৫০ রাজ্যের ৫০ ভালোবাসার গল্প ঃ নিউজার্সি গুডবাই, কলাম্বাসঃ ফিলিপ রথ || আবদুল্লাহ জাহিদ নিউইয়র্ক

আমেরিকান সাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনায় যে কয়েকটি উপন্যাস বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে নিখুঁত ও নিপুণভাবে ধরে রাখতে পেরেছে, ফিলিপ রথের আত্মপ্রকাশমূলক নোভেলা গুডবাই, কলাম্বাস তার মধ্যে অন্যতম। ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সী তরুণ রথের এই আখ্যানটি কেবল সাহিত্যজগতে এক নতুন তারকার আগমন ঘোষণা করেনি, বরং তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস, আত্মপরিচয়ের সংকট এবং আমেরিকান ড্রিমের ভেতরের অসংগতিকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছিল। ১৯৫০—এর দশকের শেষের দিকে নিউজার্সি স্টেটের পটভূমিতে রচিত এই কাহিনী একদিকে যেমন এক তরুণ—তরুণীর ক্ষণস্থায়ী গ্রীষ্মকালীন প্রেমের বিবরণ, তেমনি অন্যদিকে তা সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক বৈষম্য এবং ইহুদি—আমেরিকান সংস্কৃতির অভ্যন্তরীণ মনোস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের এক দলিল।

ভৌগোলিক মানচিত্র ও সামাজিক ব্যবধান: নিউয়ার্ক বনাম শর্ট হিলস

গুডবাই, কলম্বাস উপন্যাসের প্রাণভোমরা লুকিয়ে আছে এর ভৌগোলিক পটভূমিতে। নিউ জার্সির দুটি বিপরীতধর্মী এলাকা—‘নিউয়ার্ক’ (ঘবধিৎশ) এবং আরেকটি ‘শর্ট হিলস’ (ঝযড়ৎঃ ঐরষষং)—এখানে কেবল দুটি স্থান হিসেবে নয়, বরং দুটি ভিন্ন আর্থ—সামাজিক শ্রেণির প্রতীক হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ও কথক নীল ক্লাগম্যান (ঘবরষ কষঁমসধহ)। সে ২৩ বছরের এক সাধারণ তরুণ, যে নিউয়ার্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে কম বেতনে সাধারণ একজন সহকারী হিসেবে কাজ করে। সে থাকে তার চাচা—চাচির সঙ্গে নিউয়ার্কের এক মধ্যবিত্ত, কিছুটা অনুজ্জ্বল ও ধূলিধূসর এলাকায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ—উত্তর আমেরিকার কর্মজীবী ইহুদি সম্প্রদায়ের চিরাচরিত জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে নীল। অন্যদিকে, প্রেমিকা ব্রেন্ডা প্যাটিমকিন হচ্ছে রেডক্লিফ কলেজের মেধাবী ও সুন্দরী ছাত্রী, যার পরিবার নিউয়ার্কের পুরনো ইহুদি পাড়া ছেড়ে সদ্য স্থানান্তরিত হয়েছে নিউ জার্সির অত্যন্ত ধনকুবের ও অভিজাত এলাকা ‘শর্ট হিলস’—এ। ব্রেন্ডার বাবা প্লাম্বিং সামগ্রীর ব্যবসা করে প্রচুর ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন।

রথ এই দুই ভৌগোলিক দূরত্বের মাধ্যমে সামাজিক শ্রেণির এক সুগভীর খাদ খনন করেছেন। নীলের পুরাতন, খসখসে, ঘামে ভেজা নিউয়ার্ক থেকে ব্রেন্ডাদের চোখধাঁধানো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, কানায় কানায় ফলে ভরা রেফ্রিজারেটর শোভিত শর্ট হিলসের প্যাটিমকিন ম্যানসনে যাতায়াত মূলত মার্কিন সমাজের নিম্ন—মধ্যবিত্ত বলয় থেকে উচ্চবিত্ত অভিজাত বলয়ে প্রবেশের এক মানসিক ও সামাজিক যাত্রা।

