৫০ রাজ্যের ৫০ ভালোবাসার গল্পঃ নেব্রাস্কা এলিনর অ্যান্ড পার্কঃ রেইনবো রাওয়েলের || আবদুল্লাহ জাহিদ

আমেরিকার নেব্রাস্কা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি, দূর দিগন্তে মিশে যাওয়া আকাশ, ভুট্টা ক্ষেত, দীর্ঘ মহাসড়ক আর মধ্যপশ্চিমের শান্ত, কিছুটা নিস্তরঙ্গ জনপদ। সেই নেব্রাস্কারই সবচেয়ে বড় শহর ওমাহা। ১৯৮৬ সালের সেই শহরের এক সাধারণ স্কুলবাসে পাশাপাশি বসে পড়েছিল দুটি কিশোরকিশোরীÑএলিনর আর পার্ক।

তারা তখন জানত না, বাসের সেই ছোট্ট আসনটিই একদিন হয়ে উঠবে তাদের পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।

তারা এটাও জানত নাÑকোনো কোনো প্রেম মানুষের জীবনে আসে থেকে যাওয়ার জন্য নয়; আসে তাকে বদলে দেওয়ার জন্য।

রেইনবো রাওয়েলের এলিনর এন্ড পার্ক মূলত সেই প্রথম প্রেমের উপন্যাস, যে প্রেম একই সঙ্গে কোমল অস্থির, আনন্দময় আতঙ্কিত, আশ্রয়দায়ী অথচ অনিশ্চিত। এখানে প্রেম কোনো রূপকথার রাজপুত্ররাজকন্যার গল্প নয়। বরং দুই অসম্পূর্ণ, কিছুটা একাকী, নিজেদের শরীর পরিচয় নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত কিশোরকিশোরীর পরস্পরের মধ্যে আশ্রয় খুঁজে পাওয়ার কাহিনী।

এলিনর ডগলাস যখন নতুন স্কুলে আসে, প্রথম দিন থেকেই তাকে আলাদা করে চোখে পড়ে।

তার উজ্জ্বল লাল চুল। ভারী শরীর। অদ্ভুত পোশাক। অর্থাভাবের কারণে পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতাও তার খুব বেশি নেই। অন্য মেয়েদের মতো সাজগোজ করে নিজেকে পরিবেশন করার কৌশল সে জানে না, কিংবা জানলেও তার সুযোগ নেই। ফলে স্কুলের নিষ্ঠুর কিশোর সমাজ তাকে খুব দ্রুতই চিহ্নিত করে ফেলেÑসেঅন্যরকম

আর কিশোরদের জগতে অন্যরকম হওয়ার মূল্য অনেক সময় বড় নির্মম।

স্কুলবাসে ওঠার পর কেউ তাকে পাশে বসতে দিতে চায় না। নতুন মেয়ে, অদ্ভুত পোশাক, অস্বস্তিকর উপস্থিতিÑসহপাঠীদের চোখে যেন সে এক অনাহূত সমস্যা।

সেই মুহূর্তে পার্ক শেরিডান অনিচ্ছার সঙ্গে নিজের পাশের আসনটি দেয়।

এটা কোনো প্রেমের আহ্বান নয়। এমনকি বন্ধুত্বের হাতছানিও নয়। পার্ক যেন শুধু একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে চায়।

এলিনর বসে পড়ে।

দুজনের মাঝখানে থেকে যায় কয়েক ইঞ্চি দূরত্ব এবং এক সমুদ্র নীরবতা।

পরদিনও তারা পাশাপাশি বসে।

তার পরদিনও।

এভাবেই প্রেমের গল্পটি শুরু হয়Ñকথা দিয়ে নয়, নীরবতা দিয়ে।

পার্ককে বাইরে থেকে এলিনরের মতো বিপন্ন মনে হয় না। স্কুলে তার অবস্থান তুলনামূলক নিরাপদ। সে শান্ত, সংযত এবং যতটা সম্ভব অন্যদের নজরের বাইরে থেকে জীবন কাটাতে অভ্যস্ত।

কিন্তু তার নিজের মধ্যেও পরিচয়ের সংকট আছে।

তার বাবা আমেরিকান, মা কোরিয়ান। মধ্যপশ্চিমের একটি প্রধানত শ্বেতাঙ্গ সমাজে বেড়ে ওঠা পার্ক নিজের এশীয় পরিচয় সম্পর্কে সচেতন। সে জানে, মানুষের চোখে তাকে কখনো কখনো আলাদা দেখায়। আবার বাবার প্রত্যাশিতপুরুষালিছাঁচের সঙ্গেও তার ব্যক্তিত্ব সবসময় মেলে না।

