কংগ্রেস কি নিয়ন্ত্রণের পালাবদলের দ্বারপ্রান্তে? ড. জীবন বিশ্বাস

ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অসন্তোষকে ক্ষমতার এক তাৎপর্যপূর্ণ পুনর্বিন্যাসে রূপ দেওয়ার মাঝখানে এখন দাঁড়িয়ে আছে মাত্র কয়েকটি কংগ্রেসীয় আসন। আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকার ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্য এবং ৩৫ জন সিনেটর নির্বাচন করবেন। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল প্রশ্নটি কে কোন আসনে জয়ী হবেনÑতার চেয়েও গভীর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির ঠিক মধ্যভাগে এসে আমেরিকানরা কার্যত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেনÑএকক রিপাবলিকান শাসন কি অব্যাহত থাকবে, নাকি হোয়াইট হাউজের বিপরীতে কংগ্রেস আবার হয়ে উঠবে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য? এ প্রসঙ্গেই আজকের উপসম্পাদকীয়।

সংখ্যার হিসাবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য কংগ্রেসের হাউজ বা প্রতিনিধি পরিষদই অপেক্ষাকৃত সহজ লক্ষ্য। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত হাউজ ক্লার্কের হিসাবে রিপাবলিকান সদস্য ২১৮, ডেমোক্র্যাট ২১৪, স্বতন্ত্র একজন এবং শূন্য আসন দুটি। পূর্ণ ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। বর্তমান শূন্য আসনের একটি আগে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল এবং স্বতন্ত্র কেভিন কাইলি রিপাবলিকানদের সঙ্গে ককাস করেনÑএই কারণে সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র তিনটি আসন বাড়াতে হবে।

এই সামান্য সংখ্যাগত ব্যবধানকেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ। ২৫ সেপ্টেম্বরের কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টেও রেটিংয়ে হাউজের ২২টি আসন ছিল ‘টস আপ’Ñ হয় এদিকে নয় ওদিকে। আরও ৫২টি আসন কোনো না কোনো দলের ‘শীর্ন’ বা ‘সম্ভাব্য’ শ্রেণিতে ছিল। একই সময়ে ডেমোক্রেটিক কংগ্রেশনাল ক্যাম্পেইন কমিটি বা ডিসিসিসি তাদের নিজস্ব ‘প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা’র তালিকা বিস্তৃত করে ৬৬টি রিপাবলিকান—নিয়ন্ত্রিত আসন পর্যন্ত নিয়ে গেছেÑযার মধ্যে ক্যানসাস, ওকলাহোমা, আরকানসাস এবং ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান—প্রবণ ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটনের কিছু এলাকাও রয়েছে। ডিসিসিসি—র এই তালিকা নিরপেক্ষ পূর্বাভাস নয়; এটি দলীয় নির্বাচনী কৌশলের দলিল। তবু এর ভৌগোলিক বিস্তার বলে দেয়, ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজনীয় তিন আসনের তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত হয়েছে, সম্ভাবনাও বেড়েছে।

জাতীয় জনমত জরিপও একই প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সে ইঙ্গিত প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে না। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জরিপ নিয়ে রিয়ালক্লিয়ারপোলিং—এর গড় হিসাবে জেনেরিক কংগ্রেশনাল ব্যালটে ডেমোক্র্যাটরা ৫০.২ শতাংশ এবং রিপাবলিকানরা ৪২.৪ শতাংশ—অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান ৭.৮ শতাংশ পয়েন্ট। পৃথক জরিপে অবশ্য ব্যবধানের তারতম্য যথেষ্ট। ১৪—১৫ সেপ্টেম্বর পরিচালিত এনপিআর, পিবিএস এবং মেয়ারিস্ট জরিপে ১,২৮০ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ছিলেন ৫৩—৪১ ব্যবধানে; নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল ৩.৮ শতাংশ পয়েন্ট। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যবধান আরও বড়—ডেমোক্র্যাট ৫৭ শতাংশ, রিপাবলিকান ৩২। সাম্প্রতিক রয়টার্স—ইপসোস জরিপে ব্যবধানটি ৪৪—৩৭।

