ঋণের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনে বাংলাদেশ || ড. জীবন বিশ্বাস

ঋণে জর্জরিত বাংলাদেশ। এই ঋণের পুরোটাই . ইউনুস এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীরট্র্যানজ্যাকশনাল ডিপ্লোম্যাসি’ (ঞৎধহংধপঃরড়হধষ উরঢ়ষড়সধপু) বা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যলেনদেনভিত্তিক কূটনীতি’— কুফল বই আর কিছু নয়। বাংলাদেশ আজ অর্থনীতি ভূরাজনীতির এক ক্রমশ বিপজ্জনক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রÑযে দেশটি এখনও দেশের রপ্তানি অর্থনীতির, বিশেষত তৈরি পোশাকশিল্পের, অন্যতম অপরিহার্য বাজার; অন্যদিকে চীনপণ্য আমদানির বৃহত্তম উৎস, অবকাঠামোগত মূল অংশীদার এবং দীর্ঘকাল ধরে দেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান জোগানদাতা। এই দ্বিমুখী বাস্তবতায় একদিকে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে মার্কিন বাণিজ্যিক বিমান কেনা, অন্যদিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে অতি উচ্চমূল্যে অর্থনৈতিক সামরিক সহযোগিতা গভীর করার সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো নিছক কোনো ক্রয়চুক্তির বিষয় নয়। এই ক্রয়চুক্তিগুলো বাংলাদেশের মতো একটি ভূকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অর্থনীতির এমন এক প্রতিচ্ছবি, যে দেশটি বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে নিজের চলার কিছুটা স্বাধীন পরিসর কিনে রাখার চেষ্টা করছেÑযদিও সেই পরিসর দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। এই ঋণের ব্যাপারে পূর্ববতীর্ আওয়ামী লীগ সরকারকে দোষারোপ করার কোনো সুযোগ নেই। এসব প্রসঙ্গ নিয়েই আজকের উপসম্পাদকীয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের এই লেনদেনমূলক চরিত্রটি বড় বেশি স্পষ্ট। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্রবাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির অধীনে অধিকাংশ বাংলাদেশী পণ্যের ওপর ওয়াশিংটন ১৯ শতাংশরেসিপ্রোক্যালশুল্ক বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বাজারপ্রবেশাধিকার, কৃষিপণ্য, জ্বালানি, নিয়ন্ত্রক মান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিস্তৃত অঙ্গীকার করতে হয়েছে। চুক্তিতে লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এরপর ৩০ এপ্রিল বিমান আটটি ৭৮৭১০, দুটি ৭৮৭ এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স কেনার আনুষ্ঠানিক আদেশ দেয়। তালিকামূল্যে এর পরিমাণ প্রায় . বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহের কথা। বিভিন্ন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণে এই ক্রয়কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যঘাটতি কমানো এবং শুল্কচাপের মধ্যে মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার রক্ষার বৃহত্তর অসমপ্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

বিমান কেনাটিকে অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক বলা যায় না যদি না তা যুগ যুগ ধরে লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য হতো। বোয়িংয়ের মতে, নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজগুলো জ্বালানিদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম। বিমানের জন্য . বিলিয়ন ডলারের বহর সম্প্রসারণ বাংলাদেশের মত একটি নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের জন্য অস্বাভাবিক মনে করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এই ক্রয়ের বিপরীতে সরকার সার্বভৌম গ্যারান্টি দেবে এবং বিমানের ভাষ্যমতে, ঋণের ব্যবস্থা করবে মার্কিন এক্সপোর্টইমপোর্ট ব্যাংক। ফলে বাণিজ্যিক ঝুঁকি কেবল একটি এয়ারলাইন্সের ব্যালান্স শিটে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের এবং সেই সূত্রে সাধারণ করদাতা বা জনগণের ঘাড়ে এসে পড়বে।