তাই এলিনর পার্কের মিল তাদের বাহ্যিক সাদৃশ্যে নয়।

তাদের মিলÑদুজনেই কোনো না কোনোভাবে প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

হয়তো সে কারণেই একজন আরেকজনকে দেখতে শুরু করে এমন চোখে, যে চোখে অন্যরা তাদের দেখে না।

স্কুলবাসে পাশাপাশি বসেও প্রথমদিকে তাদের মধ্যে তেমন কথা হয় না।

পার্ক কমিক বই পড়ে। এলিনর পাশে বসে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। প্রথমে পার্ক বিষয়টি খেয়াল করে না। পরে বুঝতে পারে, এলিনরও তার সঙ্গে সঙ্গে কমিকের প্যানেলগুলো পড়ছে।

তখন এক অদ্ভুত নীরব সমঝোতা তৈরি হয়।

পার্ক পাতা উল্টাতে একটু দেরি করতে শুরু করে, যাতে এলিনরের পড়া শেষ হয়।

কেউ কাউকে কিছু বলে না।

অথচ সেই সামান্য অপেক্ষাই যেন প্রথম প্রেমপত্র।

এরপর পার্ক এলিনরকে কমিক বই দিতে শুরু করে। তারপর আসে গান। ক্যাসেট টেপ। মিক্সটেপ। হেডফোন।

আজকের স্মার্টফোন, স্ট্রিমিং মিউজিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে বোঝা কঠিনÑআশির দশকে কাউকে নিজের প্রিয় গান রেকর্ড করে ক্যাসেট দেওয়া কতটা ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিল। সেটি যেন নিজের ভেতরের একটি গোপন ঘরের চাবি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া।

পার্ক এলিনরকে সেই চাবি দেয়।

এলিনর প্রবেশ করে পার্কের সংগীতের পৃথিবীতে।

আর পার্ক ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে থাকে এলিনরের জীবনের অন্ধকারে।

স্কুলে এলিনর নিপীড়নের শিকার, কিন্তু তার সবচেয়ে বড় বিপদ স্কুলে নয়।

বাড়িতে।

তার মা সাবরিনা এক সহিংস কর্তৃত্বপরায়ণ মানুষ রিচিকে বিয়ে করেছেন। রিচি এলিনরের সৎবাবা। তার উপস্থিতিতে গোটা পরিবার যেন সারাক্ষণ অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে।

অর্থকষ্ট তীব্র। ছোট্ট ঘরে অনেক ভাইবোন। ব্যক্তিগত পরিসর বলতে প্রায় কিছুই নেই। বাড়ির পরিবেশে ভালোবাসার চেয়ে ভয় বেশি, নিরাপত্তার চেয়ে অনিশ্চয়তা বেশি।

এলিনর জানে, রিচিকে রাগানো বিপজ্জনক।

তাই তার প্রতিদিনের জীবন যেন মাইন পাতা মাঠের ওপর দিয়ে হাঁটা।

এই পারিবারিক বাস্তবতা বোঝা জরুরি, কারণ তা না বুঝলে পার্কের প্রতি এলিনরের আকর্ষণের গভীরতাও বোঝা যায় না।

পার্ক তার কাছে শুধু প্রেমিক নয়, সে একটি নিরাপদ দরজা। একটি বিকল্প পৃথিবীর সম্ভাবনা।

পার্কের বাড়িতে প্রথম প্রবেশ করে এলিনর যেন অন্য এক গ্রহে এসে পড়ে।

এখানেও সমস্যা আছে। পার্কের বাবা কঠোর, ছেলের কাছ থেকে তার প্রত্যাশা অনেক। মা মিন্ডি নিজের মতো করে সংসার চালান। কিন্তু এই পরিবারের ভিতরে এমন একটি জিনিস আছে, যা এলিনরের বাড়িতে প্রায় অনুপস্থিতÑনিরাপত্তা।

মানুষ এখানে একে অন্যের সঙ্গে রাগ করে, তর্ক করে, অভিমান করে; কিন্তু প্রতিটি শব্দের আড়ালে সহিংসতার আশঙ্কা লুকিয়ে থাকে না।

