নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস, টরন্টো, অরল্যান্ডো || চার শহরে হয়ে গেল চার ফোবানা

আসলাম আহমাদ খানঃঅক্ষরে সাজাই বর্ণমালা/বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ,/পরিচয় আমার বাঙালি, নেই বিদ্বেষ।/একই আকাশ, একই বাতাস, একই মাটির টান

ফোবানা মানে প্রবাসের বুকে বাংলাদেশের সম্মান।

এই থিম সংয়ের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে নিউইয়র্কের ইভানজেল খ্রিস্টিয়ান সেন্টারে , সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা সম্মেলন।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক নূরুল আমীন বাবু। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন প্রধান উপদেষ্টা, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা . নুরুন নবী। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন সি. লু, আফ্রিকান উইমেন ফেডারেশনের প্রতিনিধি, ডেমোক্রেট নেতা . দিলীপ নাথ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি . সিদ্দিকুর রহমান, বিজ্ঞানী . জিনাত নবী, সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, প্রবীণ সাংবাাদিক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, ওয়াশিংটন থেকে আগত সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর, দিল্লিতে নিযুক্ত সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটির সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, হোস্ট কমিটির সদস্যসচিব ছড়াকার মনজুর কাদের, চীফ পেট্রন শফিক আলম, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট মিনহাজ আহমেদ, সাংবাদিক আব্দুল হামিদ, পিনাকী তালুকদার, একটিভিস্ট রামদাস ঘরামী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, রাফায়েত চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, সুব্রত তালুকদার এবং জাতিসংঘে কর্মরত মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার . এনামুল হকসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট কানাডা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ।

উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শাহ মাহবুব বিন্দু কনা। নাচ, গান, কবিতা গীতিনাট্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা)—এর শিক্ষার্থীরা।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত দর্শক আয়োজকদের উদ্দেশে ভাচুর্য়ালি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি প্রবাসীদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের প্রয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।

ফোবানার দ্বিতীয় তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রবীণ মাবাবাদের নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ছিলো তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য শিল্পী, সংগঠক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান ইত্যাদি।

সম্মেলনে ওয়াশিংটন ডিসিকে ৪১তম ফোবানা সম্মেলনের ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সময় ৪১তম ফোবানা আয়োজক কমিটির নতুন সভাপতি দস্তগীর জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক . মোহাম্মদ হোসেনের হাতে ফোবানার পতাকা হস্তান্তর করেন চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী সম্পাদক দেওয়ান মনিরুজ্জামান।

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পী আঁখি আলমগীরসহ দিনাত জাহান মুন্নী, দিনার মণি, তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আলভান চৌধুরী, সাগ্নিক মজুমদার, জেরিন মাইশা, বাউল মেলাল করিমসহ আরও অনেকে।

কনভেনশন সেন্টারের লবিতে দেশীয় পণ্যের মেলা বসেছিলো। সাংস্কৃতিক সংগঠক গোপাল সান্যালের উদ্যোগে ছিলো বইএর স্টল, সেখানে বিক্রি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বই।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে। চিত্রনায়িকা মৌসুমী গানে গানে স্মরণ করেন সালমান শাহকে। আমার বন্ধু গো, চিরসাথী পথচলাগানটি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে যখন মৌসুমী পরিবেশন করেন, তখন হলভর্তি দর্শকের মাঝে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

আয়োজকদের মতে, তিন দিনের এই সম্মেলন শুধু বিনোদন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিলো।

টরন্টো ফোবানা

টরন্টোঃ লেবার ডে উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর অংশগ্রহণে সেপ্টেম্বর কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪০তম ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা) সম্মেলন। তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উঠে আসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুখ, সমৃদ্ধি উত্থানের গল্প প্রবাসী জীবনের নানান চ্যালেঞ্জের কথা। সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার প্রবাসী এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ব্যাবসায়িক ব্যাক্তিত্বরা।

তিন দিনের আয়োজনের মধ্য প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রতিবেশি দুই দেশের প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যেও সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।