চীনের ক্ষেত্রে সমীকরণটি ভিন্ন, তবে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারেক রহমানের ২০২৬ সালের জুন মাসের চীন সফরে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃষি শিক্ষা খাতজুড়ে ১৭টি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়। একই সঙ্গে মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়। সফরের আগে সরকারি মহল থেকে প্রায় বিলিয়ন ডলারের চীনা সহায়তা বিনিয়োগ পাওয়ার প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছিল। তবে সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় বিলিয়ন ডলারের কোনো একক নিশ্চিত সার্বভৌম ঋণপ্যাকেজের উল্লেখ ছিল না। আরও ভূকৌশলগতভাবে সংবেদনশীল বিষয় হলো চীনের ১০ঈঊ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য পরিকল্পনা। গণমাধ্যমের হাতে আসা সরকারি নথিতে আগে ২০টি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল, যেখানে প্রশিক্ষণ, লজিস্টিকস অবকাঠামোসহ কর্মসূচির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় . বিলিয়ন ডলার এবং অর্থ পরিশোধের সময়সীমা দশ অর্থবছর ধরে ২০৩৫৩৬ পর্যন্ত বিস্তৃত। সংসদে উপস্থাপিত সরকারি হিসাবে ২০২৪২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ১৮.৫৬ বিলিয়ন ডলার এবং চীনে রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৯৪.৪৯ মিলিয়ন ডলারÑঅর্থাৎ প্রকৃত দ্বিপক্ষীয় পণ্যবাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ১৭.৮৭ বিলিয়ন ডলার। এই যাচাইকৃত অঙ্ক ব্যবহার করে বলা যায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীরভাবে অসমতাপূর্ণ।

বোয়িং বিমান কেনায় প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে ২৬,৩১৪ কোটি টাকা এবং প্রত্যাশিত চীনা উন্নয়ন সহযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা ধরলে সরাসরি বহুলউল্লিখিত আর্থিক পরিসর দাঁড়ায় প্রায় ,০৬,৩১৪ কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ২০২৬২৭ অর্থবছরের ,৩৮,০০০ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের ১১ শতাংশেরও বেশি। এর সঙ্গে চীনের সঙ্গে বার্ষিক ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্যঘাটতির একটি অনুমান যোগ করলে বৃহত্তর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রকাশ বা ঝুঁকির পরিসর প্রায় ,৪৭,৩১৪ কোটি টাকা বা প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ . ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার মাত্র দুবছরের মধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকার ঋণচুক্তিতে সই করছে।

আরও বড় প্রশ্নটি হলো বিকল্প ব্যয় বা ঙঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃু ঈড়ংঃ। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রবেশের সময়ও বাংলাদেশের বছরওয়ারি মূল্যস্ফীতি ছিল .২৬ শতাংশ। আইএমএফ দেশের রাজস্ব সংকট, ব্যাংকিং খাতের চাপ এবং নতুন করে বাড়তে থাকা বহিঃখাতের ঝুঁকির কথা বলেছে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানদণ্ডে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১. বিলিয়ন ডলারেরও নীচে। এই বাস্তবতায় বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য বহু বিলিয়ন ডলারের কিস্তিরাষ্ট্র পরিশোধ করতে পারবে কি নাসে প্রশ্ন এখন চারিদিকে। দেখতে হবে কিস্তির এই অর্থ ব্যয় করার কারণে জনগণের জন্য সরকার অবশ্যকরণীয় কি কি করতে পারছে না। হাসপাতাল, বিদ্যালয়, শিল্পে কর্মসংস্থান, কৃষির উৎপাদনশীলতা, নগর পরিবহন, কিংবা জলবায়ু সহনশীলতায় বিনিয়োগের যে সরাসরি সামাজিক মুনাফা রয়েছে, যুদ্ধবিমান তা দিতে তো পারেই না; বাণিজ্যিক বিমানও না। তাহলে ঋণ কার জন্য? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ প্রধানত ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। বলা বাহুল্য, আখের গোছানো এবং জনগণের ধাওয়া খেয়ে হঠাৎ দেশ থেকে উধাও হওয়ার জন্য ঋণ না নিয়ে উপায় নেই।

এখানে একটি গভীর ভূরাজনৈতিক বৈপরীত্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়াতে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। অথচ একই সময়ে ঢাকা চীন থেকে তার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধবিমান ক্রয় করছে। এই দুই বিপরীতমুখী পথ বাংলাদেশের প্রচলিতসবার সঙ্গে বন্ধুত্বনীতির সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ করছে। প্রযুক্তি, নিরাপত্তা বাণিজ্যনির্ভর প্রতিদ্বন্দ্বী বলয়ে বিভক্ত পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সুবিধার সঙ্গে ক্রমেই কৌশলগত শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চাইতে পারে কিন্তু দুই শক্তিই এখন সেই ভারসাম্যের জন্য ক্রমবর্ধমান মূল্য দাবি করছে। আর সে মূল্য পরিশোধ করবে জনগণ, যুগের পর যুগ ধরে।