প্রেমের আড়ালে শ্রেণিদ্বন্দ্ব ও বস্তুবাদের ব্যবচ্ছেদ

গ্রীষ্মের এক তপ্ত দিনে এক কান্ট্রি ক্লাবের সুইমিং পুলে নীলের সঙ্গে ব্রেন্ডার প্রথম দেখা হয়। ব্রেন্ডার চশমা ধরে রাখার এক সামান্য অনুরোধ থেকে শুরু হওয়া পরিচয় দ্রুতই এক প্রগাঢ় শারীরিক ও মানসিক সম্পর্কে রূপ নেয়। রথের বর্ণনায় এই প্রেম কেবল রোমান্টিক আবেগে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে দুটি সামাজিক শ্রেণির পারস্পরিক আকর্ষণ ও সংঘাতের রণক্ষেত্র।

নীল ব্রেন্ডার প্রতি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ অনুভব করে, কিন্তু একই সঙ্গে সে ব্রেন্ডাদের পরিবারের প্রাচুর্য, সীমাহীন বস্তুভোজিতা এবং ভন্ডামির প্রতি এক ধরনের বিতৃষ্ণাও পোষণ করে। প্যাটিমকিন পরিবারের গৃহপ্রাঙ্গণে স্পোর্টস সরঞ্জাম, লন টেনিস কোট, বাস্কেটে ভরপুর রসালো ফলÑসবই এক অতি ধনতান্ত্রিক মার্কিন সমাজের সাক্ষ্য দেয়। ব্রেন্ডার বাবা বেন প্যাটিমকিন একজন কঠোর পরিশ্রমী মানুষ, যিনি নিজের ঘাম ঝরিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন; তবে সেই অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি সমাজে কেবল মর্যাদা কিনতে চেয়েছেন। ব্রেন্ডার মা একজন চরম অহংকারী নারী, যিনি নিজের অতীত মধ্যবিত্ত পরিচয়কে ঢেকে রাখতে সদা তৎপর এবং নীলের মতো সাধারণ পারিবারিক পটভূমির তরুণকে জামাতা হিসেবে মানতে নারাজ।

নীল যখনই ব্রেন্ডাদের প্রাসাদোপম বাড়িতে সময় কাটায়, তখনই সে নিজেকে এক দূরবর্তী পর্যবেক্ষক বলে মনে করে। সে বুঝতে পারে, ব্রেন্ডার ভালোবাসা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আত্মনিবেদন নয়; বরং তা কিছুটা লৌকিকতা, কিছুটা অহংকার এবং কিছুটা স্বাতন্ত্র্য জাহির করার মাধ্যম। ব্রেন্ডা নিজের নাক সার্জারি করে ছোট করেছে, যাতে তাকে ইউরোপীয় বা প্রথাগত আমেরিকানদের মতো দেখায় এবং ইহুদি চেহারার বৈশিষ্ট্য কিছুটা ঢাকা পড়ে। রথ এই ‘নাক সার্জারি’ বা ‘ঘড়ংব ঔড়ন’—এর রূপক দিয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে উদীয়মান মার্কিন ইহুদি সমাজ নিজেদের ঐতিহ্য ও পরিচয়কে বিসর্জন দিয়ে তথাকথিত মূলধারার শ্বেতাঙ্গ অভিজাত সমাজে মিশে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল।

নোভেলার নামকরণ ও ‘কলাম্বাস’—এর করুণ বিদায়

উপন্যাসের শিরোনাম ‘গুডবাই, কলাম্বাস’ কেবল একটি বিদায় সম্ভাষণ নয়, এটি উপন্যাসের মূল দর্শনের প্রতীকী প্রকাশ। ব্রেন্ডার বড় ভাই রনি প্যাটিমকিন ছিল ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির (যা ওহাইওর কলম্বাস শহরে অবস্থিত) একজন প্রখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড়। সে তার কলেজ জীবন শেষ করে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিতে ঘরে ফিরে এসেছে। রনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে একটি গ্রামোফোন রেকর্ড, যাতে তার কলেজের শেষ দিনের ভাষণ, চিয়ারলিডারদের গান এবং ক্যাম্পাসের স্মৃতি রেকর্ড করা আছে।

রনি প্রায়শই আবেগপ্লুত হয়ে সেই রেকর্ডটি শোনে, যার শেষ বাক্যটি ছিল: ‘এড়ড়ফনুব, ঈড়ষঁসনঁং... মড়ড়ফনুব.’ রনির জন্য কলম্বাস শহর ও তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল তার জীবনের সেরা সময়Ñদায়িত্বহীন, জাঁকজমকপূর্ণ ও ক্রীড়া নৈপুণ্যে ভরা এক সোনালী অতীত। পারিবারিক ব্যবসায় প্রবেশ করার অর্থ সেই স্বপ্নের জগৎকে চিরতরে বিদায় জানানো।