গত সেপ্টেম্বর ডন ভ্যালি হোটেলের হল কক্ষে উপচেপড়া দর্শকদের উপস্থিতিতে জমকালো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফোবানা চার দশকপূর্তির সম্মেলন। প্রথম দিনেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিনোদন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চিত্রনায়িকা ববিতা, জাদু শিল্পী জুয়েল আইচ, সংগীত শিল্পী খালিদ হাসান মিলু (মরণোত্তর) এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর) উদ্বোধনী দিনে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহনেওয়াজ, কনভেনশনের প্রধান নির্বাহী আবু জোবায়ের দারাসহ স্থানীয় কমিউনিটির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা সময় উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা পেয়েছেন সাবেক ফুটবলার এনায়েতুর রহমান অভিনেত্রী শান্তা ইসলামসহ আরও অনেকে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সেলিম চৌধুরী, আঁখি আলমগীরের পাশাপাশি ঝিলিক, পিন্টু ঘোষ সহ বাংলাদেশ টরন্টোর স্থানীয় শিল্পীরা। সঙ্গে ছিল মনকাড়া নৃত্য পরিবেশনা। গান, নৃত্য, তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা এবং দেশীয় খাবার পণ্যের পসরাÑসব মিলিয়ে ডন ভ্যালি হোটেল হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

সম্মেলনে দ্বিতীয় তৃতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় বড় পরিসরের প্রাণবন্ত বাংলাদেশী মেলা। সেন্ট্রাল ফোবানা কানাডার স্থানীয় হোস্ট টেস্ট অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে টরন্টোর বার্চমাউন্ট রোড ড্যানফোর্থ রোডের সংযোগস্থলে আয়োজিত মেলা দুই দিনই ছিল লোকে লোকারণ্য। দেশীয় পোশাক, গয়না, বিভিন্ন পণ্য দেশীয় খাবারের দোকানের পাশাপাশি ছিল উন্মুক্ত কনসার্ট নৃত্যের আয়োজন। খোলা আকাশের নিচে বিভিন্ন পণ্যের শতাধিক স্টল কালচারাল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একই স্থানে হাজারো বাংলাদেশীর অংশগ্রহণ প্রবাস জীবনে বাংলাদেশের বৈশাখী মেলার আবহ তৈরি করে। প্রবাসের মাটিতে মেলা হয়ে ওঠে বাংলাদেশী সংস্কৃতি ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। বাংলাদেশীদের আনন্দে স্থানীয় অন্যান্য কমিউনিটির মানুষজনও অংশ নেয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় তৃতীয় দিনে সংগীত পরিবেশন করেন ডলি সায়ন্তনী, সেলিম চৌধুরী, রানো নেওয়াজ, ফকির সাহাবুদ্দিন শাহনাজ বেলী, অনিক রাজসহ বাংলাদেশ প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনায় উৎসবের পুরো সময় হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। শেষ দিনে টরন্টো যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মেলনে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন টরন্টো সিটি মেয়র অলিভিয়া চাউ, প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট মেম্বার ফাতিমা শাবান, ইস্ট ইয়র্কের সদ্য নির্বাচিত এমপি তানভীর শাহানাজ, টরন্টো মেয়র নির্বাচনের প্রার্থী ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড, স্কারবরোর সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. তরুণ, স্থানীয় সিটি কাউন্সিলর প্রার্থী কান্দাভেলসহ স্থানীয় রাজনীতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ফোবানার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেন আবারও ফিরে পেলেন নিজেদের শেকড়ের স্পর্শ। সম্মেলনে সক্রিয় অবদান রাখেন টেস্ট অব বাংলাদেশের ফাউন্ডার রাসেল রহমান, আয়োজক বাংলাদেশ সোসাইটি এসসির সভাপতি খোকন রহমান, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, এডমিন ডিরেক্টর সঞ্চয় চাকি, আয়োজক কমিটির শিবু চৌধুরী, আশিষ চৌধুরী, দেওয়ান আজিম, সৈয়দ শামসুল আলম প্রমুখ। পরবতীর্ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আগামী বছর ফোবানা কোন স্টেটে অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।

লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা

আবীর আলমগীরঃ বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য শিকড়ের সঙ্গে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হলো ফেডারেশন অব বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) ৪০তম সম্মেলন। থেকে সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের ভেন্যু ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটি হিলটন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার (বাক) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট, কানাডাসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। উত্তর আমেরিকার ২২টি শহরের প্রায় ৬৭টি সংগঠনের অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপ্তি বৈচিত্র্যে ফোবানার চার দশকের পথচলায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের শ্রম কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এবারের সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসের নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্যের চর্চা ধরে রাখতে ফোবানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চার দশক ধরে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের সামাজিক সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে সংগঠনটির ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন না, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বও করছেন। দেশে বিনিয়োগে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেস সহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের বাংলাদেশী কমিউনিটির সমাজসেবী, মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, পৃষ্ঠপোষক এবং ফোবানার সাবেক বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তিন দিনের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। স্থানীয় শিল্পী বিভিন্ন সামাজিকসাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় প্রতিদিনই মুখর ছিল সম্মেলনস্থল। প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেয় লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় শিল্পী ব্যান্ড। দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় এবং বিভিন্ন স্টেট থেকে আসা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করা তরুণ প্রজন্মের শিল্পী সঞ্জয় এবং চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠের ঝিলিক। তৃতীয় সমাপনী দিনেও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের সংগঠনগুলোর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পর সংগীত পরিবেশন করেন প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী ইমরান, কণা মুজা। তাদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিন দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব পূর্ণতা পায়।

এবারের ফোবানা সম্মেলন শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিন দিনের কর্মসূচিতে ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রজন্মকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় একাধিক আলোচনা সেমিনার। ছিল কাব্য সাহিত্য আসর, ফোবানা গ্রন্থমেলা, ইয়ুথ ফোরাম নেটওয়ার্কিং, অনাবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের আলোচনা, তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান এবং কারুপণ্যের প্রদর্শনী। 

শনি রবিবার বিশিষ্ট সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় দুটি বিশেষ সেমিনার। শনিবারের সেমিনারের বিষয় ছিলআর নয় অভিযোগ, এবার বলুন সমাধানের কথা এতে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী একাধিক হাসপাতালের কর্ণধার ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরীসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের বিশিষ্টজনেরা। রবিবার অনুষ্ঠিত হয়এদেশে নতুন প্রজন্মের ভাবনায় বাংলাদেশশীর্ষক সেমিনার। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশকে কীভাবে দেখে এবং মাতৃভূমির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কীভাবে আরও গভীর করা যায়, সেই ভাবনাই উঠে আসে আলোচনায়।

নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে বিশেষ সেমিনারের পাশাপাশি ছিল তরুণদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি, চিকিৎসাবিষয়ক সেমিনার এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়েও ছিল বিশেষ আলোচনা। সম্মেলনের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয়এআইয়ের বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টরশীর্ষক একটি সেমিনার। ব্যবসায়ী পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ছিল পৃথক নেটওয়ার্কিং বিজনেস সেশন। দ্বিতীয় দিনের সকালে অনুষ্ঠিত হয় ফোবানা অ্যালামনাইদের আলোচনা সভা। পরে বিভিন্ন স্টেট থেকে আগত ব্যবসায়ী, পৃষ্ঠপোষক, ফোবানা কর্মকর্তা অতিথিদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় রেড কার্পেট মধ্যাহ্নভোজ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রদান করা হয় ফোবানা স্কলারশিপ। বছর আটজন শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়। ফোবানার কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সাল থেকে কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কয়েক শিক্ষার্থীকে কয়েক লাখ ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে প্রতিবছর ঢাকা, চট্টগ্রাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন করে শিক্ষার্থীকে কর্মসূচির আওতায় স্কলারশিপ দেওয়া হয় বলে জানানো হয়।

সম্মেলনের তৃতীয় শেষ দিন সেপ্টেম্বর রবিবার অনুষ্ঠিত হয় ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম। সভায় বিদায়ী এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপারসন রবিউল করিম বেলাল সংগঠনকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাঠামোর বদলে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে, কিন্তু নেতৃত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে যেন সংগঠনের অভিজ্ঞতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, নীতিমালা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হারিয়ে না যায়।