এই জায়গাতেইলেনদেনভিত্তিক কূটনীতিধারণাটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। পশ্চিম থেকে বাণিজ্যিক বিমান কেনা বাজারে প্রবেশাধিকার রক্ষায় সহায়ক হতে পারে; পূর্ব থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং অবকাঠামো অর্থায়ন গ্রহণ কৌশলগত নির্ভরতার উৎসগুলোকে বৈচিত্র্যময় করতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদে একটি ভূরাজনৈতিক সুরক্ষাবলয় তৈরি হয়। কিন্তু বিপদ হলোÑপররাষ্ট্রনীতি তখন এমন এক ব্যয়বহুল বাজারে পরিণত হয়, যেখানে প্রবেশাধিকার, স্বীকৃতি কৌশলগত সহনশীলতা চুক্তির বিনিময়ে কিনতে হয়। শৃঙ্খলের পরে শৃঙ্খল, নিজস্ব বলতে কিছু থাকছে কিনা, তা অনেকটাই ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বহু ক্ষেত্রে খাজনা আনুগত্যের বিনিময়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষ শক্তিশালী ক্ষমতার কাছ থেকে নিরাপত্তা চাইত। আধুনিক সার্বভৌম কূটনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবু রাজনৈতিক যুক্তির মধ্যে কখনো কখনো সেই পুরনো ছায়া ফিরে আসেÑযখন সরকার বাহ্যিক স্বস্তি বা সমর্থন কিনে নেয়, আর তার আর্থিক দায় উত্তরাধিকারসূত্রে বহন করে জনগণ। গণতন্ত্রের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত ঠিক এই চক্রটি ভাঙাস্বচ্ছতা, সংসদীয় নজরদারি এবং জনকল্যাণের প্রমাণের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের প্রয়োজন জনগণের অর্থের বিপরীতে কৌশলগত মূল্য নির্ণয়ের কঠোর নীতি। প্রতিটি বৃহৎ বৈদেশিক চুক্তিতে ঋণের শর্ত, সার্বভৌম গ্যারান্টি, বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগÑসবকিছুর হিসাব জনসমক্ষে থাকা উচিত। প্রতিরক্ষা ক্রয়ে যৌক্তিক গোপনীয়তা থাকতে পারে; কিন্তু গোপনীয়তা কখনো আর্থিক জবাবদিহি থেকে দায়মুক্তির নাম হতে পারে না।

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকা এবং চীনের সংগে ঋণচুক্তির পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শেখ হাসিনার আমলে তৈরি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ছিল . বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ . ইউনুস এবং বর্তমান সরকারকৃত ঋণচুক্তির অর্থে ৯টি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব। এই হিসেবটির অবতারণা জন্যে যে, আমেরিকা চীনের সংগে এই বিশাল ঋণের পরিমাণটা পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের তুলনার মাধ্যমে অনুধাবন করা অনেকটাই সহজ। 

আমেরিকা থেকে বিমানক্রয় এবং চীনের সংগে সামরিক চুক্তির জন্য বাংলাদেশের কৌশলগত ভারসাম্যের মূল্য অতিশয় চড়া বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করে। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃত পরিমাপ এই নয় যে একটি দেশ কতগুলো পরাশক্তির কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারে। বরং তা নির্ধারিত হয়Ñজাতীয় স্বার্থের তুলনায় কোনো চুক্তির মূল্য অত্যধিক হলে দেশটি কত দৃঢ়তার সঙ্গে তাকেনাবলতে পারে। বাংলাদেশের বিমান প্রয়োজন হতে পারে, আধুনিক যুদ্ধবিমানও প্রয়োজন হতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগ তো অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু কোনো কূটনৈতিক ক্রয় মানবোন্নয়নের বিকল্প হতে পারে না, এবং কোনো ভূরাজনৈতিক বীমার প্রিমিয়ামকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বন্ধকে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। একটি রাষ্ট্র বিমান কিনতে পারে, অস্ত্র কিনতে পারে। কিন্তু বৈধতাÑশেষ পর্যন্তÑকেনা যায় না।

Related Posts