কিন্তু এসব সংখ্যা একটি রাজনৈতিক আবহাওয়ার ছবি মাত্র, প্রকৃত নির্বাচনের ফলাফল নয়। প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলো জাতীয় জনপ্রিয় ভোটে নয়, পৃথক পৃথক নির্বাচনী ডিস্ট্রিক্টে নির্ধারিত হয়। ভোটারের ভৌগোলিক বিন্যাস, আসন পুনর্বিন্যাস, ইনকামবেন্সি, প্রার্থীর মান, প্রচার—অর্থ এবং ভোটার উপস্থিতির পার্থক্যÑএসবের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বড় ব্যবধানও আসনসংখ্যায় অনেক সংকীর্ণ হয়ে যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকানদের আর্থিক সুবিধাও রয়েছে। অতএব রাজনৈতিক গতি ও নির্বাচনী অংক পরস্পর সম্পর্কিত হলেও তারা এক জিনিস নয়।

সিনেটের সমীকরণটি আরও বিস্ময়করÑএবং আরও কঠিন। বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন; ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি, আর দুই স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ককাস করেন। সংবিধান অনুযায়ী সমতা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনেটে নির্ণায়ক ভোট দিতে পারেন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের কার্যত প্রয়োজন ৫১ জন সহযোগী সিনেটরÑবর্তমান ককাসভুক্ত সব আসন ধরে রাখলে দরকার হবে চারটি আসন বৃদ্ধি। মাত্র কয়েক মাস আগেও এই সম্ভাবনাকে কাঠামোগতভাবে অত্যন্ত কঠিন মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৬ অক্টোবর কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট সাতটি সিনেট নির্বাচনকে ‘ঞড়ংং টঢ়’ বা ‘হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেÑআলাস্কা, আইওয়া, ক্যানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও এবং টেক্সাস। নর্থ ক্যারোলাইনা চলে গেছে ‘সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক’ শ্রেণিতে, আর নিউ হ্যাম্পশায়ার ‘শীর্ণ, হলেও হতে পারে ডেমোক্রেটিক’। ফলে কুক ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নেট আসন বৃদ্ধির পরিসর দুই থেকে ছয় পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেÑঅর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন বাস্তব সম্ভাবনার মধ্যে, যদিও কোনোভাবেই নিশ্চিত নয়। ডেমোক্র্যাটদের একই সঙ্গে মিশিগান রক্ষা করতে হবে এবং এমন কয়েকটি স্টেটে রিপাবলিকানদের হারাতে হবে, যেগুলোর মৌলিক রাজনৈতিক ভূগোল এখনও রিপাবলিকানদের পক্ষে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৩৮ সালের পর অনুষ্ঠিত ২২টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ২০টিতেই প্রেসিডেন্টের দল হাউজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ব্যতিক্রম দুটিÑ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের সময় এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়। অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তুলনামূলক উচ্চ প্রেসিডেন্সিয়াল জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এই ব্যতিক্রম। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভাষায় মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রায়ই এক ধরনের ‘জনমতের ভারসাম্য—সংশোধন’Ñক্ষমতা একদিকে অতিরিক্ত সরে গেছে বলে মনে হলে ভোটাররা কংগ্রেসের মাধ্যমে শাসক জোটকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ইতিহাস এখানে প্রবণতা দেখায়, বিধিবদ্ধ নিয়ম নয়।

এ বছর সেই প্রবণতা থেকে ট্রাম্পকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। সেপ্টেম্বরের মেয়ারিস্ট জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে তাঁর কাজের অনুমোদন ছিল ৩৯ শতাংশ। একই জরিপে ৪৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের কংগ্রেসীয় ভোট মূলত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট; বিপরীতে ২৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের ভোট মূলত ট্রাম্পের পক্ষে। অক্টোবরের রয়টার্স—ইপসোস জরিপে তাঁর সামগ্রিক অনুমোদন নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে এবং নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ৪৪—৩৭ ব্যবধানে এগিয়ে। তবু রিপাবলিকান ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অসাধারণ ক্ষমতা এখনও রয়েছে। ফলে তাঁর প্রভাব দ্বিমুখীÑ তিনি যেমন রিপাবলিকান ভোটারদের উদ্দীপ্ত করতে পারেন, তেমনি স্বতন্ত্র ও অসন্তুষ্ট ভোটারদের বিরোধিতাকেও আরও তীব্র করে তুলতে পারেন।