কিন্তু রথ এই ‘কলম্বাস’ শব্দটিকে আরও গভীর অর্থে ব্যবহার করেছেন। ক্রিস্টোফার কলম্বাস যেমন নতুন আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন, তেমনি এই উপন্যাসে ‘কলম্বাস’ হলো মার্কিন স্বপ্নের সেই আদি রূপক। কিন্তু এই তরুণ প্রজন্মে এসে সেই স্বপ্ন আর কোনো আত্মিক বা মহান উদ্দেশে সীমাবদ্ধ নেই; তা পরিণত হয়েছে সস্তা বস্তুবাদের মহোৎসবে। রনি যেমন তার কলেজকে বিদায় জানায়, নীলও তেমনি ক্রমশ অনুধাবন করে যে, সে যে আমেরিকার স্বপ্ন দেখেছিল বা ব্রেন্ডার মধ্যে যে রূপকথা সে খুঁজেছিলÑতা আদতে এক অন্তঃসারশূন্য ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়।

লাইব্রেরির কৃষ্ণাঙ্গ বালক ও বিকল্প জগতের খোঁজে নীল

উপন্যাসের মূল প্রেমের সম্পর্কের পাশাপাশি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পার্শ্ব—কাহিনী রয়েছে, যা নীলের চরিত্র ও মনোস্তত্ত্বকে গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে। নীল যে লাইব্রেরিতে কাজ করে, সেখানে প্রতিদিন এক ছোট কৃষ্ণাঙ্গ বালক আসে। বালকটি লাইব্রেরির আর্ট সেকশনে বসে পল গোগ্যাঁর তাহিতির ছবিসংবলিত একটি বিশালাকার বই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপলক দৃষ্টিতে দেখে।

বালকটির জন্য গোগ্যাঁর তাহিতি দ্বীপের সেই আদিম, সবুজ ও শান্ত ছবিগুলো ছিল তার নিজস্ব নোংরা, দারিদ্র্যপীড়িত শহরের বাস্তবতা থেকে পালানোর একমাত্র পথ। নীল বালকটির এই স্বপ্নকে রক্ষা করতে চায়। যখন অন্য এক পাঠক বইটি ধার নিতে চায়, নীল কৌশলে বইটি লুকিয়ে রাখে যাতে সেই কৃষ্ণাঙ্গ বালকটি তার স্বপ্নের জগতে প্রতিদিন ফিরে আসতে পারে।

এই দৃশ্যটির মাধ্যমে রথ দেখিয়েছেন, নীল নিজেও সেই কৃষ্ণাঙ্গ বালকটির মতোই এক পলায়নপর সত্তা। বালকটি যেমন বইয়ের পাতায় তাহিতির কল্পিত স্বর্গে শান্তি খোঁজে, নীলও তেমনি শর্ট হিলসের ধনকুবের জগতে ব্রেন্ডার বাহুডোরে এক অলীক স্বর্গের সন্ধান করেছিল। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ বালকটি যেমন শেষ পর্যন্ত তার গোগ্যাঁর বই হারিয়ে ফেলে, নীলকেও তেমনি বস্তুবাদের কঠিন বাস্তবতায় আছড়ে পড়তে হয়।

সম্পর্কের পরিণতি ও আত্মোপলব্ধির চরম মুহূর্ত

নীল ও ব্রেন্ডার সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে গ্রীষ্মের শেষে। নীলের তাগিদেই ব্রেন্ডা এক চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জন্মনিরোধক ডায়াফ্রাম (উরধঢ়যৎধমস) কেনে। তৎকালীন ১৯৫০—এর দশকের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অবিবাহিত তরুণীর এই পদক্ষেপ ছিল চরম বৈপ্লবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

