শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে || অপটিমিস্টস’র ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠান
বিশেষ প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশের প্রান্তিক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশে নিবেদিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি অপটিমিস্টস্—এর রজতজয়ন্তী তথা ২৫তম বর্ষপূর্তি উৎসব এবং তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান হয়ে গেল লং আইল্যান্ডের রয়েল পাম পার্টি সেন্টারে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে অপটিমিস্টসের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবীরা নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হন সংগঠনটির এই মাইলফলক অনুষ্ঠানে সহায়তা প্রদানের জন্য। প্রত্যাশার চাইতে অধিকসংখ্যক কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অপ্টিমিস্টস—এর মহান লক্ষ্যকে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করে তোলার জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও মূল বক্তা বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ফিলানথ্রপিস্ট সৈয়দ জাকি হোসেন সকল পরিস্থিতিতে অপটিমিস্টস্—এর কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য একটি ভিত্তিমূল এন্ডাউমেন্ট ফান্ড বা স্থায়ী তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন এবং তিনি নিজে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দান করার ঘোষণা দেন। প্রস্তাবটি উপস্থিত বহুসংখ্যক মহৎপ্রাণ ব্যক্তির কাছে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মনে হওয়াতে তারা নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে এই এন্ডাউমেন্ট তহবিলে সর্বমোট ২ লক্ষ ৭০ হাজার ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও এ পর্যন্ত আরও ৭০ হাজার ডলারের অধিক অর্থ অপটিমিস্টস্—এর বিভিন্ন নিয়মিত কর্মসূচির খাতে দান হিসেবে সংগৃহীত হয়। তহবিল সংগ্রহের এই কাজটিতে প্রধান ভূমিকা রাখেন অপটিমিস্টস্—এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সদস্য মোহাম্মদ আর চৌধুরী রানা, এবং সহায়তা প্রদান করেন আমিন মেহেদী ও নীলুফার চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানান অপটিমিস্টস্—এর চেয়ারম্যান ও কোফাউন্ডার শামীম আহমদ। এরপর অপটিমিস্টস্—এর বোর্ড অব ডিরেক্টর্স—এর প্রেসিডেন্ট ফাতেমা শাহাব রুমা বক্তব্য দেন। তিনি এ সময় তার কন্যা সুহায়লা উদ্দীনকে পরিচয় করিয়ে দেন। সুহায়লা তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করতে কাজ করেছে এবং মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেছে। অপটিমিস্টস্—এর অপর কোফাউন্ডার ও বর্তমান চিফ কোঅর্ডিনেটর মিনহাজ আহমদ অপটিমিস্টস্—এর প্রাথমিক দিককার কিছু স্মৃতিচারণ করেন। এসময় তিনি তার লেখা একটি পদ্য ‘উই আর দা অপটিমিস্টস্, অ্যান্ড উই আর দা বেস্ট, উই আর সো প্রোভেন দ্যাট, উই পাসড্ অল টেস্টস্’ পড়ে শোনান যা নিউইয়র্কের অনন্য সেবামূলক সংগঠনের গর্ব ও পরিচিতিকে তুলে ধরে। এই দিনটিতে মিনহাজ আহমদের সম্পাদনায় অপটিমিস্টস্—এর নিয়মিত প্রকাশনা ‘দি নিউ হোপ’ প্রকাশ করা হয় যাতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন রাহাত হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত অতিথিদের মধ্য থেকেও কিছু বক্তা অপটিমিস্টস্ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য, এবং অপটিমিস্টস্—এর সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন।
অপটিমিস্টস্—এর সার্বিক কর্মকান্ডে বিভিন্নভাবে অবদান রাখার জন্য অপটিমিস্টস্ এবার চারজন ব্যতিক্রমী মানুষকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করে। এ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসাইন, আভতার গাঞ্জু (মরণোত্তর), রাহাত হোসেন এবং ফকু চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে তরুণ স্বেচ্ছাসেবী গুঞ্জরী সাহা, এবং এর পরপরই সমবেতভাবে পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। এরপর অপটিমিস্টস্—এর বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন ও কর্মকান্ড উপস্থাপন করেন নাজ চৌধুরী ও ফজলে রাব্বি চৌধুরী। এ সময় ভিডিওতে বাংলাদেশের কার্যক্রমের ভিডিও ছবি প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অপটিমিস্টস্ বাংলাদেশ—এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মেজর জেনারেল আব্দুস সালামের ভিডিও বার্তাও বাজিয়ে শোনানো হয়।
অপটিমিস্টস্—এর রজত জয়ন্তী উৎসবে নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবকদের সংশ্লিষ্টতা ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের দিন অতিথিদের উপস্থিতি, ব্যবস্থাপনা, যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা, এবং মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অপটিমিস্টস—এর কর্মসূচিসমূহ এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতিকে বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরে। সকল তরুণ স্বেচ্ছাসেবীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নিউইয়র্কের বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী নূরুল আলম বাবুর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সাংস্কৃতিক পর্বের আয়োজন করা হয় যেখানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় দুই কণ্ঠশিল্পী নাজু আখন্দ ও রেশমী মির্জা কিছু জনপ্রিয় বাংলা গান পরিবেশন করেন।
সবশেষে অপটিমিস্টস—এর রজতজয়ন্তীকে সফল করে তোলার জন্য অপটিমিস্টস্—এর পক্ষ থেকে ধব্যবাদ জ্ঞাপন করেন আমিন মেহেদী ও অপটিমিস্টস্—এর প্রথম দিকের স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ আলী।
