বিয়ে নিয়ে যা বললেন খায়রুল বাসার
এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকে ‘সামির’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তার পারদ কয়েক গুণ চড়িয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারে অনেক নায়িকার সঙ্গে কাজ করেছেন খায়রুল বাসার। ফলে, অনেকের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে পর্দার জীবনানন্দ দাশের। এ তালিকায় রয়েছেন—তানজিন তিশা, সাদনিমা বিনতে নোমানের মতো অভিনেত্রীরা। একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে পর্দার রোমান্স ব্যক্তিগত জীবনে কতটা গড়িয়েছে, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন খায়রুল বাসার। এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক সরাসরি জানতে চান—তানজিন তিশার সঙ্গে আপনার ব্রেকআপ হলো কেন? এ প্রশ্নের জবাবে বিস্ময় ভরা দৃষ্টি নিয়ে খায়রুল বাসার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ওর সঙ্গে আমার কবে প্রেম ছিল? প্রেম থাকলে তো ব্রেকআপ হবে! তার সঙ্গে আমার আগেও কথা হতো, এখনো কথা হয়। তানজিন তিশা একটু পাগলাটে, একটু পাগল মানুষ, রেগে যান! কিন্তু খুবই ভালো মানুষ।
নায়িকাদের সঙ্গে আপনার কেন প্রেমের গুঞ্জন ওঠে? সঞ্চালকের এ প্রশ্নের জবাবে খায়রুল বাসার বলেন, আমি সারা দিন নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করি। তাহলে নায়িকাদের সঙ্গে গুঞ্জন হবে না তো কার সঙ্গে হবে! আমাকে তো আর কারো সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। তারপরও তো বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আপনার নাম জড়িয়েছে। এই গুঞ্জন কতটা সত্যি? জবাবে খায়রুল বাসার বলেন, গুঞ্জন মোটেই সত্যি না। কিন্তু, এসব গুঞ্জন আমি উপভোগ করি।
অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আছে? এ বিষয়ে খায়রুল বাসারের পরিষ্কার জবাব—না। কিছুটা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আসলে আমি তো ‘না’ বলে দিলেই এটা শেষ হয়ে গেল না। সে আমার সহশিল্পী। সাদনিমা ভীষণ ভালো মানুষ এবং স্পষ্টবাদী।
তাহলে আপনি কবে বিয়ে করছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে খায়রুল বাসার বলেন, আমি বিয়ে নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই করতে পারছি না। বিয়ে নিয়ে এখন পর্যন্ত আমার একদমই কোনো ভাবনা নাই। আমার মনে হয়, আমার অনেক কাজ বাকি। পারিবারিক কিছু দায়—দায়িত্বের ব্যাপার আছে। আগে এগুলো শেষ করব, তারপর হয়তো অবকাশে বিয়ের ব্যাপারটি নিয়ে ভাবা যেতে পারে না।
খায়রুল বাসার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সঞ্চালক বলেন, উইকিপিডিয়াতে আপনার বয়স ৪৬ দেওয়া, তা কী খেয়াল করেছেন? হাসতে হাসতে খায়রুল বাসার বলেন, ৬৪ দিলেও মন্দ হতো না।
‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের সাফল্যের পর পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ নির্মাণ করেছেন নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’। সম্পর্কের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ধারাবাহিকটি। ‘এটা আমাদেরই গল্প’—এ খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, দীপা খন্দকার, নাদের চৌধুরী, মনিরা মিঠুসহ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী আলোচনায় ছিলেন। নতুন ধারাবাহিকটিতে তাদের সবাইকে দেখা যাচ্ছে না। তবে দীপা খন্দকার, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠুসহ বেশ কয়েকজন আছেন।
গত ৭ অক্টোবর চ্যানেল আই ও সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হয়েছে ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের। পূর্বের মতো এ ধারাবাহিকও এরই মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এ নাটকের সবচেয়ে বড় চমক জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম। সঙ্গে আছেন তরুণ প্রজন্মের তানজিম সাইয়ারা তটিনী ও খায়রুল বাসার। তাছাড়াও অভিনয় করছেন—এজাজুল ইসলাম, ফয়জুল ইয়ামিন, মুকিত জাকারিয়া প্রমুখ।
প্রায় এক দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটকট—টেলিফিল্ম উপহার দিয়েছেন খায়রুল বাসার। এ তালিকায় রয়েছে—‘রোদ বৃষ্টির গল্প’, ‘গল্পটা থেকে যায়’, ‘জলকৌড়ি’, ‘নাইট গার্ড’, ‘যুগল পাখির প্রেম বাগান’, ‘বাবুই’, ‘শহরে অনেক রোদ’, ‘এক্স=প্রেম’, ‘ভটভটি’, ‘গুণপোকা’ প্রভৃতি।
২০১৯ সালে ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে খায়রুল বাসারের। এরপর মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে ‘কাজলরেখা’, ‘বনলতা সেন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান তিনি। তাছাড়া ‘মহানগর’, ‘বোধ’, ‘কাবাডি’, ‘নিখোঁজ’ ওয়েব সিরিজে যেমন অভিনয় করেছেন, তেমনই ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’, ‘সাহস’, ‘প্রজন্ম টু’—এর মতো ওয়েব ফিল্ম উপহার দিয়েছেন এই তারকা।
মানবিক খায়রুল বাসার
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মুখলেসুর রহমানের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। এই অসহায় পরিবারকে প্রতি মাসে আর্থিক সাহায্যের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসে— দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও অন্যের কাছে হাত না পেতে গাছের ছাল ছাড়িয়ে উপার্জন করে নিজের ও বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণ করছেন মুখলেসুর রহমান। প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুখলেসুরের জীবনসংগ্রামের সেই গল্প নাড়িয়ে দিয়েছে অভিনেতা খায়রুল বাসারকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি মুখলেসুরের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মুখলেসুরকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে খায়রুল বাসার লিখেছেন, মুখলেসুর রহমান আমার ভাই। আমি প্রতি মাসে অল্প করে হলেও তার পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। কেউ আমাকে এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
এরই মধ্যে মুখলেসুরের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেতা। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরেই মুখলেসুর ও তার পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
মানবিক নানা উদ্যোগের জন্য এর আগেও প্রশংসিত হয়েছেন খায়রুল বাসার। কিশোরগঞ্জের কবর খননকারী মনু মিয়ার ঘোড়া হত্যার ঘটনা ভাইরাল হলে তিনি মনু মিয়ার জন্য নতুন একটি ঘোড়া কিনে দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।