কিন্তু কিছুদিন পর, রোশ হাশানাহ (ইহুদি নববর্ষ)—এর ছুটির সময় নীল যখন ব্রেন্ডার সঙ্গে দেখা করতে বস্টনের এক হোটেলে যায়, তখন সে জানতে পারে যে ব্রেন্ডার মা তার ড্রয়ারে সেই ডায়াফ্রামটি খুঁজে পেয়েছেন। ব্রেন্ডা সেটিকে তার ঘরে এমনভাবে ফেলে এসেছিল যে তার মায়ের চোখে পড়াটাই ছিল স্বাভাবিক। এ নিয়ে ব্রেন্ডার বাবা—মা তাকে চরম তিরস্কার করেন এবং তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

নীল মুহূর্তের মধ্যেই বুঝতে পারে, ব্রেন্ডা ইচ্ছাকৃতভাবেই ডায়াফ্রামটি মায়ের হাতে ধরা পড়ার জন্য ছেড়ে এসেছিল। ব্রেন্ডা আসলে মানসিকভাবে তার সুবিধাবাদী, বিত্তশালী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সাহসী ছিল না। সে চেয়েছিল তার বাবা—মা এই সম্পর্কের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াক, যাতে তাকে নিজে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে না হয় এবং অপরাধবোধ ছাড়াই সে নীলের সঙ্গ ত্যাগ করতে পারে। সে তার পরিবারের নিরাপদ প্রাচুর্য ও আভিজাত্যকে ত্যাগ করে নীলের সাধারণ লাইব্রেরিয়ানের জীবনের অনিশ্চয়তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিল না।

বস্টনের সেই হোটেল কক্ষে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা হয়। নীল বুঝতে পারে, তাদের ভালোবাসার ভিত্তি কতটা নড়বড়ে ছিল। সে ব্রেন্ডাকে ছেড়ে মধ্যরাতে নিউয়ার্কের রাস্তায় বেরিয়ে আসে।

হার্ভার্ড ইয়ার্ডে ভোরের আলো ও উপন্যাসের সমাপ্তি

উপন্যাসের শেষ দৃশ্যটি অত্যন্ত কাব্যিক এবং সাহিত্যিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বস্টন থেকে ফিরে নীল ভোরে গিয়ে পৌঁছায় বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ‘হার্ভার্ড ইয়ার্ড’—এ। সেখানে গ্লাস দিয়ে ঘেরা লাইব্রেরি ভবনে নিজের প্রতিফলনের দিকে সে তাকায়।

ভোরের আলো ফুটছে। নীল আয়নায় নিজের চেহারা দেখেÑযে চেহারা এক পরাজিত, ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যাত অথচ বাস্তবতায় জেগে ওঠা এক তরুণের। সে বুঝতে পারে, ব্রেন্ডা ও তার প্রাচুর্যময় জগতের সঙ্গে তার সমস্ত সংযোগ ছিন্ন হয়ে গেছে। সে তার পুরনো, সাধারণ কিন্তু সত্য জীবনের দিকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উপন্যাসের শেষ বাক্যে নীল বলে, সে সকাল ৮টায় তার লাইব্রেরির কাজে যোগ দেওয়ার জন্য ট্রেন ধরার উদ্দেশে হেঁটে চলে যায়।

এখানেই শেষ হয় নোভেলাটিÑকোনো নাটকীয় মিলন বা করুণ ট্র্যাজেডি দিয়ে নয়, বরং এক তরুণ মনোস্তত্ত্বের পূর্ণতা ও প্রাপ্তবয়স্ক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।

লেখক পরিচিতি: ফিলিপ রথ (১৯৩৩ — ২০১৮)

আমেরিকান কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান পুরুষ ফিলিপ মিল্টন রথ ১৯৩৩ সালের ১৯ মার্চ নিউ জার্সির নিউয়ার্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। এক মধ্যবিত্ত ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা রথের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল এই নিউয়ার্ক শহর এবং তার নিজস্ব ইহুদি ঐতিহ্য।

১৯৫৯ সালে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে তাঁর প্রথম গ্রন্থ গুডবাই, কলম্বাস প্রকাশিত হয় এবং এটি মার্কিন সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্মান ‘ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে। এর মাধ্যমে তিনি রাতারাতি আন্তর্জাতিক সাহিত্য অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত তাঁর অত্যন্ত বিতর্কিত ও ব্যাপক বিক্রিত উপন্যাস পোর্টনয়েজ কমপ্লেন্ট (চড়ৎঃহড়ু’ং ঈড়সঢ়ষধরহঃ) তাঁকে আরো খ্যাতি এনে দেয়।

Related Posts