এজিএম শেষে অনুষ্ঠিত হয় ফোবানার ২০২৬২৭ মেয়াদের নির্বাচন। এতে বিভিন্ন শহরের ৬৭টি সংগঠনের কাউন্সিলররা অংশ নেন। নির্বাচন শেষে ঘোষণা করা হয় ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন নির্বাহী কমিটি। নতুন কমিটিতে ফ্লোরিডার এম রহমান জহির চেয়ারপারসন, নিউইয়র্কের আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারপারসন, ভার্জিনিয়ার . প্রিয়লাল কর্মকার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি, ভার্জিনিয়ার অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং হিউস্টনের নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া নয়জন আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার এবং ১৭টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার সংগঠন নির্বাচিত হয়েছে। আগামী এক বছর নতুন কমিটি সংগঠনটির নেতৃত্ব দেবে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ফোবানাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ নতুন প্রজন্মমুখী সংগঠনে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী বছর ফোবানা আয়োজনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে হিউস্টনকে।

অরল্যান্ডো ফোবানা

ইকবাল কবীর,অরল্যান্ডো থেকেঃ জমকালো আয়োজন, প্রবাসীদের মিলনমেলা আর সুরের মুর্ছনায় শেষ হলো উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় উৎসব, ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬। ডিজনিওয়ার্ল্ড খ্যাত ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর হলিডে ইন রিসোর্ট কিসিমিতে তিন দিনব্যাপী ( সেপ্টেম্বর) এই সম্মেলনের শেষ দিনটি ছিল আবেগ, উচ্ছ্বাস আর নতুন প্রত্যাশায় ভরপুর। এবারের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ সমিতি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা। কনভেনর ছিলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আনোয়ার হোসেন সেন্টু। তাঁর নেতৃত্বে ফ্লোরিডা ফোবানা হয়ে উঠেছিল সফল।

এজিএম নির্বাচন: নতুন নেতৃত্বের লক্ষ্যে ফোবানার নির্বাচন পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বেদারুল ইসলাম বাবলা। সমাপনী দিবসের মূল আকর্ষণ ছিল বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)এবং নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে আগত ফোবানার সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির চেয়ারম্যান: আতিকুর রহমান, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি: নেহাল রহিম।

নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ ৪০তম ফোবানার সফল আয়োজনের জন্য ফ্লোরিডাবাসীকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনে ফোবানাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

৪১তম ফোবানা নিউইয়র্কে

এজিএম সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী বছর ৪১তম ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কে। ৪১তম ফোবানার স্বাগতিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা।

নিউইয়র্কে ফোবানা ফিরছেএই ঘোষণায় সম্মেলন কক্ষে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

তারার মেলা: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

এবারের ফোবানা ছিল যেন তারার মেলা। বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পীরা তিন দিন ধরে অরল্যান্ডো মাতিয়ে রেখেছিলেন।

সাংস্কৃতিক মঞ্চে ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনা, হালের ক্রেজ ইমরান, আঁখি আলমগীর, দিনাত জাহান মুন্নী, প্রজন্মের প্রিয় আরজিন কামাল এবং বিশ্বকাপের মঞ্চ কাঁপানো ডিজে সঞ্জয় সহ আরও অনেকেই। এছাড়াও অংশগ্রহণ করেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান এবং তাঁর সহশিল্পীবৃন্দ কানাডা থেকে আগত মিস ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড কানাডা ২০২৬ এবং মিস কানাডা সাউথ এশিয়া ২০২৪ খ্যাত মডেল এবং নৃত্য শিল্পী ইতিশা চৌধুরী ফোবানার মুল মঞ্চে সংগীত, নৃত্য কবিতায় অংশগ্রহণ করেছেন উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে আসা শিল্পী বৃন্দ। ছিল বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সেমিনার। বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখার জন্য প্রদান করা হয়েছে বিশেষ সম্মাননা। ফোবানার মূল আকর্ষণ ছিল সর্বমোট ৪৭টি সংগঠন এই ফোবানায় তালিকাভুক্ত হয়েছে  

তাঁদের গানে গানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা খুঁজে পান এক টুকরো বাংলাদেশকে।

Related Posts