‘নিউইয়র্কের একটি মুসলিম মেয়ে ও ৯/১১’র আতংক’ ডেইলি নিউজে শাহানা হানিফের অপ—এড
বাঙালী প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত একমাত্র কাউন্সিলউয়োম্যান শাহানা হানিফের অপ—এড প্রকাশিত হয়েছে নিউইয়র্কের বিখ্যাত হোমটাউন দৈনিক সংবাদপত্র ডেইলি নিউজে। ৯/১১এর প্রাক্কালে ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার প্রকাশিত এই অপ—এডের শিরোনাম ছিল ‘অ ঘবি ণড়ৎশ গঁংষরস এরৎষ ধহফ ৯/১১’ং ঋবধৎ’ (নিউইয়র্কের একটি মুসলিম কিশোরী এবং ৯/১১’র আতংক)। শাহানা হানিফ এই নিবন্ধে ৯/১১এ তার আতংক ও অনুভব কী ছিল তা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, গত বছর সিটি কাউন্সিলে পুনর্বার নির্বাচনের শেষ মুহূর্তটি অতিবাহিত করি পিএস ২৩০’র সেই স্কুলে যেখানে আমি ২০২১ সালের প্রচারণা শেষ করেছিলাম। তিনি ব্রুকলিনের কেনসিংটনে এই স্কুলেই লেখাপড়া করেন। তিনি লেখেন, ঐদিন আমি সালোয়ার—কামিজ পরেছিলাম, আমার মা এবং পাড়ার আন্টিরাও এই পোশাক পরেছিলেন। গত বছর তারা দুই মুসলমানকে ভোট দেন। দুজনই জয়ী হয়। একজন মেয়র জোহরান মামদানি, অপরজন আমি।
তিনি লেখেন, ২৫ বছর আগে, তখন আমার বয়স ১০, আমি এই স্কুলে ফিফথ গ্রেডের ক্লাসরুমে বসেছিলাম। আমি বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট পরিবারে বেড়ে উঠেছি। বাড়িতে ইংরেজির চেয়ে বাংলায় বেশি কথা বলতাম। সেদিনও আমি সালোয়ার—কামিজ পরেছিলাম। এবং মাথায় হিজাব ছিল। মুসলিম মানে আমি রমাদান, ঈদ উদযাপন করি। কিন্তু আমার এই পোশাক আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট স্টোরে পাওয়া যায় না।
‘আমি জানতাম আমি অন্যরকম। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর আমি বুঝতে শুরু করি অন্যরা আমাকে অন্যভাবে দেখছে। ..আমি যখন আমার বোনকে নিয়ে মসজিদে যাচ্ছি, পাশ দিয়ে চলে যাওয়া একটি গাড়ি থেকে জানালার গ্লাস নামিয়ে আমাদের উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলে ‘টেরোরিস্ট’। আমরা তখন শিশু। আমি তখন প্রতিবেশীদের নিয়ে একটি চিঠি লিখি প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু্য বুশকে, বলি তিনি যেন আমেরিকানদের উৎসাহিত করেন এদেশের মুসলমান শিশুদের সাথে শোভন আচরণ করতে। আমরা এই চিঠির উত্তর পাইনি আজো।
খুব দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। মুসলমান, আরব ও দক্ষিণ এশীয় নিউইয়র্কারদের নজরদারিতে আনা হয়, তাদের ডিটেনশনে পাঠানো হয়, প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়। জানতে পারি এসবই করা হচ্ছে ‘প্যাট্রিয়ট এ্যাক্ট’ নামক আইনের আওতায়। মুসলিম শিশুদের জন্য এই আচরণ ‘পলিটিক্যাল এডুকেশন’ হয়ে যায়।
‘পরে ব্রুকলিন কলেজে পড়ার সময় আমি দেখেছি পুলিশি নজরদারির বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বেধে উঠতে।.. ২০১৪ সালে আমি ‘মুসলিম রাইটার্স কানেকটিভ’ নামে সংগঠন গড়ে তুলি যাতে তারা তাদের আনন্দ, বিশ্বাস ও পরিবারের কথা লেখে।
‘.. ২৫ বছর পরে আমি যে ডিস্ট্রিক্টকে প্রতিনিধিত্ব করি, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি। মুসলিম নিউইয়র্কাররা আজ শিল্পী, পাবলিক সার্ভেন্ট, নির্বাচিত প্রতিনিধি। সর্বত্র। এটা হতো না। কারণ নিউইয়র্কাররা অত্যন্ত সহিষ্ণু। ওদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
‘আজ আমরা যখন ১১ সেপ্টেম্বরকে স্মরণ করি যেদিন প্রায় ৩,০০০ মানুষ হারিয়ে গেছে, তাদের পরিবার সিকি শতাব্দী ধরে এই কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক মুসলমান আছেন। আবার যারা পরবতীর্ পর্যায়ে সিটিকে গড়ে তুলেছেন তাদের মধ্যেও মুসলমান আছেন। আমি সকলের সাথে সম্মিলিতভাবে এর জন্য শোক প্রকাশ করেছি।
‘.. ২৫ বছর পরে আমাদের দায়িত্ব কেবল ওদের স্মরণ করার মধ্যেই যেন আটকে না থাকে, বরং যা আমাদের একত্রিত করেছে তার যেন চর্চা করতে পারি।
