকে সাপ্তাহিক বাঙালীকে জানালেন, তাকে আমি আগে থেকেই দেখছি। কথাও হয়েছে তার সাথে। তিনি বলেন, জেমসের কথার মধ্যে মানবিকতা আছে, যুক্তি আছে, আইনের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধাশীল। তিনি সকলকে নিয়ে কাজ করতে চান। আশা করি তিনি এক্ষেত্রেও সফল হবেন।
এদিকে শুক্রবার সকালে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখছে, গত মঙ্গলবারের মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন পলিসির জন্য কী অর্থ বহন করবে সেই প্রসঙ্গে। প্রেসিডেন্ট যখন কংগ্রেসের ভরাডুবির খবর পাচ্ছিলেন, তখন তিনি ফক্স নিউজকে ফোন করে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল তার বিরুদ্ধে গেলেও তিনি তার ভেটো পাওয়ার প্রয়োগ করার ব্যাপারে অবিচল থাকবেন। কিন্তু এর পরপরই তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমি বিরোধীদের সাথে একত্রে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমি ওদের সাথে ইমিগ্রেশন ইস্যুতে কাজ করতে পারি।
ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, যে প্রেসিডেন্ট সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছেন, এসাইলাম কঠোর করেছেন এবং গণহারে ডিপোর্টেশনের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, আজ তিনি ইমিগ্রেশন বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ দেখালেন।
বুধবারই নিউইয়র্ক টাইমস নির্বাচনী ফলাফল উল্টে যাওয়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করে, ইমিগ্রেশনসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ধরপাকড়ের আতংক ভোটারদের ইমোশনাল ইস্যুতে পরিণত হয়, যা তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য করেছে। ভোটারদের সাথে কথা বলে টাইমস বলছে, মেক্সিকোর সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দেয়ায় তারা ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তিনি আমেরিকানদের গুলি করে মারবেন, ইমিগ্রান্টদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাবে। নিউইয়র্ক টাইমস বিশিষ্টজনদের মতামত দিয়ে লেখে, ইমিগ্রেশন নিয়ে রিপাবলিকানদের নির্দয়তা, রাজনীতি এবং বৈষম্যের প্রতিফলন ঘটল নির্বাচনের ফলাফলে।
টাইমস বলছে, প্রেসিডেন্টের সাথে দূরত্ব রেখে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই পরাজয়ে শুধু যুদ্ধকে এককভাবে দোষারোপ না করে, ইমিগ্রেশন বিষয়েও আক্রমণাত্মক ভূমিকার সমালোচনা করে বাই—পার্টিজান আলোচনার ভিত্তিতে আন—ডকুমেনটেড ইমিগ্রান্টদের বৈধতার পথ খোঁজার কথা বলেন। তবে তিনি ‘এ্যামনেস্টি’ দেয়ার পক্ষে নন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ৬০০ শব্দের একটি অনলাইন পোস্টে তার মতামত ব্যক্ত করেন বুধবার।
বৃহস্পতিবার দ্য ইনডিপেনডেন্ট বলছে তারা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছে ফাস্টর্লেডি মেলানিয়া ডিপোর্টেশন বিষয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে তার ক্ষোভ প্রকাশ করলে প্রেসিডেন্ট তার হোয়াইট হাউজ ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের সমালোচনা করেন। দ্য ইনডিপেনডেন্ট বলছে ডিপোর্টেশনসহ কঠোর ইমিগ্রেশন পলিসির অন্যতম সমালোচক মেলানিয়া ট্রাম্প।
দ্য ইনডিপেনডেন্ট আরো বলছে সদ্য সমাপ্ত মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের ফলাফল প্রধানত প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন ও রিপাবলিকানদের বিগত ২ বছরের ভুল কার্যক্রমের বিরুদ্ধে গণরায় (রেফারেন্ডাম)।
