প্রশ্ন উঠলেও মেয়রের বাংলা অও নয়
বাঙালী প্রতিবেদনঃ ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মত জাতিসংঘের মত এটি গ্লোবাল ফোরামের সাধারণ অধিবেশনে মূল রোস্ট্রামে দাঁড়িয়ে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বিস্ময় তৈরি করেন। আর এর ৫২ বছর পরে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বাংলায় ভিডিও করে তার ইন্সটাগ্রামে ও এক্স—এ পোস্ট করেন গত ১৫ আগস্ট শনিবার। এই ভিডিওতে তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বললেন তার দুই হাজারেরও বেশি বিনামূল্যে দেয়া ব্রডওয়ে শোর টিকিটের কথা। বললেন এই টিকিটের জন্য যেন তারা অংশগ্রহণ করে লটারিতে। নিজের ডেস্কে বসে, ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় মেয়র শুরু করলেন ‘কেমন আছো’ জিজ্ঞাসা করে।
এই ভিডিও যখন ইন্সটাগ্রাম আর সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল, তখন নিউইয়র্ক টাইমস সহ বিখ্যাত পত্রিকার সাংবাদিকরা জানেন, মেয়র সিটিতে নেই, তিনি ভেকেশনে চলে গেছেন স্টেটেরই অন্য কোনো শহরে। তাদের হাজারো প্রশ্ন এই ভাষা নিয়ে। কিভাবে কখন শিখলেন তিনি।
উল্লেখ্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য যেমন তিনি অত্যন্ত কমমূল্যে টিকিট বিতরণ করেছিলেন লটারির মাধ্যমে, তারই ধারাবাহিকতায় তিনি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০০ টিকিট প্রদানের ঘোষণা দেন বিনামূল্যে। কারণ ব্রডওয়ে শো’র টিকিটের দাম আকাশচুম্বি। অনেক ইমিগ্রান্ট পরিবারের জন্যই এসব শো দেখা প্রায় অসম্ভব।
নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ কথা বলে ইংরেজিতে, তারপর স্প্যানিশ, ম্যান্ডারিন, আরবী ও বাংলায়। এই পাঁচ ভাষার মধ্যে তিনি চার ভাষাতে এই আহবান জানান। তবে সোশাল মিডিয়াতে সবচেয়ে আলোড়নের সৃষ্টি হয় ম্যান্ডারিন ও বাংলা নিয়ে। ম্যান্ডারিন তিনি কেমন বলেছেন তা যাচাই করার জন্য নিউইয়র্ক টাইমস স্টেট সিনেটর জন সি. ল্যুর শরণাপন্ন হলে, সিনেটর জানান, আমি তাকে ‘ই’ দেব। তবে তার চেষ্টার জন্য অ+। বাংলা প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক টাইমস কারো মতামত নেয়নি।
মেয়র বাংলা শুরু করেন ‘কেমন আছো নিউইয়র্ক সিটি হাইস্কুলার্স’ জিজ্ঞাসা করে। তারপর তিনি বলেন, ‘আমরা নিউইয়র্ক সিটির পক্ষ থেকে ব্রডওয়ে শো দেখার জন্য দুই হাজারের বেশি ফ্রি টিকিট দিচ্ছি। শুনো, লটারি এখন খোলা। ১৭ আগস্টের মধ্যে এই ওয়েবসাইটে গেলে লটারিতে এন্টার করতে পারবা। শুধু তাই নয়, যখন লটারিতে এন্টার করবা, তার সাথে থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের ২ মাসের ফ্রি মেম্বারশিপ পাবা। ঠিক আছে তাহলে, দেখা হবে শো’তে।’
ম্যান্ডারিন সম্পর্কে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞরা জানান, এখানে কোনো কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি। নিউইয়র্ক পোস্ট মেয়রের প্রেস সেক্রেটারি এবং প্রধান মুখপাত্র জো ক্যালিভেয়োর ‘এক্স’এ লেখা পোস্ট উদ্ধৃত করে তাদের খবরে। তিনি লেখেন, ‘অহফ লঁংঃ ঃড় নব পষবধৎ ঃযরং রং ঘঙঞ অও’। মেয়র অফিসের অন্য সদস্যরাও এই চমৎকার ম্যান্ডারিন ও বাংলা রেকর্ডিংএ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা নেয়ার কথ সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সিটির স্পেশালাইজড হাইস্কুল ব্রংক্স সাইন্সে পড়ার সময় তিনি ম্যান্ডারিন স্টাডি করেন।
পোস্ট লিখছে, বিশ্বব্যাপি প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ বাংলায় কথা বলে। আর নিউইয়র্ক সিটির ৫ বরোতে প্রায় ৭১,০০০ পরিবারে বাংলা বলা হয়। ‘এক্স’এ বিভিন্ন মন্তব্যকারীর মতামত অনুযায়ী তারা মেয়রের বাংলা বলা ও উচ্চারণের প্রশংসা করেন।
এই ২৬ সেকেন্ডের বাংলায় দেয়া বক্তব্যের ভাষ্য কথ্য। যিনি অনুবাদ কেছেন, নিঃসন্দেহে সহজ ভাষাতেই করেছেন। প্রমিত পারবে, করবে বা পাবের পরিবর্তে কথ্য পারবা, করবা এবং পাবা বলেছেন মেয়র। শুনতে ভাল লেগেছে।
মেয়রের বাংলায় বলা এই সোশাল মিডিয়া পোস্ট নিউইয়র্ক তো বটেই, দেশের বাইরে থাকা বাঙালিদের উদ্বেলিত করেছে।
