আইপিএলঃ ৬০০ ছক্কার ক্লাবে বাটলার

স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ টিটোয়েন্টি ক্রিকেটে ছয় ছক্কার ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ইংল্যান্ডের জশ বাটলার। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৪তম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ছক্কা হাঁকিয়ে এই কৃর্তি গড়েন গুজরাট টাইটান্সের এই মারকুটে ব্যাটার। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ইনিংসের শেষ ছক্কা মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের বাইরে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই ক্লাবে নাম লেখান ইংলিশ তারকা ব্যাটসম্যান। টিটোয়েন্টিতে ৪৯৬ ম্যাচে বাটলারের ছক্কা এখন ছয় শটি। এতদিন টিটোয়েন্টি ৬০০ বা তার বেশি ছক্কার ক্লাবে রাজত্ব করেছেন ক্যারিবিয়ান চার ক্রিকেটারক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল নিকোলাস পুরান। গেইল ৪৬৩ ম্যাচে ১০৫৬টি, পোলার্ড ৭৩৫ ম্যাচে ৯৮২টি, রাসেল ৫৯০ ম্যাচে ৭৮৪টি পুরান ৪৪৪ ম্যাচে ৭১২টি ছক্কা মারেন। 

আইপিএলে আরও একটি নজির বৈভবের

গুয়াহাটিতে আবার বৈভব সূর্যবংশী শো। আগের দিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত ইনিংসে দলের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩৯ রানে ফিরতে হয়। আউট হওয়ার পর হতাশা চোখে মুখে স্পষ্ট ছিল। এদিন আর তার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। আইপিএলে আরও একটি দুর্ধর্ষ ইনিংস উপহার ১৫ বছরের বিষ্ময় বালকের। রয়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ২০২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেন বৈভব। ঝড়ের গতিতে ব্যাটিং। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান। বর্ষাপারা স্টেডিয়ামে ছয়, চারের বন্যা। আরসিবির কোনও বোলারকে রেয়াত করেননি। যেভাবে ব্যাট করছিলেন, মনে হচ্ছিল অনায়াসেই শতরানে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু বড় শট খেলতে গিয়ে ক্রুনাল পাণ্ডিযার বলে বাউন্ডারির কাছে বিরাট কোহলির হাতে ধরা পড়েন।

মাত্র ২৬ বলে ৭৮ রান করে আউট হন। মারকুটে ইনিংসে ছিল ৭টি ছয়, ৮টি চার। স্ট্রাইক রেট ৩০০। ভারতকে অনূর্ধ্ব১৯ বিশ্বকাপ জেতানোর পর আইপিএলের শুরু থেকেই দুর্ধর্ষ ফর্মে বৈভব। চার ম্যাচে তিনটে অর্ধশতরান। এদিন যেভাবে ব্যাট করছিলেন সূর্যবংশী, মনে হয়েছিল অনায়াসেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে রাজস্থান। কিন্তু আরসিবিকে দলে ফেরান ক্রুনাল। এক ওভারে ফেরান বৈভব সূর্যবংশী এবং শিমরন হেটমেয়ারকে। শুক্রবার প্রথমে ব্যাট করে উইকেটে ২০১ রান তোলে বেঙ্গালুরু। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ১৬ বলে ৩২ রান করে আউট হন বিরাট কোহলি। প্রথম বলেই ফেরেন ফিল সল্ট। রান পাননি দেবদত্ত পাডিক্কল, ক্রুনাল পাণ্ডিয়া , জিতেশ শর্মা এবং টিম ডেভিড। একা লড়াই করেন রজত পতিদার। চারটি ছয় এবং চারের সাহায্যে ৪০ বলে ৬৩ রান করেন। দলকে লড়াইয়ে ফেরান দলনেতা। শেষদিক গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন রোমারিও শেফার্ড (২২) এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ার (২৯) রান তাড়া করতে নেমে ঝড়ের গতিতে শুরু করে রাজস্থান। বিশেষ করে বৈভব। এদিন ব্যর্থ যশস্বী জয়েসওয়াল। ১৩ রানে ফেরেন। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৮ রান যোগ করে সূর্যবংশী এবং ধ্রুব জুরেল জুটি। তারমধ্যে সিংহভাগ রান বৈভবের। চোট সারিয়ে ম্যাচে ফেরেন জস হ্যাজলউড। নেন জোড়া উইকেট। কিন্তু রাজস্থানকে ম্যাচে ফেরান ক্রুনাল। তুলে নেয় সূর্যবংশীর উইকেট। দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান। 

এবারের আইপিএল খোঁজ দিয়েছে ভারতের আগামী তারকার!

এবার আইপিএলে তরুণরাই দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন জন তরুণ খেলোয়াড়, যারা এই মরশুমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। আইপিএল ২০২৬ প্রতিটি ম্যাচেই কোনও না কোনও তরুণ খেলোয়াড় নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ১৫টি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে এবং অনেকেই নিজেদের দলের জন্য ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স করেছেন। যেখানে একদিকে কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না, সেখানে তরুণরাই দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন জন তরুণ খেলোয়াড়, যারা এই মরশুমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন।

প্রথমেই রয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের এই ১৫ বছরের ব্যাটার ইতিমধ্যেই সবার নজর কেড়েছেন। তিনটি ম্যাচে তিনটি ইনিংসে তিনি গড়ে ৪০.৬৭ এবং স্ট্রাইক রেটে ২৪৮.৯৮ রেখে ১২২ রান করেছেন। এই সময়ে তিনি ১০টি চার ১১টি ছক্কা মেরেছেন। মরশুম শুরুর আগেই তিনি ক্রিস গেইলএর ১৭৫ রানের রেকর্ড ভাঙার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। দ্বিতীয় নাম সমীর রিজভি। দিল্লির এই ২২ বছরের ব্যাটার তিনটি ম্যাচে তিনটি ইনিংসে ৮০ গড় ১৬১.৬১ স্ট্রাইক রেটে ১৬০ রান করেছেন। তার সর্বোচ্চ স্কোর ৯০। এই সময়ে তিনি ১২টি চার ১১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, যা তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রমাণ।

Related Posts