বার্সাকে হারিয়ে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে আতলেতিকো

স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ প্রথম লেগের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা, প্রতিপক্ষের মাঠ আর প্রবল চাপের মুখে দাঁড়িয়েও অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে শুরু করেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অ্যাডেমোলা লুকম্যানের এক মহামূল্যবান গোল আর রক্ষণের দৃঢ়তায় বার্সার সেই স্বপ্ন ভেঙে দিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে গোলে জিতলেও, এগ্রিগেটে ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে কাতালানদের। অন্যদিকে, হারলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে দিয়েগো সিমিওনের দল। এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে ম্যাচের মাত্র মিনিটেই বার্সাকে লিড এনে দেন তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। বার্সার সাবেক ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ট লংলের ভুলে বল পেয়ে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। এগ্রিগেটে ব্যবধান তখন ১। আক্রমণের ধারা বজায় রেখে ২৪ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোল করেন ফেরান তোরেস। দানি অলমোর পাস থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে এগ্রিগেটে সমতা ফেরান তিনি। স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মেত্রোপলিতানো গ্যালারি। মনে হচ্ছিল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে আরও একটি ঐতিহাসিকরেমন্তাদাবা প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। বার্সা যখন গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করল (ফেরমিন লোপেসের হেড গোলরক্ষক রুখে দেন), ঠিক তার সাত মিনিট পরেই পাল্টা আঘাত হানে আতলেতিকো। ডান প্রান্ত থেকে মার্কোস ইয়োরেন্তের বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে বসেন জানুয়ারিতে দলে আসা অ্যাডেমোলা লুকম্যান। এগ্রিগেটে আবার ব্যবধানে এগিয়ে যায় মাদ্রিদের ক্লাবটি।

দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে ফেরান তোরেস আবারও বল জালে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআর পরীক্ষায় দেখা যায় তিনি অফসাইডে ছিলেন। এরপর ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বার্সার বিপক্ষে চলে যায় যখন আলেক্সান্দার সরলথকে ফাউল করায় এরিক গার্সিয়া সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও শেষ মুহূর্তে রবার্ট লেভানডভস্কি রোনাল্ড আরাউজো চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু গোল আর পাওয়া হয়নি।

২০১৬ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে ভাসছে আতলেতিকো। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত দিয়েগো সিমিওনে বলেন, ‘১৪ বছর ধরে এই দলটিকে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে লড়াই করতে দেখা আমাকে গর্বিত করে। অনেক খেলোয়াড় বদলেছে, আমরা বারবার শূন্য থেকে শুরু করেছি, কিন্তু আজ আমরা আবার ইউরোপের সেরা চারে। আমরা আমাদের শক্তি আর দুর্বলতা জানি, আমরা তৈরি।

সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে আর্সেনাল অথবা স্পোর্টিং সিপির। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার কি তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেই অধরা মুকুটটি সিমিওনের হাতে উঠবে? সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।

Related Posts