ইলহান ওমর কি শেষ রক্ষা পাবেন?
বাঙালী প্রতিবেদনঃ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক কংগ্রেসসদস্য ইলহান ওমরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে কিনা তা তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রশাসন। প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালেই এই তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু সে সময় তদন্তকারীরা জানায় এই রকম কোনো প্রমাণ তারা পাননি। সম্প্রতি পুনরায় সেই তদন্ত শুরু হয়। হুমকি দেয়া হয় যে তার সিটিজেনশিপ পাওয়ার জন্য ইলহানের পিতা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তার জন্মতারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে পাল্টানো হয়েছে। গত সোমবার আকস্মিকভাবে কংগ্রেসসদস্য ইলান ওমরের ওয়াশিটন ডিসির এপার্টমেন্টে হানা দিয়ে ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তার বাড়ি তদন্ত করে এবং বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করে। এছাড়াও ইলহানের কয়েকজন আত্মীয়র বিরুদ্ধে আদালতের সাপিনা জারি করা হয়।
উল্লেখ্য ইলহান ওমর ২০১৯ সালে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস থেকে কংগ্রেসসদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন গৃহযুদ্ধ কবলিত সোমালিয়ার মোগাদিসুতে ১৯৮২ সালে। তার পিতা নূর ওমর মোহাম্মদ ছিলেন সোমালি সেনাবাহিনীর কর্নেল। সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় নূর তার অন্য সন্তানসহ ওমরকে নিয়ে পালিয়ে যান কেনিয়ায়। ১৯৯৫ সালে তিনি রিফিউজি হিসাবে আমেরিকায় এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।
কংগ্রেসদস্য নির্বাচিত হয়ে ইলহান ওমর হিজাব পরে হাউজে যোগ দেন। কিন্তু অনেক রক্ষণশীল তার এই পোশাক পছন্দ করেননি। সেই সাথে তিনি রক্ষণশীলদের প্রতি সোচ্চার হলে তার বিরুদ্ধবাদীর সংখ্যা বেড়ে যায়। উল্লেখ্য তিনি প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেট।
সোমবার ইমিগ্রেশন অফিসাররা তার এপার্টমেন্টে হানা দিলে অনেকেই মনে করেছিলেন, এ দফায় ইলহান ওমর হয়ত পার পাবেন না। ইমিগ্রেশন সম্পর্কিত যাবতীয় ভুল তথ্য উদঘাটন করে তার সিটিজেনশিপ প্রত্যাহার করে ডিপোর্ট করা হবে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন পোস্ট এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানালো, ২০১৯ সালেই ট্রাম্প প্রশাসন ইলহান ওমরের সিটিজেনশিপ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তদন্ত শেষে জানিয়েছিল তারা কোনো ভুল তথ্য প্রদানের প্রমাণ পায়নি। এই তদন্তের সাথে তিনজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা পোস্টকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানায়।
ইলহান ওমরের মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, এই তদন্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে। তদন্তকারীরা সোমবার তার বাড়ি থেকে কয়েক বাক্স ডকুমেন্ট, তার সেলফোন ও পাসপোর্ট জব্দ করে বলে এই তদন্ত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি মনে করি সে টেরিবল পারসন। তবে এ বিষয়ে যা করার করবে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস। আমার করার কিছু নেই।’
শুধু ইমিগ্রেশন বিষয়ে মিথ্যা তথ্যই নয়, ইলহান ওমরের অর্থ লেনদেন এবং বিয়ে নিয়েও নানামুখী তদন্ত চলছে। ২০১৯ সালে তদন্তে কিছু না পাওয়া গেলেও এবার হয়ত কোনো নয়—ছয় বের হয়ে যেতে পারে বলেও অনেকে আশংকা প্রকাশ করে বলছেন, শেষ পর্যন্ত কি ইলহান রক্ষা পাবেন?
