নতুন করে আলোচনায় স্পর্শিয়া
চরিত্রের বৈচিত্র এবং অভিনয়ের প্রতি নিজের আগ্রহ ধরে রেখে এগিয়ে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি তার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’ পরপর দুই উৎসবে পুরস্কার পাওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সিনেমাটি। পরিচালক নুরুল আলম আতিকের এ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্পর্শিয়া। সিনেমাটি নিয়ে তার অনুভূতি, চরিত্রের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
গর্ব ও কৃতজ্ঞতা
মানুষের বাগান পরপর দুই উৎসবে পুরস্কার পাওয়ায় গর্বিত স্পর্শিয়া। শুধু পুরস্কার অর্জন নয়, সিনেমাটি সামনে আরো সম্মান বয়ে আনবে বলেও প্রত্যাশা তার। স্পর্শিয়া বলেন, ‘অবশ্যই এটা অনেক গর্বের বিষয় যে আমাদের দেশের সিনেমা বিশ্ব দরবারে পুরস্কৃত হচ্ছে। এ সিনেমা আসন্ন কলকাতা পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগেও জায়গা করে নিয়েছে। সিনেমাটি সামনে আরো সম্মান এনে দেবে, এটাই প্রত্যাশা।’
পরিচালক আতিকের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক তিনি। এ সিনেমার পরিচালকের সঙ্গে আরো কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন অভিনেত্রী। স্পর্শিয়ার ভাষায়, ‘আতিক ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। তার সঙ্গে এর আগে আরো কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি সত্যি ভাগ্যবান।’
গল্পের ভেতর মানুষঃ মানুষের বাগান নামের মধ্যেই সিনেমার গল্পের ইঙ্গিত রয়েছে। মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও নানা চেনা—অচেনা আবেগকে ঘিরেই নির্মাণ হয়েছে সিনেমাটি। সে গল্পেরই একজন মানুষ স্পর্শিয়া।
নিজের চরিত্রের সঙ্গে সিনেমার নামের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের বাগানের অন্যতম একজন মানুষ আমি। গল্পটা মানুষ, মানুষের জীবন, জানা—অজানা অনেক আবেগ নিয়ে তৈরি হয়েছে।’
চরিত্রটি নির্মাণে নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লেগেছে, এমন প্রশ্নে অভিনয় সম্পর্কে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন স্পর্শিয়া। তার মতে, একটি চরিত্র কল্পনা থেকে তৈরি হলেও সেখানে অভিনয়শিল্পীর নিজের জীবনের কোনো না কোনো বাস্তবতা মিশে থাকে। তিনি বলেন, ‘একটি চরিত্র করতে যেমন কল্পনা লাগে, তেমনি প্রত্যেকটি চরিত্রে আমাদের লুকানো কোনো না কোনো বাস্তবতা মিশে থাকে। এ সিনেমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’
পারিবারিক গল্পের টান
সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক গল্পের সিনেমা ও নাটক দর্শকের মধ্যে নতুন করে সাড়া ফেলছে। তবে স্পর্শিয়ার চোখে বিষয়টি একেবারেই নতুন নয়। তার মতে, পারিবারিক গল্প বরাবরই দর্শকের কাছে জনপ্রিয়। এখন এ ধরনের গল্প নিয়ে নির্মাণ বেড়েছে বলেই সাড়াটাও বেশি চোখে পড়ছে।
চরিত্র যত করি, ততই পরিণত হয়
দীর্ঘ সময় একই চরিত্রে কাজ করলে সেখানে নতুনত্ব ধরে রাখা অভিনয়শিল্পীর জন্য অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তার মতে, একটি চরিত্র যত বেশি সময় ধরে করা যায়, সেটি তত বেশি পরিণত হয়। সে চরিত্রে নতুনত্ব আনার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে পরিচালকের ওপর।
এদিকে গত বছরের শেষ দিকে ‘ব্যাচেলর পয়েন্টের সঙ্গে যাত্রা করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট শুরু করেছি বেশি দিন হয়নি আসলে। গত বছরের শেষের দিকে আমার যাত্রা শুরু হলো এ ওয়েব সিরিজে।
সিনেমায়ই স্বাচ্ছন্দ্য
সিনেমা ও নাটক—দুই মাধ্যমেই নিয়মিত কাজ করছেন স্পর্শিয়া। তবে কোন মাধ্যমে নিজেকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, এমন প্রশ্নে তার উত্তর একেবারেই স্পষ্ট—তা হলো সিনেমা।
সামনে কী ধরনের কাজ আসছে, সে বিষয়ে অবশ্য এখনই বিস্তারিত জানাতে চান না তিনি। তবে পরিকল্পনার কমতি নেই বলে জানালেন এ অভিনেত্রী। বরাবরের মতো নতুন কাজ দিয়েও দর্শককে চমকে দিতে চান তিনি।
