এবারের বিশ^কাপে দর্শকের রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদনঃ উত্তর আমেরিকায় চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে এখনো অর্ধেক ম্যাচ বাকি আছে। এরই মধ্যে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে এবারের আসর। দর্শক উপস্থিতিতে বিশ্বকাপের সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা মেক্সিকোতে চলমান এই টুর্নামেন্ট।

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যা ৩৬ লাখ হাজার ৩৫৭ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের প্রায় ৩৬ লাখ দর্শকের রেকর্ড। নিউজার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে জার্মানি ইকুয়েডরের ম্যাচ চলাকালে দ্বিতীয়ার্ধে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে নতুন এই রেকর্ড প্রদর্শন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিজুড়ে উচ্ছ্বাস আর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠেন দর্শকেরা।

রেকর্ডটি যে আরও বড় হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, ১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপে এখনো ৪৮ ম্যাচ বাকি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৫২টি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছিল। সে হিসেবে এবারের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির সংখ্যা শেষ পর্যন্ত প্রায় দ্বিগুণেও পৌঁছাতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে গড়ে স্টেডিয়ামের ৯৯ শতাংশেরও বেশি আসন পূর্ণ হয়েছে। যদিও টিকিটের উচ্চমূল্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক সমর্থক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পারেননি বলে মনে করেন কলেজ অব দ্য হোলি ক্রসের ক্রীড়া অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ভিক্টর ম্যাথেসন।

তাতে বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ডই তার বড় প্রমাণ। সানফ্রান্সিসকো ইউনিভার্সিটির ক্রীড়া অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ড্যান রাশার বলেন, ‘আমেরিকানরা বড় বড় মুহূর্তের অংশ হতে চায়। তারা এমন আয়োজনের সাক্ষী থাকতে চায়।

১৭৩ গোলে এখনই রেকর্ড, থামবে কোথায়!

কাতার বিশ্বকাপের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লো ২০২৬ বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র বনাম তুরস্কের ম্যাচেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্টন ট্রাস্টির করা গোলটি ছিল চলতি আসরের ১৭৩তম গোল। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৭২টি গোল দেখে ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৭, যেখানে তুরস্ক ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। মাত্র ৫৯তম ম্যাচেই এই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে গেল। যদিও বিষয়টি অনুমিতই ছিল। কাতার বিশ্বকাপে ১৭২ গোল হতে লাগে ৬৪টি ম্যাচ। এবার দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করায় মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। গোলবন্যার এই ধারা দেখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, 'কাতারের ১৭২ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া প্রমাণ করে, ২০২৬ বিশ্বকাপ কতটা রোমাঞ্চকর এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিচ্ছে, যা একে অবিস্মরণীয় করে তুলেছে।'

বিশেষজ্ঞরা এই গোলবন্যার পেছনে তিনটি মূল কারণ দেখছেন। প্রথমত, দল বাড়ায় দুর্বল রক্ষণভাগের বিপক্ষে বড় দলগুলো অনায়াসে গোল পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ইনজুরি টাইম নিখুঁতভাবে যোগ করায় ম্যাচগুলো ১০০ মিনিটের বেশি দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে শেষদিকে ক্লান্ত ডিফেন্ডারদের ভুলে গোল বাড়ছে। তৃতীয়ত, নতুন বলের বাতাসে তীব্র গতি বাঁকানো গতিপথের কারণে গোলকিপাররা দূরপাল্লার শট ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

টুর্নামেন্টে এখনো ৫০টি ম্যাচ বাকি থাকায় গোল সংখ্যা ২৮০ ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রুপের খেলা শেষ, দ্বিতীয় রাউন্ডে কে কার মুখোমুখি

বিশ্বকাপ২০২৬ এর গ্রুপ , বি, সি, ডি, এফএর তিন ম্যাচ করে শেষ হয়েছে। ছয় গ্রুপ থেকে কারা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাচ্ছে কারা বাদ পড়ছে তা অনেকটা নিশ্চিত। এদের মধ্যে কার খেলা কার সঙ্গে পড়ছে সেটি দেখে নেয়া যাক।

গ্রুপ থেকে মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা; গ্রুপবি থেকে সুইজারল্যান্ড, কানাডা; গ্রুপসি থেকে ব্রাজিল, মরোক্কো; গ্রুপ ডি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া; গ্রুপ থেকে জার্মানি, আইভরি কোস্ট গ্রুপ এফ থেকে নেদারল্যান্ডস জাপান দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।

আর গ্রুপগুলো থেকে তিন নম্বরে থাকা কয়েকটি দলের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শেষ হলে হিসাব নিকাশে তৃতীয়স্থানে থাকা সেরা আটটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে।

কে কার মুখোমুখি হচ্ছে

২৯ জুন গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা লড়বে গ্রুপ বিএর দ্বিতীয় দল কানাডার। একই দিন গ্রুপ সিএর চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল মুখোমুখি হবে গ্রুপ এফএর রানার্সআপ জাপানের।

৩০ জুন রাতে গ্রুপ এর সেরা দল জার্মানি মুখোমুখি হবে গ্রুপ , বি, সি, ডি এফ থেকে তৃতীয় হওয়া একটি দল। এক্ষেত্রে প্যারাগুয়ে সুইডেন তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে।

একই দিন গ্রুপ এফ সেরা নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে গ্রুপ সিএর রানার্সআপ মরোক্কোর। গ্রুপ এর দ্বিতীয় সেরা দল আইভরি কোস্ট নামবে আই গ্রুপের দ্বিতীয় দলের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে ফ্রান্স বা নরওয়ের একটি দল তাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে।

জুলাই গ্রুপ এর সেরা দল মেক্সিকো লড়বে গ্রুপ সি, , এফ, এইচ আই থেকে তৃতীয় হওয়া একটি দলের। জুলাই গ্রুপ ডি চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে গ্রুপ বি থেকে তৃতীয় হয়ে কোয়ালিফাই করা বসনিয়ার। জুলাই গ্রুপ বি থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সুইজারল্যান্ড লড়বে , এফ, জি, আই জে গ্রুপ থেকে তৃতীয় হওয়া যেকোনও একটি দলের।

গ্রুপ ডি থেকে দ্বিতীয় হওয়া অস্ট্রেলিয়া আগামী জুলাই মুখোমুখি হবে জি গ্রুপের দ্বিতীয় দলের। ক্ষেত্রে মিশর, ইরান বেলজিয়াম তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ।

Related Posts