এলিনরের কাছে এই স্বাভাবিকতাই অসাধারণ।

পার্কের মা প্রথমদিকে এলিনরকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। তার অদ্ভুত পোশাক, চেহারা আচরণ তাকে বিস্মিত করে। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনিও বুঝতে পারেন, মেয়েটির বাহ্যিক অস্বাভাবিকতার আড়ালে কতটা আহত অথচ সংবেদনশীল একটি মানুষ রয়েছে।

এই দুই পরিবারের বৈপরীত্য উপন্যাসটির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একদিকে এমন পরিবার, যেখানে ভালোবাসা অসম্পূর্ণ হলেও উপস্থিত। অন্যদিকে এমন পরিবার, যেখানে ভয় প্রতিদিনের বাতাসের সঙ্গে মিশে আছে।

এলিনর অ্যান্ড পার্ক’—এর প্রেম বড় কোনো নাটকীয় ঘোষণায় তৈরি হয় না। তাদের প্রেম তৈরি হয় ক্ষুদ্র মুহূর্তে। বাসে পাশাপাশি বসা। একটি কমিক বই ভাগ করে পড়া। ক্যাসেট বিনিময়। চোখে চোখ রাখা। এবং একদিনÑহাত ধরা।

প্রথম প্রেমের ইতিহাসে হাত ধরার ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো দৃশ্যগুলোর একটি। কিন্তু রাওয়েল এমনভাবে এই অনুভূতির নির্মাণ করেন যে পাঠক বুঝতে পারেন, ষোলো বছরের দুটি মানুষের কাছে আঙুলের সঙ্গে আঙুল জড়িয়ে যাওয়া কখনো কখনো পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমস্ত প্রেমের ঘোষণার চেয়েও প্রবল।

এলিনরের কাছে স্পর্শ সহজ নয়। কারণ নিজের শরীর নিয়েই তার অস্বস্তি আছে। সে নিজেকে সুন্দর মনে করে না। পৃথিবীও তাকে সুন্দর বলে শেখায়নি।

পার্কের চোখ তাকে প্রথমবার অন্যভাবে দেখতে শেখায়। সেখানে সে উপহাসের বিষয় নয়। সে কাক্সিক্ষত। সে প্রিয়।

এলিনরকে স্কুলে অপমান করা হয়। তার পোশাক নিয়ে হাসাহাসি হয়, শরীর নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়। তার জিনিসপত্রে অশ্লীল বার্তা লেখা হয়। কিন্তু পার্কের ভালোবাসা ধীরে ধীরে তার চারপাশে এক ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

অন্যদিকে এলিনরও পার্ককে বদলে দেয়। যে ছেলেটি এতদিন সংঘাত এড়িয়ে চলত, সে বুঝতে শেখেÑকখনো কখনো ভালোবাসা মানে কারও পাশে দৃশ্যমানভাবে দাঁড়ানো। অন্যায় দেখেও নিরপেক্ষ থাকা সবসময় শান্তি নয়; কখনো তা ভীরুতাও। 

তাদের প্রেম তাই শুধু রোমান্টিক আকর্ষণ নয়। দুজন দুজনকে নিজেদের নতুন সংস্করণে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এখানেইএলিনর অ্যান্ড পার্কসাধারণ কিশোর প্রেমের উপন্যাস থেকে আলাদা হয়ে যায়।

আমরা প্রেমের গল্পে প্রায়ই বিশ্বাস করতে চাই, ভালোবাসা সবকিছুকে জয় করবে। রাওয়েল সেই আরামদায়ক বিশ্বাসটি আমাদের দেন না। 

কারণ বাস্তব জীবনে ষোলো বছরের একটি ছেলে যতই ভালোবাসুক, সে সবসময় একটি মেয়েকে তার সহিংস পরিবার থেকে রক্ষা করতে পারে না। এলিনরের জীবনে বিপদ ক্রমে ঘনিয়ে আসে।

সে বুঝতে শুরু করে, স্কুলে তাকে লক্ষ্য করে লেখা অশ্লীল বার্তাগুলোর উৎস হয়তো তার ধারণার চেয়েও ভয়ংকর। যে বাড়িকে সে এতদিন শুধু অসুখী ভেবেছিল, সেটিই একসময় তার জন্য সরাসরি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। একসময় এলিনর বুঝতে পারে, তাকে চলে যেতেই হবে। তার মামা মিনেসোটায় থাকেন। সেখানে পৌঁছাতে পারলে হয়তো সে নিরাপদ থাকবে। কিন্তু কীভাবে যাবে?

