নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
শেখ শফিকুর রহমানঃ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন তারা তো বলে দেশে কোনো আওয়ামী লীগ নেই, তাহলে কিসের এতো ভয়। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে এতো ভয় পেয়েছে যে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত ২৩ জুন ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন।
জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ফরিদা ইয়াসমিন, বিশিষ্ট সাংবাদিক শাবান মাহমুদ।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ও মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সূচনা হয় নবান্ন পার্টি সেন্টারের বাইরে একগুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পূর্বেই বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে মিছিল সহকারে পার্টি সেন্টারে নেতাকর্মীদের আগমনের ফলে হলরুম পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে হলরুম।
এর আগে মিছিল নিয়ে হলের বাইরে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করেন তারা। মিছিলের সারি লম্বা হওয়ায় জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সময় জরুরি পুলিশের ভ্রাম্যমান গাড়ি এসে মিছিলকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে ফুটপাথে নিয়ে আসলে যান চলাচলের পথ খুলে যায়। মিছিল প্রদক্ষিণ করে নবান্ন সেন্টারে এসে সমাপ্ত হয়।
মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ সহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন শেষে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। তারপর কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা কারী মঈনুদ্দীন।
বড় আকারের ডিজিটাল ব্যানার লাগানো হয় এবং মঞ্চে কোনো বসার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রধান আকর্ষণ ছিল দলীয় সভাপতির ভার্চুয়াল বক্তৃতা। শেখ হাসিনা প্রবাসী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই দেশের অসহায় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
তিনি বলেন, ইউনুস লুটপাট করে টাকা উপার্জন করে বসে আছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করে দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি, হয়েছে শুধু ব্যক্তির পরিবর্তন। আগের মতই খুন নির্যাতন চলছে।
আজ দেশের গরিব জনগণ খেতে পারছে না। আমার সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা প্রদান করেছিলাম কিন্তু আজ সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।
সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি ডা মাসুদুল হাসান, নিউইর্য়ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শেখ শফিকুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজ, যুবলীগের সভাপতি সেবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়া প্রমুখ।
সবশেষে বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
