রোমান্টিক ইমেজ ভেঙে এবার অ্যাকশনে রাশমিকা
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে রোমান্টিক ধারার সিনেমার পরিচিত মুখ হলেও জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দান্না সম্পূর্ণ নতুন এক রূপে হাজির হতে চলেছেন তার আসন্ন সিনেমা ‘মাইসা’—তে। রোববার সন্ধ্যায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির প্রথম টিজার, যেখানে তার মারকাটারি ও অ্যাকশননির্ভর রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক ও সমালোচকরা। নবাগত পরিচালক রবীন্দ্র পুল্লে পরিচালিত এই সিনেমায় রাশমিকাকে একেবারে ভিন্ন এক গোণ্ড জনগোষ্ঠীর তরুণীর চরিত্রে দেখা যাবে, যিনি জীবনের কঠিন প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজের পথ নিজেই তৈরি করেন। টিজারের শুরুতেই রাশমিকার চরিত্রটিকে ক্লান্ত ও ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও মুহূর্তের মধ্যেই সেই হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে দেখা যায়। এরপরই টিজারে শুরু হয় তার অ্যাকশন তাণ্ডব। হাতে কাস্তে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া, হাত—পা কেটে ফেলা, লাথিতে ঘাড় ভেঙে দেওয়ার মতো রোমহর্ষক দৃশ্যের পাশাপাশি পানির নিচে একাধিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার সাবলীল লড়াই নজর কেড়েছে।
এছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর দৃশ্যও রয়েছে টিজারে। গ্ল্যামারনির্ভর বাণিজ্যিক ধারার নায়িকার ইমেজ ঝেড়ে ফেলে মাটির কাছাকাছি, শক্তিশালী ও নির্ভীক এক নারীর চরিত্রে তাঁর এই রূপান্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ইউটিউবের হিন্দি টিজারের কমেন্ট বক্সে দর্শকরা মন্তব্য করেছেন যে, নারীকেন্দ্রিক সিনেমা ঠিক এ রকমই হওয়া উচিত এবং এবার কোনো অভিনেত্রীকে কেবল গ্ল্যামারের জন্য নয়, বরং তাঁর অভিনয়দক্ষতার জন্য কাস্ট করা হয়েছে।
এই চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে রাশমিকাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এমনকি শুটিংয়ের একটি কঠিন অ্যাকশন দৃশ্যের কাজ করার সময় তাঁর টেনডন বা পেশির সঙ্গে হাড়কে যুক্ত রাখা টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ও যন্ত্রণাদায়ক চোটও পেয়েছিলেন তিনি। তার সেই পরিশ্রম ও নিবেদনই এখন টিজারের প্রতিটি ফ্রেমে ফুটে উঠেছে।
‘মাইসা’ সিনেমাটি আগামী ২৭ নভেম্বর তেলেগু, হিন্দি, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম—এই পাঁচটি ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ছবিটিতে রাশমিকা ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন ঈশ্বরী রাও, গুরু সোমসুন্দরম, রাও রমেশ, রাহুল রবীন্দ্রন, সামুথিরাকানি, শিবা কন্দুকুরি, কার্তিক রঞ্জিনি, তারক পন্নাপ্পা ও নিধি সিং। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ জুন মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি রোমান্টিক কমেডি—ড্রামা সিনেমা ‘কটকট ২’—এ শহীদ কাপুর ও কৃতি শ্যাননের সঙ্গে বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল রাশমিকাকে।
অন্য দিকে, ‘কিছু কিংবদন্তি সময়কে অতিক্রম করে বেঁচে থাকেন। কিছু সুর প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকে। আর কিছু গল্প অপেক্ষা করে সঠিক মুহূর্তে বলার জন্য। আজ সেই যাত্রার শুরু। আর এর অংশ হতে পারা আমার জন্য কতটা পরম সম্মানের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন’—রাশমিকা মান্দানার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের এ কথাগুলো একই সঙ্গে একটি ঘোষণা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য। রাশমিকা যে কিংবদন্তির কথা বলছেন, তিনি আর কেউ নন—ভারতের সংগীত ইতিহাসের অন্যতম মহান প্রতীক, কর্ণাটকী সংগীতশিল্পী ও প্রথম ভারতরত্নপ্রাপ্ত গায়িকা এমএস সুব্বুলক্ষ¥ী। তার বায়োপিকে মূল চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন রাশমিকা মান্দানা। তার জীবন, সংগীত ও উত্তরাধিকার এবার উঠে আসবে বড় পর্দায়। সুব্বুলক্ষ¥ীর ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে সিনেমাটির নাম ও প্রথম লুক উন্মোচন করা হয়, যেখানে কমল হাসান ও আল্লু অরবিন্দের মতো মহাতারকারা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছর ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন রাশমিকা। বিয়ের পর কিছুটা বিরতি নিয়ে এবার আবারো ফিরছেন নিয়মিত অভিনয়ে। আর কাজে ফেরার এ অধ্যায়েই তার সামনে এসেছে সুব্বুলক্ষ¥ীর মতো এক কিংবদন্তি চরিত্র। পর্দার ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’—এর পরিচিতি পেরিয়ে এবার বাস্তব জীবনের পরম পূজনীয় এক ধ্রুপদি মহীয়সীর ভূমিকায় নিজেকে উপস্থাপন করাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন রাশমিকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করে এ অভিনেত্রী জানান, এমন এক অমর কিংবদন্তির জীবনকাহিনী ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পাওয়া তার জন্য পরম সম্মানের এবং অত্যন্ত গর্বের বিষয়। সুব্বুলক্ষ¥ীকে শ্রদ্ধা ও স্নেহভরে ‘আম্মা’ সম্বোধন করে রাশমিকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এ অনন্য চরিত্রের মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি নিজের শতভাগ উজাড় করে দেবেন।
তবে তার এ রূপান্তরের পথটি খুব একটা সহজ হতে যাচ্ছে না। ভারতীয় চলচ্চিত্রে রাশমিকা বহু ভাষায় জনপ্রিয়তা পেলেও এই বায়োপিক তার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে। প্রবীণ অভিনেতা কমল হাসান রাশমিকার সেই কঠিন গুরুদায়িত্বকে বিশ্বখ্যাত মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিকে অভিনয়ের চাপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুব্বুলক্ষ¥ীর
মতো এক মহামানবীর চরিত্রে অভিনয় কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং গান গাওয়ার স্বকীয় ধরন, দৃষ্টির মায়া ও ভেতরের পরম ঐশ্বরিক অনুভূতি পর্দায় জাগিয়ে তুলতে হবে। সুব্বুলক্ষ¥ীকে ঘিরে এই বায়োপিকের নামকরণ হয়েছে ‘এমএস—এ লিগ্যাসি অন স্ক্রিন’ আর সিনেমাটি পরিচালনা করছেন ‘জার্সি’ ও ‘কিংডম’—এর নির্মাতা গৌতম তিন্নানুরি। সিনেমাটির সংগীত পরিচালনায় থাকছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির নাম ও প্রথম লুক। এখন অপেক্ষা শুধু পর্দায় সেই বহুকালের চেনা সুরের সঙ্গে রাশমিকার নতুন রূপের দেখা হওয়ার—এক কিংবদন্তিকে আরেক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার এ যাত্রায় তিনি কতটা নিজের করে নিতে পারেন সুব্বুলক্ষ¥ীকে সেটি দেখার অপেক্ষা।