এই সময় পার্ক এমন সিদ্ধান্ত নেয়, যা তাদের প্রেমকে কিশোর আবেগের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। সে এলিনরকে নিয়ে গাড়িতে রওনা হয় মিনেসোটার দিকে। যাত্রা প্রেমিকপ্রেমিকার আনন্দভ্রমণ নয়। এক পালানো।

পেছনে রয়ে যায় নেব্রাস্কা, স্কুলবাস, কমিক বই, ক্যাসেট, চুম্বন, গোপন দেখাÑআর একটি অসমাপ্ত কৈশোর। সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

পার্ক জানে, এলিনরকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া মানেই সম্ভবত তাকে হারানো। তবু সে যায়।

কারণ সত্যিকারের ভালোবাসার সবচেয়ে কঠিন শিক্ষা সম্ভবত এখানেইÑকখনো কখনো কাউকে ভালোবাসার অর্থ তাকে নিজের কাছে রাখা নয়; তাকে নিরাপদে চলে যেতে দেওয়া।

এলিনর মিনেসোটায় চলে যাওয়ার পর পার্ক তার কাছে চিঠি লেখে। একটি নয়। অনেক। কিন্তু উত্তর আসে না। পার্ক অপেক্ষা করে। দীর্ঘ নীরবতার পর একদিন পার্ক একটি পোস্টকার্ড পায়। এলিনরের কাছ থেকে। সেখানে মাত্র তিনটি শব্দ।

রাওয়েল সেই তিনটি শব্দ পাঠকের জন্য সরাসরি প্রকাশ করেন না। ফলে উপন্যাসের শেষ মুহূর্তে পাঠককেও পার্কের মতোই কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়।

কী লেখা ছিল? ভালোবাসার স্বীকারোক্তি? ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি?

নাকি এমন কোনো ব্যক্তিগত বাক্য, যার অর্থ শুধু তাদের দুজনের কাছেই পরিষ্কার?

লেখক উত্তর না দিয়ে উপন্যাস শেষ করেন।

আর সেই অসম্পূর্ণতাইএলিনর অ্যান্ড পার্ক’—এর সৌন্দর্য।

উপন্যাসটি শেষ করার পর প্রশ্ন থেকে যায়Ñএলিনর পার্ক কি আবার কখনো মিলিত হবে?

রাওয়েল নিশ্চিত উত্তর দেন না।

কিন্তু হয়তো সেটাই জরুরি নয়।

জীবনের কিছু মানুষ আমাদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত হাঁটে না, অথচ আমাদের জীবনের মানচিত্রে তাদের চিহ্ন কখনো মুছে যায় না।

প্রথম প্রেমের মানুষটি হয়তো পরবর্তী জীবনের সঙ্গী হয় না। কিন্তু তার হাত ধরেই আমরা প্রথম জানতে পারি হৃদয়ের ভেতরে এত আলো, এত ভয়, এত আকাক্সক্ষা জমে থাকতে পারে।

লেখক পরিচিতি:

রেইনবো রাওয়েল সমকালীন আমেরিকান কথাসাহিত্যের জনপ্রিয় লেখকদের একজন। তাঁর সাহিত্যজগতের সঙ্গে নেব্রাস্কার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ; তিনি ওমাহায় বসবাস করেন এবং তাঁর বহু রচনাতেই নেব্রাস্কা মধ্যপশ্চিম আমেরিকার জীবন ফিরে ফিরে এসেছে।

লেখালেখির শুরুতে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে উপন্যাস, তরুণদের সাহিত্য, ছোটগল্প এবং কমিকসÑবিভিন্ন ধারায় লিখেছেন। তাঁর রচনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো আপাতসাধারণ মানুষের আবেগের সূক্ষ¥ পর্যবেক্ষণ। প্রেম তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও সেই প্রেমের সঙ্গে প্রায়ই জড়িয়ে থাকে একাকিত্ব, আত্মপরিচয়, পরিবার, বন্ধুত্ব, সামাজিক অস্বস্তি এবং নিজেকে গ্রহণ করার সংগ্রাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে Attachments, Eleanor & Park, Fangirl, Landline, Carry On, Wayward Son, Any Way the Wind Blows, Scattered Showers এবং Slow Dance এছাড়া তিনি Pumpkinheads, Runaways প্রভৃতি কমিকস গ্রাফিক রচনার সঙ্গেও যুক্ত।

Related Posts