বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী প্রচরণা তুঙ্গে || কুনু—ফিরোজ প্যানেল

নিউইয়র্কঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু—ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে ব্যাপক সমর্থন জানালো বৃহত্তর ঢাকাবাসী। নিউইয়র্ক প্রবাসী বৃহত্তর ঢাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই সমর্থন জানানো হয়। বিশেষ করে ‘কুনু—ফিরোজ’ প্যানেলের সিনিয়র সহ সভাপতি দুলাল বেহেদু, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ এ আখতার বৃহত্তর ঢাকার সন্তান হওয়ায় প্যানেলটিকে যোগ্য প্যানেল হিসেবে সমর্থন জানানো হয়। উল্লেখ্য, দুলাল বেহেদু বৃহত্তর ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সভায় দুলাল বেহেদু বলেন, সোসাইটির নির্বাচনে আমি জয়ী হই বা না হই আমি সোসাইটির পাশে থাকবো, কমিউনিটির পাশে থাকবো এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে সাধ্যমত সহযোগিতা করবো। এটি আমার ওয়াদা। 

সভায় ঢাকাবাসীর পক্ষ থেকে আয়োজক কমিটির বক্তারা যোগ্য প্যানেল হিসেবে ‘কুনু—ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে কাজ করা এবং ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে জয়ী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অপরদিকে সভায় ‘কুনু—ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ তাদের বক্তব্যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশী কমিউনিটি গড়ার পাশাপাশি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন সোসাইটি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। 

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে আয়োজিত এই সভায় বিপুল সংখ্যক ঢাকাবাসী সপরিবারে অংশ নেন। এছাড়াও বিপুল সংখ্য বাংলাদেশী—আমেরিকান সভায় উপস্থিত হওয়ায় সভাটি উৎসবমুখর হয়ে উঠে। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া মুনাজাত করেন মাওলানা কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং গীতা থেকে পাঠ করেন বিমল চন্দ্র বর্মণ।

ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ট্রাস্টিবোর্ড চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এ আজিজ। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের অন্যতম উপদেষ্টা গিয়াস উদ্দিন। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন জিল্লুর রহমান জিল্লু, আলাউদ্দিন ভুলু, মোহাম্মদ রব মিয়া, নাসির খান পল, জামাল আহমেদ জনি, ‘কুনু—ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি জহির মোল্লা ও প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি ফারুক চৌধুরী, সাবেক স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নূরুল হক, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র (একাংশ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও মূলধারার রাজনীতিক শেখ শাহজাহান, নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম এন হায়দার মুকুট।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও সাভার উপজেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান। সভায় দুলাল বেহেদু সহ অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা শেখ সালাউদ্দিন খোকন ও মুক্তিযোদ্ধা আজাদ হোসেন, মুন্সিগঞ্জ—বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদৎ হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন সেলিম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট নূর আমিন, মিজানুর রহমান মিজান, সৈয়দ এ আর ফারুক প্রমুখ। 

সভায় এম আজীজ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান নেতৃত্ব আর কর্মকান্ড নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। বর্তমান কমিটির কোন যোগ্য নেতৃত্ব আমরা দেখছি না। তারা মিথ্যাচার করছে। আমরা চাই সোসাইটিতে যোগ্য নেতৃত্ব। আমরা সবাইকে নিয়ে সোসাইটিকে শক্তিশালী করতে চাই।

নাসির খান পল বলেন, সোসাইটিতে নেতৃত্ব দিতে সেলিম—আলীরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তারা নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা তো করেইনি বরং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কমিউনিটিকে বিভ্রান্ত করছে। তাই আমরা যোগ্য নেতৃত্ব চাই। ‘কুনু—ফিরোজ’ জয়ী হলে সোসাইটিতে যোগ্য নেতৃত্ব ফিরে আসবে। তিনি এই প্যনেলকে জয়ী করতে সবার সহযোগিতা চান। 

জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, কুনু ভাই আমার বড় ভাই। কিন্তু সোসাইটিত্বে যোগ্য নেতৃত্ব চাই বলেই ‘কুনু—ফিরোজ’ প্যানেলকে সমর্থন করছি। 

জামাল উদ্দিন আহমেদ জনি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই প্যানেলকে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান। 

গিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা বলছি সোসাইটি আমব্রেলা সংগঠন। সোসাইটির ৩৫ হাজার সদস্য হলে সিটি ও স্টেট প্রশাসনের অনুদান পাওয়ার কথা, সেই উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, আমরা সোসাইটিকে গণমুখী করেছি। এই গণমুখিতা ধরে রাখতে গণমুখী কর্মসূচী দরকার। তাই ‘কুনু—ফিরোজ’ প্যানেলকে বিজী করা দরকার। 

আজমল হোসেন কুনু বলেন, আমরা অপপ্রচারে বিশ্বাসী নই, কাজে বিশ্বাসী। যা বলবো তাই তাই করবো। আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনেরাল হোম প্রতিষ্ঠা করা। 

ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা স্বচ্ছ আর জবাবদিহিমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। 

মফিজুর রহমান রুমি বলেন, আমরা গণমুখী সোসাইটি চাই, সোসাইটি নিয়ে কোন মিথ্যাচার চাই না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।

Related Posts