মেয়র মামদানির ১০০ দিন

বাঙালী প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্ক সিটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ইমিগ্রান্ট সংকট সত্ত্বেও অনেক আশার ফুলঝুরি ঝরিয়ে, ব্যাপক প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে ১০০ দিন আগে জানুয়ারি মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জোহরান মামদানি। সবকিছু জেনেও যে চ্যালেঞ্জ ছিল, তার কতটা তিনি জয় করতে পেরেছেন তার হিসাব নিকাশ চলছে। নিউইয়র্ক সিটির  হোমটাউন সংবাদপত্র ডেইলি নিউজ বলছে, ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট মেয়র যে নতুন যুগের সূচনার প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন, তার অনেকটাই হুমকির মুখে পড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে। ফিসকেল সংকট নিরসনে তাকে অনেক বেশি ভাবতে হচ্ছে। ফলে ১০০ দিন পর তার প্রতি জনসমর্থনের হার মোটেও আশাপ্রদ নয় অন্তত তার পূর্ববতীর্ দুই মেয়র বিল ডি ব্লাডিও এবং এরিক এডামসের তুলনায়। ইমারসন কলেজের জরিপ অনুযায়ী তার প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪২%

তবে একটি বিষয়ে তিনি বিপুল সাফল্য অর্জন করেছেন। নির্বাচনের আগে এবং পরপরই যখন আমেরিকার ইমিগ্রান্ট অধ্যুষিত স্যাংচুয়ারি সিটিগুলোতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবৈধ ইমিগ্রান্ট ধরার নামে আইস সহ গার্ড রেজিমেন্ট পাঠিয়ে আতংকের সৃষ্টি করছিলেন, তখন সবচেয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর কথা নিউইয়র্ক সিটিতে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের আগেই হোয়াইট হাউজে গিয়ে মামদানি প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে নরম করে ফেলেন। ফলে নিউইয়র্ক সিটির উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেয়রকে সহায়তা করবেন বলে জানান। শপথ গ্রহণের পর ফেব্রুয়ারিতে আবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে মেয়র প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কুইন্সের সানিসাইডে এফোর্ডেবল হাউজিং প্রজেক্টের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস আদায় করে নেন।

মেয়র মামদানিকে গত ১০০ দিনে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত মনে হয়েছে তার . বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি নিয়ে। তবে গভর্নর ক্যাথি হকুল সহ স্টেটের সিনেটর এসেম্বলি সদস্যরা তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে তার ফ্রি চাইল্ড কেয়ার বিনামূল্যে বাসে চলাচলের নির্বাচনী শর্ত পূরণের ঘোষণা দেন ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই। আগের দুই মেয়রের চেয়ে গভর্নরের সাথে মেয়র মামদানির সম্পর্ক অনেক হৃদ্যতাপূর্ণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় সমৃদ্ধ। সে কারণে মেয়র বারবার অলবেনি ছুটে যাচ্ছেন এবং আশার বাণী নিয়ে ফিরে আসছেন। তবে ধনীদের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ বা প্রোপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধির মত প্রস্তাব নাকচ করে দেন বা এড়িয়ে গেছেন গভর্নর।

নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ নিয়ে মেয়র মামদানির যে এজেন্ডা ছিল তাও বাস্তবায়ন কঠিন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। তিনি মেয়র এরিক এডামসের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে বহাল রাখায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি এটা আশার কথা হলেও পুলিশের কতিপয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে কমিশনারের সাথে মতদ্বৈততায় পড়তে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।

মেয়র যেসব নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তাহলো কেবলমাত্র সিটি হলে আবদ্ধ না থেকে বরোর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন। তিনি ইমিগ্রান্ট কম্যুনিটির সাথে সুসম্পর্ক ধরে রাখছেন। এবং বাংলাদেশী কম্যুনিটির সাথেও তার সম্পর্ক ভাল রেখেছন। কারণ তার নির্বাচনে বাংলাদেশী ইমিগ্রান্টরা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন।

একজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত মুসলিম মেয়র হিসাবে তিনি যেসব সংকটে পড়বেন বলে আশংকা করা হয়েছিল গত ১০০ দিনে তেমন কোনো জোরালো সংকট দেখা যায়নি।

Related Posts