এই দুই শক্তির মধ্যে কোনটি শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পাবে, তার বড় নির্ধারক হতে পারে অর্থনীতি। প্রচলিত অর্থে অর্থনীতি মন্দার মধ্যে নেই; ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি বার্ষিক হারে ২.২ শতাংশ বেড়েছে এবং বেকারত্ব প্রায় ৪.২ শতাংশ। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশে আমেরিকান ফ্যামিলির উদ্বেগও গভীর। আগস্টে ভোক্তামূল্য আগের বছরের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ বেশি ছিল; ৫ অক্টোবর নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় মূল্য দাঁড়ায় গ্যালনপ্রতি ৪.৩৫৪ ডলারÑএক বছর আগের তুলনায় ১.২০ ডলারেরও বেশি। জুলাইয়ে পিউ রিসার্চ—এর জরিপে মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘এক্সিলেন্ট’ বা ‘গুড’ বলেছেন। রাজনৈতিক শিক্ষাটি পুরনো, কিন্তু প্রায়ই বিস্মৃত; ভোটাররা অর্থনীতিকে জিডিপি’র সারণিতে অনুভব করেন না; অনুভব করেন মুদিদোকানের বিল, বাড়িভাড়া, মর্গেজ, চিকিৎসা ব্যয় আর পেট্রল পাম্পের সংখ্যায়।

পররাষ্ট্রনীতিও এ বছর ঘরোয়া অর্থনীতির সঙ্গে মিশে গেছে। চলমান যুক্তরাষ্ট্র—ইরান সংঘাত সামরিক ব্যয়, হতাহতের শঙ্কা এবং জ্বালানিমূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ৬ অক্টোবর ওহাইওতে আগাম ভোট শুরু হলে রয়টার্স—এর প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে হতাশাকে ভোটারদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে পাওয়া যায়; সেখানে রিপাবলিকান জন হাস্টেড ও ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউনের সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন হাড্ডাহাড্ডি। এভাবেই পররাষ্ট্রনীতি কখনো কখনো পরোক্ষ পথে ব্যালট বাক্সে পৌঁছে যায়Ñদূরদেশের যুদ্ধ তখন আর দূরের থাকে না, যখন তার অভিঘাত পাড়ার পেট্রল পাম্পের মূল্যফলকে এসে লেখা হয়।

তবে নির্বাচনের সাংবিধানিক তাৎপর্য দলীয় স্কোরবোর্ডের চেয়ে বড়। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ বাজেট বরাদ্দ, কমিটির তদন্ত ও সাপিনা ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে; এবং সংবিধান অনুযায়ী ইমপিচমেন্টের একচ্ছত্র ক্ষমতাও প্রতিনিধি পরিষদের। ডেমোক্র্যাট—নিয়ন্ত্রিত সিনেট বিচারক ও নির্বাহী বিভাগের নিয়োগ—অনুমোদনের গতিপথ বদলে দিতে পারে এবং মনোনয়ন ও চুক্তির ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক ‘পরামর্শ ও সম্মতি’ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর শক্তিশালী আইনগত ও তদন্তমূলক নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে; একটি মাত্র কক্ষ বদলালেও নিয়ন্ত্রণ হবে নির্বাচিত ও সীমিত। এর কোনোটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর আইনপ্রণয়ন নিশ্চিত করে নাÑবিশেষত সিনেটের প্রক্রিয়াগত বাধার কারণে। কিন্তু প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতা যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরে পরিচালিত হয়, সেই কাঠামো বদলে যায়।

ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিÑবলা যেতে পারে একটি নির্বাচনী জোয়ারের পরিস্থিতি স্পষ্টতই তৈরি হয়েছে। হাউজের পথ তুলনামূলক প্রশস্ত; আর সিনেটের যে পথ কয়েক মাস আগেও প্রায় অচিন্ত্যনীয় ছিল, এখন তা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু জরিপের ব্যবধান ব্যালট নয়, নির্বাচনী মানচিত্র দখলকৃত আসন নয়, এবং রাজনৈতিক গতি এখনও ভোটার উপস্থিতি, অর্থ, ভূগোল ও আগামী কয়েক সপ্তাহের অপ্রত্যাশিত ঘটনার কাছে সংবেদনশীল।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নির্ধারণ করে কে শাসন করবেন দেশ। মধ্যবর্তী নির্বাচন নির্ধারণ করতে পারেÑতিনি কতটা স্বাধীনভাবে শাসন করতে পারবেন। তাই ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত শুধু রিপাবলিকান কিংবা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিষয়ে গণরায় নাও হতে পারে; এটি হয়ে উঠতে পারে গণতান্ত্রিক ক্ষমতার এক পুনঃসমন্বয়Ñএকটি জনগোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত, যারা প্রেসিডেন্সির মধ্যপথে এসে নির্ধারণ করবে, একই হাতে কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক ক্ষমতার কতটা তারা আরও দুই বছর অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রস্তুত।


Related Posts